২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বাকস্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন রাইফ


সৌদি আরবে কারাবন্দি ব্লগার, লেখক রাইফ বাদাউয়ি পেয়েছেন জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের প্রথম বাকস্বাধীনতা বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরস্কার। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দেয়া ‘দ্য বব্স’ (বেস্ট অব অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট) প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে এ পুরস্কারটি দিচ্ছে জার্মানির এ আন্তর্জাতিক সম্প্রচার কেন্দ্র ‘ডিডাব্লিউ– ফ্রিডম অফ স্পিচ’ বা ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ এ্যাওয়ার্ডের বিজয়ী নির্ধারণ করেন ডয়েচে ভেলের পরিচালকক-লী। প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক পেটার লিমবুর্গ এই বিষয়ে বলেন, ‘ডয়েচে ভেলের পরিচালক-লীর সকলেই রাইফ বাদাউয়ির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।’

প্রাপক হিসেবে রাইফ বাদাউয়িকে বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘বাদাউয়ি মানবাধিকার ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকারের পক্ষে অত্যন্ত সাহসী, আপোসহীন অবস্থান নিয়েছেন। তাঁকে পুরস্কৃত করার আমাদের এই সিদ্ধান্ত এক জোরালো অবস্থান তৈরি করবে এবং তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বিশ্বে আরও সচেতনতা সৃষ্টি হবে। আমাদের আশা, এর মাধ্যমে বাদাউয়িকে মুক্তি দিতে সৌদি আরবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ওপর চাপ আরও বাড়বে।’

২০১৪ সালের মে মাসে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাদাউয়িকে এক হাজার বেত্রাঘাত, দশ বছরের কারাদ- এবং বড় আর্থিক জরিমানা করে। গত জানুয়ারি তাঁকে পঞ্চাশ ঘা বেত্রাঘাতও করা হয়।

বাদাউয়ির স্ত্রী ইনসাফ হায়দার, ক্যানাডা থেকে ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘আমি রোমাঞ্চিত। ডয়চে ভেলের বাকস্বাধীনতা এ্যাওয়ার্ড সৌদি শাসকদের প্রতি একটি পরিষ্কার বার্তা দিচ্ছে। এটা অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার যে, রাইফ এখনো কারাগারে আটকে আছেন– বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন সৌদি আরব ‘ইসলামিক স্টেট’ (আইএস)-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এটা মানবাধিকারের প্রতি অসম্মানজনক। ডয়েচে ভেলের প্রতি তার সমর্থনের জন্য আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’

আগামী ২৩ জুন জার্মানির বন শহরে অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার প্রদান করা হবে।

বেশ কয়েক বছর ধরে নিজের দেশে বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন রাইফ বাদাউয়ি। তাঁর ওয়েবসাইট ‘ফ্রি সৌদি লিবারালস’-এ মূলত সৌদি আরবের রাজনৈতিক এবং সামাজিক দুর্দশার কথা তুলে ধরা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, একটি তীব্র ব্যঙ্গপূর্ণ পোস্টের কথা যেখানে বাদাউয়ি ধর্মীয় পুলিশ নিয়ে লিখেছেন এবং তাঁর দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সন্ত্রাসীদের ডেরা আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস নিয়েও লিখেছেন তিনি। সৌদি আরবে এই দিবস পালন নিষিদ্ধ। ২০১২ সালের জুনে তাঁকে গ্রেফতার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। বাদাউয়ির বিরুদ্ধে ইসলাম, ধর্মীয় নেতা এবং রাজনীতিবিদদের অপমানের অভিযোগ আনা হয়। বাদাউয়ির স্ত্রী ইনসাফ হায়দার ২০১৩ সালে তাঁদের তিন সন্তানসহ সৌদি আরব ত্যাগ করেন এবং কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন।