২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নারায়ণগঞ্জে ২৮ দিনে চৌদ্দ খুন ॥ আতঙ্ক


নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ১৪ মে ॥ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় গত ২৮ দিনের ব্যবধানে ১৪টি হত্যাকা- ঘটেছে। এ সব হত্যাকা-ের ঘাতকরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত নারায়ণগঞ্জের ৫ উপজেলায় গত ২৮ দিনের ব্যবধানে ১৪ হত্যাকা- সংঘটিত হয়েছে। এদের মধ্যে চাচাত ভাইয়ের হাতে স্কুলছাত্র, সতীনের হাতে সতীন, সন্ত্রাসীর হাতে সন্ত্রাসী, স্বামীর হাতে স্ত্রী ও ভাতিজাকে বাঁচাতে গিয়ে চাচা খুন হন। এসব হত্যাক-ের মামলার অধিকাংশ আসামিই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে।

সর্বশেষ গত ১৩ মে সোনারগাঁয়ের মেঘনা নদীর বালুর ঘাট এলাকা থেকে গোলজার হোসেন (২৫) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবার জানায়, গোলজারকে প্রতিপক্ষরা হত্যা করে হাত-পা বেঁধে মেঘনা নদীতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় পুলিশ আমজাদ হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করে। গত ১২ মে রাতে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে অপহৃত স্কুলছাত্র মাকসুদুল ইসলাম তুহিনের (৭) লাশ ৪ দিন পর চাচাত ভাইয়ের ঘর থেকে প্লাষ্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ চাচাতভাই মাহফুজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে।

গত ১১ মে ফতুল্লার পঞ্চবটি দক্ষিণ ধর্মগঞ্জ এলাকায় রিক্সাচালককে গলা কেটে হত্যা করে রিক্সা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত রবিউল ইসলামকে (৩০) আটক করে স্থানীয়রা পুলিশে সোপর্দ করে। ৭ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের বাবুররাইল তাঁতিপাড়া এলাকায় স্বামীর পরিকল্পনায় বড় সতীন আকলিমা আক্তার ধারালো ছোরা দিয়ে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ছোট সতীন লুৎফা বেগমকে (২৮)। এ ঘটনায় পুলিশ আকলিমা আক্তারকে গ্রেফতার করে। ৪ মে বেলা ১১টায় শহরের তামাক পট্টি এলাকায় আসাদুজ্জামান সুজন ওরফে এতিম (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসীকে বাসা থেকে ডেকে এনে প্রকাশ্য জনসম্মুখে পিটিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। গত ৯ মে সিদ্ধিরগঞ্জে জালকুড়ি থেকে অজ্ঞাত (২৮) এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৩ মে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যের বাজার খামারগাঁও এলাকায় সানাউল্লাহর স্ত্রী সেলিনা বেগমের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পালিয়ে যায় স্বামী সানাউল্লাহ। একইদিন সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর বেহাকৈর এলাকা থেকে অজ্ঞাত (৩০) এক যুবতীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১ মে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইলো গেট এলাকায় ভাতিজা রূপচাঁন মিয়াকে বঁচাতে গিয়ে খুন হন চাচা ফজল মিয়া (৭৫)। ২ মে সকালে ফতুল্লায় চাঁদমারী মাউড়া পট্টি এলাকায় ৬ বছরের শিশুপুত্রের সামনে স্ত্রী জোসনা বেগমকে (২৬) শ্বাসরোধ করে হত্যা করে স্বামী মানিক মিয়া (৩৫)। ২৬ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে ক্যারাম খেলার দ্বন্দ্বে আকাশ (২০) নামে এক যুবককে হত্যা করা হয়। ১৫ এপ্রিল দুপুরে রূপগঞ্জের দক্ষিণ রূপসী এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে এক যুবকের হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৪ এপ্রিল রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম পয়েন্ট থেকে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ৯ এপ্রিল দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল বাগপাড়া এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে মাথাবিহীন অজ্ঞাত (২০) এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসআই জসিম জানায়, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এভাবে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ খুনেরই আসামিরা এখনও গ্রেফতার হয়নি।