১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বরিশালে কু ঝিক ঝিক...


ছড়ায় আছে, ‘রেলগাড়ি ঝমাঝম, পা পিছলে আলুর দম।’ রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে ছুটে চলেছে রেল- সে সব মেলে কবির কাব্যে। ব্রিটিশরা ভূ-ভারতে পণ্য ও যাত্রী পরিবহনের সুবিধার্থে সেই উনিশ শতকের শেষে বঙ্গদেশে প্রথম রেল চালু করে। তার ক’বছর পর মুম্বাইসহ অন্যত্র রেল সার্ভিস চালু হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটে ভারতবর্ষজুড়ে। ক্রমশ সারাভারত রেলের আওতায় চলে এলেও বহু এলাকা বিশেষত নদীমাতৃক অঞ্চলগুলো এর আওতার বাইরে থাকে। রেল লাইন বহে সমান্তরাল বলে প্রচলিত গান শুনে ‘ধান, নদী, খাল এই তিনে বরিশাল’ অঞ্চলবাসী মুগ্ধ হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাবে এবার। বরিশালের সঙ্গে রেলযোগাযোগ স্থাপন করার কথা অদ্যাবধি কারও ভাবনায় সেভাবে আসেনি তেমনভাবে। প্রথম উদ্যোগটা নেয়া হয়েছিল স্বাধীনতার পর পরই। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিপরিষদের কৃষিমন্ত্রী, আবদুর রব সেরনিয়াবাত বরিশালের সন্তান হিসেবে সেখানে রেল চালুর পদক্ষেপ নিতে গিয়ে রেল লাইনের জন্য জমিও অধিগ্রহণ করেন। বরিশাল থেকে ফরিদপুর পর্যন্ত এই লাইন স্থাপনের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের পর রেল লাইন নির্মাণের উদ্যোগ আর আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তীকালে বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ, বরিশাল বিভাগ স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে বরিশালের সঙ্গে রাজধানীর রেলসংযোগ স্থাপনের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করা হলেও সামরিক জান্তা শাসক ও পরবর্তীকালে তাদের অনুসারীরা ক্ষমতায় বসে এ ব্যাপােের সামান্য উদ্যোগও নেয়নি।

বর্তমান সরকার বিশেষত সরকারপ্রধান শেখ হাসিনার আগ্রহে অবশেষে বরিশাল-ফরিদপুর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। ২০১৯ সালের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ কাজ শেষ হবে। চলতি বছরের মধ্যে পরিকল্পনা ও জরিপ কাজ শেষ হবে। ২০২০ সালের মধ্যে রেল চলাচল শুরু হবে। বরিশাল থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত এই লাইনটির দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ক’দিন আগে রেল কর্তৃপক্ষ চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশনের সঙ্গে একটা সমঝোতা স্মারক সই করেছে। তারা এই রুটে রেললাইন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। সরকার থেকে জি টু জি অর্থায়নের ভিত্তিতে চীনের এই প্রতিষ্ঠানটি কাজ সম্পন্ন করবে।

এই পরিকল্পনা অনুযায়ী চার বছরের মধ্যে রেলপথ নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে। এই লাইন চালু হলে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। এবার নদীঘেরা বরিশালবাসী ভেঁপুতে বেহাগ শোনার পাশাপাশি শুনবে ট্রেনের কু ঝিক ঝিক শব্দ।