১৮ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কবিতা


কেন এমনটা মনে হয়

মতিন বৈরাগী

সবকিছ ু ঠিকঠাক অছে! সবকিছু

বাইরে রোদ কার্নিশে কার্নিশে বৃষ্টি পাতার প্রান্তে শিশির

দুপুর রাতে ঝাপটা হাওয়া, গাছগুলো কাঁপে-

আর কোথাও একটা শব্দ মনে হয়

ইতিহাসের কুঠুরিতে কেউ অপচিকিৎসা করছে

সবইতো ঠিক

তবু একটা ছায়া কালো মুসার আমলের দুর্যোগ?

যেন দরজায় কড়া নাড়বে কখনো

যেন গলি ঘুপচি থেকে বেরিয়ে আসবে ক্যামুর ইঁদুর

আর রক্তবমি থক থক

সবইতো ঠিক, হ্যাঁ সব

একটা ভয় কেবল কতগুলো বেড হাসপাতালের

কতগুলো চোখ স্থির লাশকাটা ঘর কেউ কাঁদছে ফুঁপিয়ে

কেন এমনটা মনে হয়?

২৪.০৪.১৫.

চাকা জীবন

প্রবীর চন্দ

জানি না তোমার দেওয়া ঘড়িটা

খুঁজে পাবো কিনা আর কোনদিন-

সময়টা কেন জানি ভেঙ্গে ভেঙ্গে এমনিভাবে

খেয়ে নিচ্ছে আমাকে তিল তিল প্রতিদিন প্রতিক্ষণ।

ডিমের ভেতর হলুদ কুসুম রৌদ্রকণা

চারদিকে শুধু জল আর জল

তাপে-অনুতাপে কী করে ফুটে ওঠায় পাখি প্রিয়তম ছানা

আকাশ কল্পনা, যাকে বড় করে তোলে অনুক্ষণ;

অথচ কিছুই বুঝি না আমি, বিবর্তনের এ রসায়ন

কাকে বলে, কী করে হয়?

তবু, ঘাস-ফুলে শুয়ে আছি শিশুর মতোন

খরগোশ ঘুমে কেটে যায় দিন...

ঘড়িটা আর পাবো না কোনদিন কোনখানে তোমার

এ কথা জেনেও, দেহঘড়ি সাজিয়ে রেখেছি আপাদমস্তক

দেখি, কতদিন ঠিকমতো চলে ঘড়িময় এ চাকা জীবন।

কবিতা যাপন

সিকদার আমিনুল হক স্মরণে

ফারুক মাহমুদ

ভেসে থাকতে কবিতার সতত ডানায়

মানুষ কতটা পারে! কত দূর নেওয়া যায় ইট কাঠ বালির হিসাব

কত ধানে কত চাল-এইসব, কোন স্তুতি, কী কী পাওয়া যায়

পুরনো কাসুন্দি-ঘেরা, প্রলোভনে বিপন্ন স্বভাব

কবিতানির্ভর ছিল তোমার জীবন

কতইনা ভাবতে, যদি শব্দ দিয়ে তৈরি করা যায়

একটি ছোট্ট ঘর

কতইনা ভাবতে, যদি ছন্দ দিয়ে তৈরি করা যায়

একটি শুদ্ধ স্বর

কতটা পেরেছ? নাকি বই খাতা ভরে আছে শত শূন্যতায়

জেনে যাবে, পেলে না তো কোনো অবসর

মেরুদণ্ড বেঁকে গেলে লেখা মরে যায়

তোমার কবিতাগুলো (শক্ত দাঁড়া) অসত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়

না উঠুক রোদ

মহিবুর রহমান মিহির

রোদ না উঠুক, কলকাকলি না হোক প্রত্যুষ-পাখির

একদা পৃথিবীজুড়ে শুধু ভোর হোক

ঘাসের ডগায় থাক ঘুমন্ত শিশুর মতো

ঝিরি ঝিরি রুপা দানা শিরীষ শিশির

আর আমি রোদমাখা অনার্য শরীরে

কাকভোর থেকে বসে আছি প্রহরায়

গার্হস্থ রমণী কেউ হেঁটে যাবে ধীরে

সলজ্জ শিশিরগুলি রুপা নয়, সোনা নয়

নক্ষত্রের থেকে বৃষ্টি হয়ে ঝরে হীরে কুচি

ছড়ায়ে ছিটায়ে পথে মন্থর গামিনী

গার্হস্থ্য নারীর সরু দু’টি পায়ে চুমু খাবে অবিরত

যেনো কতোকাল পরে করমচার মতো

প্রেয়সীর ঠোঁট পেলো তৃষিত প্রেমিক।