২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কক্সবাজারে নদী ভাঙ্গনে হুমকির মুখে চার শতাধিক স্থাপনা


স্টাফ রির্পোটার, কক্সবাজার ॥ কক্সবাজারে চকরিয়ার বদরখালীতে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের কারণে নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটছে প্রায় ছয় হাজার বাসিন্দার। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে সাতডালিয়া পাড়া গ্রামের ৪শতাধিক পরিবারের বিভিন্ন স্থাপনা। ১৯৯১ সালে প্রলয়ঙ্কারি ঘূর্ণিঝড়ের পর দীর্ঘ ২৫বছর ধরে বদরখালী উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত বেশির ভাগ বেড়িবাঁধ সংস্কারের অভাবে এখনও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে বেড়িবাঁধ সংস্কার প্রকল্পের কাজ টেকসই হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সাতডালিয়া পাড়া এলাকার বেড়িবাঁধটি ভয়াবহ ভাঙ্গণের ফলে কয়েক বছরের ব্যবধানে অনেকাংশ বিলীন হয়ে গেছে। এ অবস্থায় গোয়ারফাঁড়ি খালের গতিপথ বর্তমানে গ্রামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। বদরখালী সাতডালিয়া পাড়া গ্রামের প্রায় আড়াই’শ বসতবাড়ি, মসজিদ-মাদরাসা, কবরস্থান সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্টান চরম হুমকির মধ্যে রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে গ্রামের পাশ দিয়ে বহমান গোয়ারফাঁড়ি খালের (শাখা-নদী) ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাতডালিয়া পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা মো: নুরুন্নবী সহ অনেকের অভিযোগ, কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড ৯১ সালের পর কয়েকবছর আগে নদীর তীরে কিছু অংশের বেড়িবাঁধ সংস্কার করলেও প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকার বেড়িবাঁধ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তদারকি না থাকায় ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে স্থিত থাকা বেড়িবাঁধের বিশাল অংশ। এলাকাবাসির দাবি, গ্রামের ৬ হাজার জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধে দ্রুত সংস্কার কাজ করতে হবে। বদরখালী ইউপি চেয়ারম্যান নুরে হোছাইন আরিফ বলেন, ১৯৯১ সালে প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ের পর বদরখালী উপকূলের ক্ষতিগ্রস্ত বেশির ভাগ বেড়িবাঁধ সংস্কারের অভাবে অরক্ষিত থাকায় নদী ভাঙ্গনে ভয়াবহরূপ ধারণ করছে। নদী ভাঙ্গন এখন গ্রাস করতে পারে পুরো গ্রামকে। বর্ষা মৌসুমে গ্রামের জনবসতি সমুহ নদীতে বিলীন হয়ে পড়ার পূর্বেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরী।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উপকূলীয় চকরিয়া ও পেকুয়ায় সাতটি পোল্ডারের ২০৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এরমধ্যে বেশির ভাগই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের চকরিয়া উপ-বিভাগের বদরখালী শাখা কর্মকর্তা (এসও) মোহাম্মদ আলী বলেন, বদরখালী সাতডালিয়া পাড়ার ওই বেড়িবাঁধসহ চকরিয়ার একাধিক স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের লক্ষ্যে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ প্রাপ্তি নিশ্চিত হলে ওইসব বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হবে।