১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

লেবার পার্টির পরাজয়ের নেপথ্যে


যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে এড মিলিব্যান্ডের লেবার পার্টির পরাজয় প্রসঙ্গে দ্য টেলিগ্রাফ এক ভাষ্যে লিখেছে : লেবার পার্টির পরাজয়ের কারণ হলো তারা ২০১৫’র সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের কোন চেষ্টা করেনি। তবে, তারা জয়ী হতে চেয়েছিলÑ মরিয়া হয়েই তা চেয়েছিল।

২০১০ সালের পর থেকে লেবারদের পরপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের বাঁক অতিক্রম করতে হয়েছে। কখনও তাকে কঠিন ও কষ্টকর পথের মুখোমুখি হতে হয়েছেÑ যে পথ ছিল ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনায় পূর্ণ। অন্য পথগুলো ছিল সহজতর, কম কষ্টকর পথ। কিন্তু সেগুলো রাজনৈতিক বিলুপ্তির দিকে নিয়ে যায়। আর প্রতিবারই লেবার সেই পথই বেছে নিয়েছে, যা বহু ভ্রমণে জীর্ণ। ২০১০-এ লেবারের দু’জন নেতার মধ্যে বাছাইয়ের প্রশ্ন ওঠে। জনমত জরিপে পরিষ্কারভাবে দেখা যায় যে, ব্রিটিশ জনগণ একজনকে পছন্দ করে। তাই, লেবার বেছে নেয় এমন একজনকে ট্রেড ইউনিয়গুলোর যার প্রতি আনুকূল্য রয়েছে। একবার তিনি যখন নেতা নির্বাচিত হন সে সময় তাঁকে তাঁর চারপাশে পেশাদার, ঝানু লোকদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু তিনি এর পরিবর্তে অনভিজ্ঞ আদর্শবাদী আপনার লোকদের জড়ো করেন। তাঁকে অতীতের রাজনৈতিক ব্যর্থতার মোকাবেলা করতে বলা হয়, বিশেষ করে পূর্ববর্তী লেবার সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার রেকর্ডের। কিন্তু তিনি মোকাবেলার বদলে তা সমর্থন করার উদ্যোগ নেন। তাঁকে বাজেট ঘাটতি এবং তা হ্রাস করার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, এটা পার্লামেন্টের রাজনীতি নির্ধারণ করবে। কিন্তু তিনি একে একধরনের বিমূর্ত চিন্তাভাবনা বলে ধরে নেনÑ এমন কিছু যা ‘সাধারণ মানুষের’ জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।তাঁকে সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচীর উদ্যোগ নিতে বলা হয়, কিন্তু পরিবর্তে তিনি একধরনের সেøাগানে ঝুঁকে গড়েনÑ ‘প্রত্যাখ্যাত প্রজন্ম’ ‘এক জাতি’ ‘ব্রিটেন আরও উন্নতি লাভের উপযুক্ত’ ইত্যাদি।

তাঁকে বলা হয়, জয়লাভের জন্য তাঁকে সুদৃঢ়ভাবে রাজনৈতিক কেন্দ্রে দলকে অধিষ্ঠিত করতে হবে। কিন্তু পরিবর্তে দলটিকে এমন অবস্থানে নিয়ে আসেন, যাকে তিনি সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক মনে করেনÑ বাম অভিমুখে।