২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ঢাকায় দু’দফা জানাজার পর আজিমপুরে পিন্টুর দাফন সম্পন্ন


ঢাকায় দু’দফা জানাজার পর আজিমপুরে পিন্টুর দাফন সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত বিএনপি নেতা ও সাবেক এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় আজিমপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে নয়াপল্টন বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ও হাজারীবাগে লেদার টেকনোলজি কলেজ মাঠে জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়া ২০ দলের কয়েক হাজার লোক অংশগ্রহণ করেন।

বিএনপি নেতা ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর লাশ রাজশাহী থেকে সোমবার ভোরে তার বাসভবনের আনা হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য নেয়া হয় পল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। সেখানে অস্থায়ী মঞ্চে তার লাশ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সোমবার সকাল ১১টা ৩৭ মিনিটে নয়াপল্টনে এসে পিন্টুর কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় কফিনের পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন ছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় নেতারা পিন্টুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বেলা পৌনে ১২টার সময় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা পরিচালনা করেন ওলামা দলের নেতা মাওলানা আব্দুল মালেক। জানাজায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। দলের কার্যালয়ের সামনে জানাজা শেষে পিন্টুর লাশ নেয়া হয় হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজির মাঠে। সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে আজিমপুর কবরস্থানে পিতার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

জানাজার আগে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ছাড়াও পিন্টুর মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোহাম্মদ শাহজাহান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদারসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

শ্রদ্ধা জানানোর আগে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, মরহুম নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু একজন উদীয়মান নেতা ছিলেন। তার সাংগঠিক দক্ষতা ছিল, তিনি আলোচিত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার হঠাৎ মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা নাসির উদ্দিন আহমেদের শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।

বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেন, পিন্টু একজন সংগ্রামী নেতা ছিলেন। সিটি নির্বাচনের ঠিক দুই দিন আগে তাকে ঢাকা থেকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে তার যে মৃত্যু হয়েছে, তা অস্বাভাবিক। এর তদন্ত হওয়া উচিত।

এদিকে বিএনপির অপর স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার অভিযোগ করেন পিন্টুর মৃত্যু একটি রহস্যময় ঘটনা। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে রাজশাহী নেয়া হয়েছিল। তার রহস্যময় মৃত্যু হয়েছে। নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টু এতো তাড়াতাড়ি এভাবে চলে যাবেন, তা আমরা আশা করিনি। আমরা শেকাহত, মর্মাহত।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া পিন্টুর মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পল্টনে আসায় আশপাশে নেয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা। সাবেক সাংসদ পিন্টুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে সকালে বিএনপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। নেতাকর্মীরা বুকে কালো ব্যাজ ধারণ করেন। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি পিন্টু ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে পিলখানা হত্যা মামলার রায়ে তাকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়। ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক সাংসদ নাসির উদ্দীন পিন্টু পিলখানা হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। এছাড়াও একটি অস্ত্র লুটের দায়ে তার ১০ বছরের কারাদ- হয়। বিএনপির এই সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু বাছাইকালে তার মনোনয়পত্র বাতিল করে দেন দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারোয়ার মোর্শেদ। এরপর ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের আদালতে আপিল করা হলেও আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে মনোনয়পত্র বাতিল হওয়ায় তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। কিন্তু নির্বাচনের দুদিন আগে পিন্টুকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রাজশাহী কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। গত রবিবার রাজশাহী কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। রাজশাহী থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে পিন্টুর মরদেহ সোমবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে ঢাকার হাজারীবাগের মনেশ্বর সড়কের বাসায় নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা।

তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন ॥ এদিকে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার ত্রুটি রয়েছে কি-না তা জানতে একজন ডিআইজিকে প্রধান করে ৩ সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কারা অধিদফতর। একইসঙ্গে উক্ত কমিটিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরেজমিনে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আগামী ৭ মে’র মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে কারা অধিদফতর সূত্র নিশ্চিত করেছে।

তদন্ত কমিটিতে ঢাকা ডিভিশনাল উপ-কারা মহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) গোলাম হায়দারকে প্রধান করা হয়েছে। অপর দুই সদস্য হলেনÑ কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি প্রিজন্সের সিনিয়র জেল সুপার মোঃ মিজানুর রহমান ও ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল কবির চৌধুরী। কারা অধিদফতর সূত্র জানায়, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এ কমিটির সদস্যরা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মৃত্যুর ঘটনায় কোন অবহেলা ছিল কি-না এবং জেলকোড অনুযায়ী চিকিৎসক তার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে কি-না তা খতিয়ে দেখবেন। তদন্তে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট কারও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করবেন তারা। সূত্র জানায়, সোমবার রাতেই কমিটির সদস্যরা রাজশাহী পৌঁছেছেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: