২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব সম্পর্কে চিড় ধরছে?


সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান প্রেসিডেন্ট ওবামার ডাকা একটি শীর্ষ বৈঠক বর্জন করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাতে দুই দেশের সম্পর্কে এক নতুন বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। কয়েক প্রজন্ম ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অভিন্ন লক্ষ্য ভাগ করে নেয়া দু’টি দেশের মৌলিক নীতিভঙ্গিতে এখন মতপার্থক্য প্রকাশ পাচ্ছে।

সোমবার দুই দেশই জোর দিয়েছে যে, বাদশাহর অনুপস্থিতি কোন অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণ নয়, যদিও দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জন্য দায়ী চারটি শক্তিশালী কারণকে উপেক্ষা করা কঠিন: ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য মার্কিন প্রশাসনের প্রয়াস, ওই অঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের উত্থান, আরব বসন্ত হিসেবে পরিচিত আঞ্চলিক অস্থিরতা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের রূপান্তর সাধনা বিশেষত আমেরিকায় তেলের বিপুল মজুদের সন্ধান লাভ রিয়াদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরশীলতাকে মুক্ত করেছে এবং কয়েক দশকব্যাপী শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন এনেছে। খবর নিইউয়র্ক টাইমসের।

তবে, এ সপ্তাই হোয়াইট হাউস ও ক্যাম্প ডেভিডে উপসাগরীয় নেতৃবৃন্দের বৈঠক এসব বিভাজন দূর করতে যতটা সাহায্য করতে পারত, সেখানে একটি সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেছে। দুই দেশ যদি ওই অঞ্চলে তাদের অভীষ্ট নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্যে ভিন্ন পথে যাত্রা করে তবে ভবিষ্যত আরও জটিল হয়ে উঠেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং উপসাগরীয় অঞ্চল বিষয়ক হোয়াইট হাউসের সমন্বয়কারী হিসেবে এক মাস আগে পদত্যাগকারী ফিলিপ গর্ডন বলেন, ‘মতপার্থক্য থাকার কোন প্রশ্নই ওঠে না। কোন একটা সময়ে হয়ত এটা সত্য ছিল।’ ‘সম্পর্ক কোন ভাবাবেগের বিষয় নয়। আমাদের প্রত্যেকেরই স্বার্থ রয়েছে এবং আমরা যদি দেখাতে পারি যে, তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বর্থের প্রশ্নে আমরা তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী, তবে তারা প্রমাণ করবেÑ তারাও আমাদের সঙ্গে অনুরূপ আচরণে আগ্রহী।’

তবে, প্রশ্ন হলো প্রত্যেক দেশ আগ্রহী কিনা। ৭০ বছর আগে প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকলিন ডি. রুজভেল্ট যখন বাদশাহ আবদুল আজিজের সঙ্গে সাক্ষাত করেন, সেসময় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক ছিল অভিন্ন স্বার্থ, সাংঘর্ষিক মূল্যবোধ এবং সন্দিগ্ধ বোঝাপড়ার মধ্যে একটি জটিল মেলবন্ধন।

ওবামা পরমাণু কর্মসূচী নিয়ন্ত্রণ করে ইরানের সঙ্গে একটি কূটনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করে ওই অঞ্চলে সংঘাতের বিস্তার রোধ করার জোরালো সুযোগ এনে দিয়েছেন।

সুন্নী নেতৃত্বাধীন সৌদি সরকারের কাছে প্রস্তাবিত চুক্তিতে অবরোধ শিথিল করার ব্যবস্থা প্রধানত শিয়া রাষ্ট্র ইরানকে স্রেফ এই অঞ্চলজুড়ে আরও অস্থিরতা উস্কে দিতে শত শত কোটি ডলার এনে দেবে।