১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভাঙ্গাচোরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ডিএসসিসির কমিউনিটি সেন্টার


মশিউর রহমান খান ॥ অবহেলা, অব্যবস্থাপনা আর ভাঙ্গাচোরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দিয়ে চলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কমিউনিটি সেন্টারগুলোর সেবা কার্যক্রম। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে না পারায় ব্যক্তিমালিকানাধীন কমিউনিটি সেন্টারগুলোর তুলনায় সরকারী পুরনো এসব সেন্টার অনেকটা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ আর অতি পুরনো ভবন ছাড়াও সরকারী এসব কমিউনিটি সেন্টারের বিষয়ে নাগরিকদের মাঝে কোন প্রকার প্রচার না থাকায় এসব কমিউনিটি সেন্টার থেকে রাজস্ব আয় আগের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। কোন কোন কমিউনিটি সেন্টার পুরোপুরিই বন্ধ রয়েছে। রাজস্ব আয় বাড়াতে কোন কোন স্থানে তা ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে তা নির্মাণেও রয়েছে অত্যন্ত ধীরগতি। বছরের পর বছর চলে গেলেও নির্মাণকাজ শেষ হচ্ছে না। সমাজের সকল শ্রেণীর নাগরিকদের উপকারের স্বার্থে এসব কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হলেও বর্তমানে এসব সেন্টার দখল করে র‌্যাব কার্যালয়, থানা হিসেবে ব্যবহার করা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ যেন ‘সরকারী মাল দরিয়ামে ঢাল’ অবস্থা। ডিএসসিসি এলাকার ব্যক্তিমালিকানাধীন কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অনুষ্ঠান করতে অনেক আগে থেকেই বুকিং দিয়েও অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাচ্ছেন না অনেকেই। সে তুলনায় সরকারী এসব কমিউনিটি সেন্টারে প্রায় বছরই খালি পড়ে থাকে।

স্বল্প ব্যয়ে সুন্দর পরিবেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তথা সভা-সেমিনার, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ যে কোন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে সুবিধার্থে ডিএসসিসি এলাকায় বিভিন্ন সময়ে ৩৫টি কমিউনিটি সেন্টার তৈরি করা হয়। তাছাড়া বেশ কয়েকটি কমিউনিটি সেন্টারকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে কর্পোরেশনের তৈরি করা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দৃশ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার ফলে মানুষ ভয়েই অনেক সময় এসব সেন্টারে বিয়ে বা সামাজিক কোন অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে আগ্রহ হারাচ্ছে। যার সুবিধা ভোগ করছে বেসরকারী কমিউনিটি সেন্টার আর সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ নাগরিকগণ।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মোট ৩৫টি কমিউনিটি সেন্টার থাকলেও এর মধ্যে ২টি সেন্টারের ১টিকে ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ (কাজী বশির মিলনায়তন) ও অপরটি জহির রায়হান মিলনায়তনকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ২টিতে ছিন্নমূল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব সেন্টারে ব্যায়ামাগার, কমিশনার কার্যালয়, ইপিআই কেন্দ্র, লাইব্রেরী, পরিচ্ছন্ন বিভাগের কক্ষ রয়েছে। আবার ৩৩টি কমিউনিটি সেন্টারের মধ্যে ১২টিতে সংগীত বিদ্যালয় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কমিউনিটি সেন্টারে বিভিন্ন সেবা কার্যালয় স্থাপন করে কর্মকা- পরিচালিত করলেও সমস্ত অফিসের বিদ্যুত, পানি ও গ্যাস বিল কোন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রদান করা হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে আয় না থাকলেও নিয়মিত বিদ্যুত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। চরম জনবল সঙ্কটে কেন্দ্রগুলোর সঠিক পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।