২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সমস্যার মূলে যান


থাই-মালয়েশিয়া সীমান্তে পাচারকারী চক্রের নির্মম নিষ্ঠুরতার শিকার বাংলাদেশীসহ রোহিঙ্গারা অনেকদিন ধরেই। বাংলাদেশ হতে মানব পাচার বেশ পুরনো ঘটনা। বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের কয়েকটি অপরাধীচক্র দীর্ঘদিন যাবত জঘন্য ও অমানবিক অপকর্ম চালিয়ে আসছে সবার অজান্তে। এদের পাচারের শিকার যারা, তাদের অর্ধশতজনের কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে গণকবর হতে। পাচারকারীরা বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের গ্রামগুলোতে দরিদ্রজনদের বিদেশে লোভনীয় চাকরির টোপ দিয়ে বশীভূত করে তাদের নৌকা ও ট্রলারযোগে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের ব্যবস্থা করে। এরমধ্যে অনেক ট্রলারডুবির ঘটনায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পাচারকালে অনেক যাত্রীবাহী ট্রলার ধরাও পড়ে। মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে মানব পাচারকারীদের রয়েছে ‘ওয়েটিং এরিয়া’। সেখানে তাদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য অত্যাচার করা হতো। আটক বাংলাদেশী নাগরিকদের পরিবারের কাছে ফোনে মুক্তিপণ দাবি কিংবা দাস হিসেবে বিক্রি করে দেয়া হয়। দাবির টাকা দিতে না পারলে অত্যাচার নির্যাতন অবধারিত। অনেকে অনাহারে ও রোদে-শোকে মারা যেত। এর আগেও থাই জঙ্গল হতে ১৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে বাংলাদেশী নাগরিক ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সংখ্যাই বেশি। গত শুক্রবার থাই জঙ্গল হতে জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশী এক তরুণের ভাষ্যে জানা যায় কিভাবে মানব পাচার ও মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এর সঙ্গে বাংলাদেশী ও রোহিঙ্গা দালালরা জড়িত। বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত রোহিঙ্গারাই পাচারে বেশ সক্রিয়। তারা দরিদ্র রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশীদের লোভ দেখিয়ে পাচার করে আসছে। এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্যও আপদ। এদের কারণে বাংলাদেশীরাও পাচারের শিকার। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে পাচার বন্ধ হবে না। জাতিসংঘও এদের বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে ঘোষণা করলেও এদের জন্য কিছুই করেনি। বরং তাদের শরণার্থী কমিশন চায় শরণার্থী হয়ে থাক রোহিঙ্গারা, তাতে ইউএনসিএইচআর নামক প্রতিষ্ঠানটির কাজ বজায় থাকে। তাই তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে যেন অনীহা বেশি। মিয়ানমার সরকার তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে না। জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে সেই ১৯৭৮ সালে। তারপর হতে ক্রমশ ওরা আসছে। এই সম্প্রদায়টিকে নিশ্চিহ্ন করতে চায় মিয়ানমার। ওরা দালালের মাধ্যমে বাংলাদেশী পাসপোর্ট সংগ্রহ করে মধ্যপ্রাচ্যে গিয়ে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে। আর দুর্নাম হয় বাংলাদেশের।

সমুদ্রপথে মানবপাচার বিশ্বজুড়েই চলছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার সময় লিবিয়ার উপকূলে প্রায় ৯০০ অভিবাসী সাগরে ডুবে প্রাণ হারায়। ইউরোপ এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তারা সমাধান নিয়ে ভাবছে। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনি। কক্সবাজারের সমুদ্র উপকূল ব্যবহার করে মানব পাচার চলছে বহুদিন ধরেই। সাম্প্রতিককালে এর পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু পাচার বন্ধ করা যায় না। মাঝেমধ্যে পাচারকারী ও পাচারের শিকার মানুষজনকে উদ্ধার করা হয় বটে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দরিদ্র মানুষ কাজের সন্ধানে, একটু ভালভাবে বেঁচে থাকার আশায়, সচ্ছলতার আকাক্সক্ষায় বিদেশ পাড়ি দেয়। অজানা অচেনা বিদেশ বিভূঁইয়ে অশুভ চক্রের হাতে প্রাণ দিতে হবে কেন, এটি একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। এর সমাধানের জন্য যেতে হবে সমস্যার মূলে। সার্ক ও আসিয়ান দেশগুলো বিষয়টিতে জোর দিলে সমাধানের পথ বেরিয়ে আসবেই।