২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

ভূমিকম্পে লালমনিরহাটে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-ভবনে ফাটল


নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট, ৪ মে ॥ জেলার ৫ উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেসরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারী কলেজ এবং বেসরকারী কলেজ মিলে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনদিনের মৃদু ভূকম্পনে পাকা, আধাপাকা ও বহুতল ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। এমন কি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার ছাদের পলেস্টারা খসে পড়েছে। এসব ভবনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মজীবী মানুষ জীবনের ঝুঁকি ও আতঙ্কে কাজ করছে।

জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জীবনের ঝুঁকি না নিয়ে খোলা আকাশের নিচে গাছের ছায়াকে শ্রেণী কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছে। সম্প্রতি হরতাল অবরোধের কারণে পাঠদানে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই ক্ষতির কিছুটা পুষিয়ে নিতে খোলা আকাশেই শিক্ষাক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোঃ হাবিবুর রহমান জানায়, প্রকৌশল দফতরগুলোকে পত্র দিয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরজমিনে ফাটলকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রকৌশল জ্ঞান ও বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করবে।

সিদ্ধিরগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ থেকে জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের ৯৫নং আদমজীনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ভবনে ভূমিকম্পের সময় অসংখ্য ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এতে এখন পুরো ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ফলে দোতলার ৪ কক্ষে ক্লাস নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নিচতলায় ছাত্রছাত্রীরা আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করছে। এতে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা শঙ্কা কাজ করছে।

জানা যায়, বিদ্যালয়টি ১৯৬৩ সালে ৩৩ শতাংশ জায়গার ওপর নির্মিত হয়। ১৯৯৩-৯৪ সালের বিদ্যালয়ে একটি দোতলা ভবন নির্মিত হয়। এরপর আর কোন সংস্কার করা হয়নি। শিক্ষকরা জানান, গত ২৫ এপ্রিল ভূমিকম্পে বিদ্যালয়ের দোতলা ভবনে বিকট শব্দে অসংখ্য ফাটলের সৃষ্টি হয়। সরজমিনে গিয়েও দোতলা ভবনের বীম, খুঁটি, দেয়ালে অংসখ্য ফাটল দেখতে পাওয়া যায়। প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা বেগম জানান, ভূমিকম্পের পর নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার দুই প্রকৌশলী ভবনটি পরিদর্শন করে গেছেন। প্রকৌশলীরা পরিদর্শন করে তাদের জানান, বীম ও খুঁটির ফাটলগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। বুয়েট প্রকৌশলীদের এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে গেছেন। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষা অফিসার মনিরুল হক ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, প্রকৌশলীরা সরজমিনে গিয়ে কারিগরি রিপোর্ট দিয়েছেন। ঝুঁকির বিষয়টি আমরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরে জানিয়েছি।