১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অভিজিত হত্যায় আল কায়েদা


লেখক ও ব্লগার অভিজিত হত্যাকা-ের দুই মাসের বেশ পর হত্যার দায় স্বীকার করেছে বিশ্ব সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের শীর্ষ সংগঠন আল কায়েদা। এই দাবি কতটা সত্য তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। বিশেষত যারা জঙ্গীবাদ সম্পর্কে খোঁজখবর রাখেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গী সংগঠন আল কায়েদার নামে প্রচারিত ভিডিও বার্তাটি প্রচার করে যুক্তরাষ্ট্র্রভিত্তিক জঙ্গী হুমকি পর্যবেক্ষণকারী সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ নামক এক প্রতিষ্ঠান। ভারতীয় উপমহাদেশে আল কায়েদার প্রধান আমের ওমর এই বার্তায় অভিজিতকে ‘ধর্মদ্রোহী’ উল্লেখ করে এই কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন। ওমর হচ্ছেন ‘আল কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাব কন্টিনেন্ট’ সংক্ষেপে আইকিউআইএস, যারা ভারতবর্ষে ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে চায়। ধর্ম অবমাননাকারী চিহ্নিত করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে অভিজিতের মতো আরও হত্যাকা- ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছেন ওমর। অভিজিত হত্যার কূলকিনারা বাংলাদেশ ও মার্কিন গোয়েন্দারা না পাওয়ার মধ্যে আল কায়েদার এই বিলম্বে দায়িত্ব স্বীকার নিয়ে সন্দেহও রয়েছে। আল কায়েদার সার্বিক কর্মকা- পর্যবেক্ষণ করলে এই দাবিকে অস্বাভাবিক মনে হয় গোয়েন্দাদের কাছে। তারা বলছে, অভিজিতকে আল কায়েদার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে- এমনটি তদন্তে এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনই তাকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের আড়াল করতে কিংবা কেউ এটি থেকে সুবিধা নিতে আল কায়েদার নামে ভিডিও বার্তা প্রচার করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা এফবিআইএর চার গোয়েন্দাও এসে তদন্ত যা করেছেন, তাতে আল কায়েদার নাম মেলেনি। অভিজিত হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত পাঁচজনের অধিক যে সব আসামিকে তদন্তকারীরা চিহ্নিত করেছে, তারা সবাই আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। বাংলাদেশে আল কায়েদার নেটওয়ার্কের কোন তথ্য নেই। তবে শুধু অভিজিত নয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মোট ৬ জন ব্লগার, শিক্ষক ও লেখক যেমন, ব্লগার বাবু, রাজীব ও শিক্ষক শফিউল ইসলামকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আল কায়েদা। বাবু হত্যায় যে দু’জন মাদ্রাসা ছাত্রকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়, তারাও আল কায়েদার ভাবাদর্শে বিশ্বাসী। তবে তারা স্বীকার করেছে, তারা আনসারুল্লাহর সদস্য। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসির সামনে অভিজিত ও তার স্ত্রীর ওপর হামলা চালানো হয়। অভিজিত মারা যান। হত্যায় জড়িত সন্দেহে বুয়েটের একজন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেও কোন তথ্য মেলেনি। ভিডিও ফুটেজ থাকার পরও অদক্ষতার কারণে তদন্তকারীরা বেশিদূর যেত পারেনি। দেশে জঙ্গী প্রতিরোধে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ বাহিনী না থাকায় জঙ্গী দমন পুরোপুরি সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। জঙ্গীরা দীর্ঘদিন ধরে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সময়ে হত্যার চেষ্টাও চালায়। বাংলাদেশে জঙ্গী ও সন্ত্রাস নির্মূলে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বাহিনী গড়ে তোলা সময়ের দাবি।