২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ফোরকান মল্লিকের পক্ষে সাফাই সাক্ষী অব্যাহত


স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পটুয়াখালীর রাজাকার কমান্ডার ফোরকান মল্লিকের পক্ষে সাফাই সাক্ষী অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার তার পক্ষে তৃতীয় সাফাই সাক্ষী গোবিন্দ কুন্ডু জবানবন্দী প্রদান করেছেন। জবানবন্দী শেষে প্রসিকিউটর মোখলেসুর রহমান বাদল সাক্ষীকে জেরা করেন। পরবর্তী সাফাই সাক্ষীর জন্য ১০ মে দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মঙ্গলবার এ আদেশ প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মোঃ শাহিনুর ইসলাম।

ফোরকান মল্লিকের সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেন, আমার নাম গোবিন্দ কুন্ডু, পিতা-রমনী কুন্ডু, মাতা-প্রতিভা রানী কুন্ডু। গ্রাম- সুুুবিদখালী বন্দর, থানা-মির্জাগঞ্জ, জেলা-পটুয়াখালী। আমার বর্তমান বয়স আনুমানিক ৫৫-৫৬ বছর। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রথম দিকে বাবা কাকারাসহ আমরা সকলেই সুবিদখালী বাজারে নিজেদের বাড়িতেই থাকতাম। পাকবাহিনী পটুয়াখালী শহরে প্রবেশের আনুমানিক ১৫-২০ দিন পর আমরা সকলেই দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে জনৈক নেদছে আলী খার বাড়িতে আশ্রয় নেই। আমার বাবা কাকারা ৩ ভাই ছিলেন। তারা হলেন রমনী কুন্ডু, শ্যাম সুন্দর কুন্ডু এবং সুনীল কুন্ডু। এরা সবাই জীবিত এবং বর্তমানে ভারতের দত্তপুকুর এলাকায় বসবাস করেন।

সাফাই সাক্ষী আরও বলেন, আমার দুই কাকা স্বাধীনতার আনুমানিক ৪-৫ বছর পর ভারতে চলে যায়। আমার বাবা ১৯৯৮-১৯৯৯ সালে ভারতে চলে যান। সুবিদখালী বাজারে আমার বাবার একটি লাইব্রেরী ও দোকান ছিল। আমার মেজো কাকা শ্যম সুন্দর কুন্ডু এমবিবি এস ডাক্তার ছিলেন। আমি বর্তমানে বাংলাদেশে একাই আছি। আমার বোনও বাংলাদেশে অবস্থান করছে। আমি ফোরকান মল্লিককে পূর্বে কখনও দেখিনি। আজকেই প্রথম দেখলাম। গত এক দেড় বছর যাবত ফোরকান মল্লিকের নামটি শুনেছি। আরও শুনেছি যে, মানুষ বলাবলি করছে সে যুদ্ধাপরাধী। আমার বাবা কাকারা এবং আমরা সকলেই পাকিস্তানী সেনাদের ভয়ে স্বেচ্ছায় মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেছিলাম। মনে পড়ে একজন মাওলানা এসে আমাদের কলেমা পড়িয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে সাহার্য্য করেছিল। স্বাধীনতার পর আমরা আবারও নিজ হিন্দু ধর্মে ফিরে আসি। আমরা যখন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলাম তখন পাকিস্তান সেনা বা রাজাকাররা সেখানে উপস্থিত ছিল না। আমাদের সুবিদখালী রাজাকারদের মধ্যে শাহজাহান শিকদারের নাম মনে আছে। অন্য কারও নাম মনে নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্যাপ্টেন আলতাফ, আজিজ মল্লিক এদের নাম মনে আছে। আমি শুনেছি সুবিদখালী বাজারে পাক সেনারা এসেছিল।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: