১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

পাকিস্তানের বিভীষিকার সফর


পাকিস্তানের দিক থেকে বিচার করলে এ ছাড়া তাদের কি-ই বা করার ছিল! একদিকে বিশ্বকাপ শেষে ওয়ানডে থেকে বিদায় নিয়েছেন দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মিসবাহ-উল হক ও শহিদ আফ্রিদি। আচরণগত সমস্যায় ছিলেন না আহমেদ শেহজাদ-উমর আকমলের মতো পারফর্মার। নবীন আজহার আলিকে অধিনায়ক করাটাও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। তাই বলে বাংলাদেশের কাছে তিন ওয়ানডে সিরিজে ‘লজ্জাজনক হোয়াইটওয়াশের’ বিষয়টা হয়ত অনেকেই ভাবেন নি। এরপর হার একমাত্র টি২০তেও। খুলনা টেস্টে হারসম ড্রর পর ঢাকায় শেষ ম্যাচ জিতে কোন রকম মান রক্ষা। ১-০তে টেস্ট সিরিজ বাঁচলেও সার্বিকভাবে বাংলাদেশ সফরটা পাকিস্তানের জন্য বিভীষিকা হয়েই থাকবে!

কোচ ওয়াকার ইউনুসের চাকরি নিয়ে টানাটানি, নির্বাচক প্যানেলসহ বোর্ড (পিসিবি) কর্তাদের একহাত ওয়াসিম আকরাম-ইমরান খানের মতো সাবেক গ্রেটদের। এতকিছুর মাঝে দলটির প্রাপ্তি পুরো সফরজুড়ে ওয়ানডে অধিনায়ক আজহারের দুরন্ত ব্যাটিং, টেস্টে ইউনুস খানদের জ্বলে ওঠা। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বল হাতেও অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজের ফেরা। আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরে এসবই টিম পাকিস্তানকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। ১১ জুন থেকে প্রায় দুই মাসের সফরে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৩ টেস্ট, ৫ ওয়ানডে ও ২ ম্যাচের টি২০ খেলবে প্রতিবেশী পাকিরা। ঢাকায় তিন ওয়ানডেতে যথাক্রমে ৭৯ রান, ৭ ও ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে পাকিস্তান।

একমাত্র টি২০তে শহীদ আফ্রিদির দল ধরাশায়ী হয় ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। খুলনায় প্রথম টেস্টে দারুণ শুরুর পরও ড্র মেনে নিতে বাধ্য হয় মিসবাহ বাহিনী। তবে ঢাকায় শেষ টেস্টে ৩২৮ রানের বড় জয়ে সান্ত¡নার সিরিজ পকেটে পোড়ে তারা। ওয়ানডে সিরিজে ১ সেঞ্চুরি ও ১ হাফ সেঞ্চুরির সাহায্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০৯ রান (পাকিস্তানে পক্ষে সর্বোচ্চ) করেন আজহার। সমান সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরির সমন্বয়ে টেস্ট সিরিজের সর্বোচ্চ ৩৩৪ রান তারই। সব মিলিয়ে শেষ টেস্ট জয়ের পাশাপাশি আজহারের ব্যাটিং পাকিস্তানের বড় পাওয়া। তবে বাংলাদেশ-ধাক্কায় টালমাটাল পাকিস্তান কোচ ওয়াকার বুঝি এবার চাকরিটাই হারাতে যাচ্ছেন!

সর্বোপরি পাাকিস্তানের জিও টিভির খবর, কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হতে যাচ্ছেন সাবেক ‘স্পিড-স্টার’ ওয়াকার ইউনুস। চরম ভরাডুবিতে সমালোচনায় ফেটে পড়েছেন দেশটির সাবেক তারকারা। অনেকেই কোচসহ বোর্ডে পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। এতকিছুর পরও ওয়াকার নিচে অবশ্য অবিচল, ওয়ানডে-টি২০ হারে পরও তিনি বলেছিলেন, সরে যাওয়ার কোন ইচ্ছে নেই। কিন্তু পরিস্থি যা, তাতে হয়ত ‘অর্ধচন্দ্রই’ খেতে যাচ্ছেন! টিভি চ্যানেলটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদের দাবি, বিশ্বকাপ এবং বাংলাদেশের কাছে লজ্জাজনক হারে কোচের পদ থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে ওয়াকারকে। সুস্পষ্ট তথ্য না থাকলেও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক কর্তাকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, বোর্ডের একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এরই মধ্যে নাকি কোচকে সরিয়ে দিতে চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খানের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

চ্যানেলটি এটাও নিশ্চিত করেছে, তিন মাসের আগাম বেতন দিয়ে ওয়াকারকে বিদায় দেয়াটা নাকি সময়ের ব্যাপার! বোর্ডের সঙ্গে ওয়াকারের ২ বছরের চুক্তি ২০১৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তান দলের পরিচর্যায় আসেন সাবেক এই গ্রেট। বিশ্বকাপ ছিল তার বড় এ্যাসাইনমেন্ট। বহু কষ্টে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও দৌড় সেখানেই শেষ। এরপর বাংলাদেশ সফরে এসে টাইগারদের কাছে ৩ ওয়ানডেতে ও টি২০তে হার। খুলনায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ২৯৬ রানে এগিয়ে থেকেও জিততে পারেনি উপমহাদেশীয় ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান শক্তি পাকিরা। সব মিলিয়ে ঘরে-বাইরে বিপর্যস্ত পাকিস্তান। ওয়ানডে ভরাডুবিতে এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পিসিবি। পাশাপাশি আসন্ন জিম্বাবুইয়ে সফরে ওয়াকারকে বিশ্রামে রাখতে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও একই সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানানো হয়। ওই সফরে ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্ব পালন করবেন কোচ বাছাই কমিটির প্রধান কবির খান।

২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো ওয়াকার এর আগে ২০১১ বিশ্বকাপে কোচের দায়িত্ব পালন করেন। তখন সেমিতে জায়গা করে নিয়েছিল শহীদ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন পাকিরা। মাঝে অনেক নাটকীয় ঘটনা, ডেভ হোয়াটমোরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর গত বিশ্বকাপের আগে ফের ৪৩ বছর বয়সী ওয়াকারকে ফিরিয়ে আনা হয়। আমিরাতে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে আশাব্যঞ্জক পারফরমেন্স করে দল। বিশ্বকাপে শুরুটা বাজে হলেও শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে মিসবাহ-উল হকের দল। বাংলাদেশের কাছে ওয়ানডে-টি২০ ভরাডুবিই সব এলোমেলো করে দেয়। ক্ষোভে ফেটে পড়েন ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, জাভেদ মিয়াঁদাদের মতো সাবেকরা। অনেকেই ওয়াকারের পদত্যাগ চাইছেন।

ওয়ানডে-টি২০ হারের পরই অবশ্য সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ওয়াকার বলেন, ‘আমার ভাবনায় কখনোই কোচের পদ ছাড়ার কথা চিন্তা আসেনি। একটা কথা স্মরণ রাখতে হবে যে, এই পাকিস্তান একেবারে নতুন একটা দল। কয়েকজন সিনিয়রকে ছাড়া ওয়ানডে খেলতে হয়েছে। কেবল তাই নয়, অধিনায়কও নতুন। সুতরাং তাদের সময় দিতে হবে। তিন ম্যাচ বা এক সিরিজের ব্যর্থতায় মাথা না ঘামিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে। আমি সেটাই ভাবি, নিশ্চয়ই পিসিবিও তেমনটাই চাইছে, যাতে আমরা একটি ভাল দলে পরিণত হই।’ তবে বাস্তব চিত্র যা, তাতে ওয়াকার সেই সময়টুকু পাবেন কী না সন্দেহ! পরিস্থিতি যাই হোক, বিভীষিকাময় বাংলাদেশ সফর পাকিস্তানীরা অনেকদিনই ভুলতে পারবেন না। শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুইয়ে সফরে মাঠের ইতিবাচক পারফর্মেন্সই পারে উপমহাদেশের আকর্ষণীয় দলটির ভেতরে-বাইরে কিছুটা স্বস্তি এনে দিতে।