মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৩ আগস্ট ২০১৭, ৮ ভাদ্র ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

পঞ্চম শ্রেণীতে উঠে নিপার ঠিকানা হয় শ্বশুরবাড়ি

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫

গর্ভের অনাগত সন্তানের শারীরিক স্পর্শ বোঝার অনুভূতি নেই। অথচ তিন কী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অনুমান করে জানাল। এমন সরল উক্তি নিপার। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছর সে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ত। কিন্তু পড়া তো দূরের কথা। এখন ঠেলতে হচ্ছে ঘর-সংসারের চাকা। একটি বছর গত হয়েছে। বয়স হয়নি, তাই বিয়ে হলেও কাবিন করতে পারেনি। রেজিস্ট্রিবিহীন বিয়ে। স্বামী ইলিয়াস হোসেন। আরেক কিশোর। বয়স আনুমানিক ১৬-১৭ বছর। পেশা, যখন যে কাজ পায় তাই করে। এখন মাটি কাটা শ্রমিক। শ্বশুর পঞ্চাশোর্ধ রফেজ খান ও শাশুড়ি শয্যাশায়ী শাহীনুর বেগমকে নিয়ে কিশোরীবধূ নিপার সংসার। বালিয়াতলী ইউনিয়নের আইয়ুমপাড়া গ্রামে বাড়ি। সংসারের ধকল বয়ে বেড়ানো এ কিশোরীবধূর নিজের চাওয়া-পাওয়ার কোন হিসাব জানা নেই। বিয়ের এক বছরে অলঙ্কার বলতে নাকফুল। কানে একটি ইমিটেশন। এ নিয়েও নিপার সুখ-দুঃখের কোন অভিব্যক্তি নেই। নেই কোন বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু মুখাবয়বে ভেসে আছে স্বামী-সংসারের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার স্পষ্ট ছাপ।

এক বছর আগে পাশের লালুয়া ইউনিয়নের মঞ্জুপাড়া গ্রামের জেলে লোকমান মৃধার চার সন্তানের মধ্যে মেঝো নিপার সঙ্গে বিয়ে হয় ইলিয়াসের। ষষ্ঠ শ্রেণীতেই লেখাপড়ার পাট চুকে গেছে। নিজের অজান্তেই সহপাঠীদের কথা মনে জাগে তার। এখনও বই-খাতার ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যায় এমন একজন ফাহিমার কথা মনে আছে, জানায় কিশোরীবধূ। কথাবার্তায় অসম্ভব বুদ্ধিমত্তার ছাপ নিপার। কাঁথা সেলাই করে। রান্নার কাজ সামাল দেয়। অসুস্থ শাশুড়ির সেবা, দেখাশোনা। কিশোরী এ বধূর ওপর রয়েছে শ্বশুর-শাশুড়ির নিখাঁদ আদর। সোহাগ, স্নেহের পরশ মাখা হাতে আদর করেন তারা।

অকপটেই কিশোর স্বামী ইলিয়াস জানায়, বছরে ছিট কাপড়ের দুটি স্যালোয়ার-কামিজ কিংবা একটি ভাল স্যান্ডেল দেয়ার সঙ্গতি নেই তার। নিজের অক্ষমতার জন্য নিজেকেই দায়ী করে কিশোর ইলিয়াস। ভারী বোঝা মাথায় নেয়ার সময় মেরুদ-ে আঘাত পায়। কাজ করতে গেলে এখনও কঁকিয়ে ওঠে। বছরখানেক আগে তার এমন দশা হয়েছে। মাটি কাটার কাজ করতেও সমস্যা হয়। ছেঁড়া, রংচটা একটি শার্ট গায়ে জড়িয়ে নিপার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেল। বিয়ের পরে স্বামী-স্ত্রীর সুখের জীবন কী। কী জীবনের চাওয়া-পাওয়া। কী তাদের পরিকল্পনা। কী-ই বা করণীয়। কোন কী এর উত্তর এ দম্পতির জানা নেই। পা পিছলে নিপার ডান পায়ে আঘাত পেয়েছে। রাতে রাতে জ্বরও হয়, এ কারণে বাড়ির অদূরে তাদের কাছে অতি সজ্জন, পল্লী চিকিৎসক নুরুল কবিরের কাছে যায় এ দম্পতি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরের ঘটনা। তখন তার প্রশ্নের শিকার হয় গর্ভবতী কি-না। তখন থেকেই এ দম্পতির নতুন দুশ্চিন্তার ভাবনা তাড়া দেয়। নিপার ভাবনায় ধরা দেয় নতুন সন্তান আসবে কোলজুড়ে। এ খবরটি তাদের কাছে যতটা না আনন্দের; তারচেয়ে বেশি দুর্ভাবনার। মা হওয়া, কিন্তু সন্তান ধারণের শারীরিক সক্ষমতা আছে কিনা তাও এ কিশোরীর জানা নেই। নিজের অজান্তেই শরীরে সন্তান ধারণের শারীরিক অনুভূতি এখন নিপার কাছে ভাবনার। ভাবনায় ফেলেছে প্রিয় মানুষ তার স্বামী ইলিয়াসকে। এসব জানার সময় আরও দুর্ভাবনায় পড়ল এ দম্পতি।

Ñমেজবাহউদ্দিন মাননু

কলাপাড়া থেকে

প্রকাশিত : ৯ মে ২০১৫

০৯/০৫/২০১৫ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: