২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

‘ম্যাড ম্যাক্স’ নিয়ে টম হার্ডি


হলিউড সাম্রাজ্য হলো এমন এক বিস্ময়কর জগত যার ফিল্মখ্যাতি সাড়া পৃথিবীতে অদ্বিতীয়। হলিউড জগত সেই ফিল্মকারখানা যেখানে তৈরি হয় একের পর এক বাস্তব-অবাস্তব, কল্পনা-ভৌতিক, রোমাঞ্চ-এ্যাকশন আর থ্রিলার-কমেডির অসাধারণ কাহিনীনির্ভর দুনিয়া কাঁপানো সব চলচ্চিত্র। এই হলিউড ফিল্ম তৈরির পেছনে রয়েছে বিশ্বখ্যাত সব ফিল্মমেকারদের চমৎকার শৈল্পিক উপস্থাপনা, অপূর্ব সিনেমাটোগ্রাফি, হৃদয়গ্রাহ্য সংলাপ আর ডিজিটাল মিউজিক আর অবশ্যই হলিউড সুপারস্টার নায়ক-নায়িকাদের অসামান্য অভিনয় যা হলিউড ফিল্মভক্তদের সহজেই আকর্ষণ করে প্রবলভাবে। এমনিতেই যে কোন হলিউড ফিল্ম নিয়ে বরাবরই আগ্রহের শেষ থাকে না বিশ্বের অগণিত মুভিলাভারস তরুণ-তরুণী আর ছোটবড় সকলের। হলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি-যেখানে সর্বদা অপেক্ষা করে চমকের পর চমক! আর সেই অজানা চমক উপভোগ করার জন্য বিশ্বব্যাপী হলিউড ফিল্মভক্তরা প্রতীক্ষার প্রহর গুনতে থাকে দিনের পর দিন।

সুপারস্টার ও সুদর্শন মেল গিবসন অভিনীত ১৯৭৯ সালে প্রথম দুনিয়াব্যাপী ’ম্যাড ম্যাক্স’ এর বড় পর্দায় ব্যাপক সাফল্যের পর পরিচালক, প্রযোজক ও লেখক জর্জ মিলার সিক্যুয়াল নির্মাণের ঘোষণা দেন। তারপর তারকা মেল গিবসনকে সঙ্গে করে ম্যাড ম্যাক্সের পর পর দুইটি সিক্যুয়াল নির্মাণ করেন পরিচালক মিলার। এই অসাধারণ এ্যাকশনধর্মী মুভিটি একের পর এক বক্স অফিসে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় এবং বক্স অফিস রেকর্ডে সর্বকালের সবচেয়ে মুনাফা অর্জনকারী ফিল্ম হিসেবে নাম লেখায়। ১৯৭৯ সালে মেল গিবসন অভিনীত ম্যাড ম্যাক্সের সিক্যুয়াল ‘ম্যাড ম্যাক্স-২’ নির্মিত হয় ১৯৮১ সালে। এরপর ১৯৮৫ সালে মিলার এই ফিল্মের ৩য় সিক্যুয়াল ‘ম্যাড ম্যাক্স বিয়নড থান্ডারডোম’ দর্শকদের উপহার দেন। আর এই ফিল্মেও বরাবরের মতো কেন্দ্রীয় চরিত্রে রূপদান করেন সুপুরুষ মেল গিবসন। তৃতীয় ছবি নির্মাণের প্রায় ৩০ বছর পর পরিচালক জর্জ মিলার তার চতুথ সিক্যুয়াল ম্যাড ম্যাক্স দ্রুত বড় পর্দায় নিয়ে আসছেন। তবে এবার মেল গিবসনের পরিবর্তে পরিচালক মিলার আরেক জনপ্রিয় স্টার টম হার্ডিকে কাস্ট করেছেন নতুন এই সিক্যুয়ালে। সম্ভবতই এটি মেল গিবসন ভক্তদের জন্য দুঃখের বিষয়! দিনক্ষণ ঠিক থাকলে দর্শকশ্রোতাদের এই অপেক্ষার পালা শেষ হবে ১৫ মে, ২০১৫ সালে। তবে একদিন আগেই অর্থাৎ ১৪ মে ৬৮তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে ভক্তরা ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার শো দেখে নিতে পারবেন। অর্থাৎ ২০১৫ সালের ১৩ এপ্রিলে এই ফিল্মের প্রিমিয়ার শো দেখতে পারবে। ১২০ মিনিটের রহস্য উদ্ঘাটন ঘরনার এ্যাকশন ফিল্ম ম্যাড ম্যাক্সের ভয়ঙ্কর রোড সিক্যুয়াল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৫০ মার্কিন ডলার। অত্যন্ত কম বাজেটের এই ছবির নির্মাণ কাজ ২৫ বছর ধরে ব্যাহত ছিল মূলত এর আর্থিক দুরবস্থার কারণে। তারপর আবার ইরাক যুদ্ধ ইস্যুর কারণে এই ফিল্মটি তৈরিতে টালবাহানা শুরু হলে স্টার মেল গিবসন অভিনয় করতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। যদিও ২০০৬ এর নবেম্বর মাসে পরিচালক মিলার ‘ম্যাড ম্যাক্স-৪’ নির্মাণ করতে প্রস্তুতি নেন মেল গিবসনকে ছাড়াই। ওয়ানার ব্রস পিকচারসের ব্যানারে ম্যাড ম্যাক্স-৪ এর কেন্দ্রীয় চরিত্র ম্যাক্সের ভূমিকায় অভিনয় করছেন ইংরেজ সুদর্শন অভিনেতা টম হার্ডি। আর সঙ্গে রয়েছেন আফ্রিকান-আমেরিকান প্রযোজক, মডেল, সুন্দরী অভিনেত্রী চারলিজ থ্রেরন। আলোচিত এই মুভিতে আর অভিনয় করেছেন নিকোলাস হল্ট, রসি হান্টিংটন, হুগ কেয়াস ব্রায়নে, রিলে কেউফ, জো ক্রাভতিয, য়্যাবে লি ও কুরটনি ইটন। এই ফিল্মের প্রায় ৯০% ইফেক্টই ব্যবহারিক বলে দাবি করেন পরিচালক মিলার। তিনি এই মুভি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যে’, একটি খুব সহজ রূপক, চাকার মতো ঘুরনায়মান একটি পশ্চিমী ভাবাদর্শে।’ এই ফিল্মের মূল সিনেমাটোগ্রাফি জুলাই ২০১২ সালে নামিবিয়ায় শুরু করা হয়। সেই সময় সিনামাটোগ্রাফার জন সেলই এই ফিল্মের বিভিন্ন চিত্রধারণের জন্য ৬টি এ্যারি আলেক্সা ক্যামেরা ব্যবহার করেন। যদিও বিভিন্ন দুর্ধর্ষ এ্যাকশন দৃশ্য ধারণ করতে তিনি আর অনেক ক্যানন ইওএস ৫ডিএস ব্যবহার করেন বিভিন্ন সহকর্মীর সহায়তায়।

চার্লিজ থেরন অর্থাৎ ফিউরিসা নামের সাহসী নারী বিশাল দুর্গম মরুভূমি পাড়ি দিতে লক্ষ্য স্থির করে। সাবেক হাইওয়ে পেট্রোল পুলিশ হার্ডির সঙ্গে ফিউরিসার দেখা হওয়ার পর তারা একত্রে মানব মুক্তির পথ উন্মোচনে যাত্রা শুরু করে। রক্তপিপাসু ও খল চরিত্রের জো অর্থাৎ হুগ কেয়াস ব্রায়ানে আর তার গ্যাং ফিউরিসার পাঁচজন নারীকে বন্দী করে অত্যাচার করে। অত্যাচারী জো আর তার গ্যাং সকল বন্দীদের নিয়ে মরুভূমির দুর্গম পথ পাড়ি দিতে চায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য। একসময় অত্যাচারী জোর হাতে বন্দী হয় ম্যাক্সরুপি হার্ডি ও সুন্দরী ফিউরিসা। ম্যাক্সের তখন একমাত্র লক্ষ্য থাকে নিজে মুক্ত হয়ে জোর বন্দীদশা থেকে ফিউরিসা আর নারী বন্দীদের রক্ষা করা। মানব জাতির অস্তিত্ব রক্ষায় ম্যাক্স শেষ পর্যন্ত সফল হবে কি? সেটা দেখতে হলে আপনাকে অপেক্ষা করতেই হচ্ছে সিনেমাটি রিলিজ হওয়া পর্যন্ত।

পান্থ আফজাল