১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভূমিকম্প আতঙ্কে উত্তরাঞ্চলের মানুষের নির্ঘুম রাত


স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ গত শনি ও রবিবার দু’দিনের ভূমিকম্পের পর আবার বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে- এমন খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নীলফামারী ও তার আশপাশ এলাকার মনুষ। রবিবার রাতে পানি সংগ্রহের ধুম পড়ে যায় এবং লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় নির্ঘুম রাত কাটায়। প্রয়োজনে আরও রাত ঘরের বাইরে কাটাতে প্রস্তুত আছে বলে তারা জানিয়েছে।

ফের বড় ধরনের ভূমিকম্প ধেয়ে আসছে, রবিবার রাতে এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিদ্যুতচালিত যন্ত্রের মাধ্যমে মাটির নিচ থেকে ২৪ ঘন্টায় কোন পানি ওঠানো যাবে না। ছড়িয়ে পড়বে আগুনের কু-ুলী। তাই সবাইকে মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার জন্য আহবান জানান হয়। এ থেকে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে যায়। নীলফামারীর ডোমার-ডিমলা-জলঢাকা-কিশোরীগঞ্জ-সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামে গ্রামে ও পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনই, বাংলাবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে ফাঁকা স্থানে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিদ্রাহীন রাত কাটায়। এ ছাড়া পানি না পাওয়ার খবরে লোকজন বালতি ডেকচিসহ বিভিন্ন পাত্রে পানি সংগ্রহ করে রাখতে বাধ্য হয়। ডিমলার তিস্তা নদীপাড়ের লোকজন নদীর ডান তীর বাঁধ ধসে পড়বে এমন খবরে বাঁধের উপরে থাকা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় নেয়। বাংলাবান্ধা গ্রামের লোকজন জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে এলাকার মহানন্দা নদীতে পাথর উত্তোলন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তারা বলেন, নেপাল বাংলাবান্ধার কাছে হওয়ায় ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি এখানে বেশি হয়। আতঙ্ক ও গুজবে এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি হ্রাস পেয়েছে। কারণ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে।

লালমনিরহাট ॥ লালমনিরহাটে রবিবার রাতে কেউ ফের ভূমিকম্পের গুজব ছড়ায়। এরই প্রতিক্রিয়ায় রেলওয়ে কলোনি ও পুলিশ কোয়ার্টারের বহুতল ভবনের বাসিন্দারা রাত ২টা পর্যন্ত বাড়ির বাইরে থাকতে বাধ্য হন। রংপুর থেকেও এই ধরনের গুজব ছড়ানোর খবর পাওয়া গেছে।

সাভার ॥ ভূমিকম্প আতঙ্কে সাভারের আল মুসলিম গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ সোমবারও কারখানায় প্রবেশ না করে প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নেয়। ভবন ভেঙ্গে পড়তে পারে, এমন আতঙ্ক থেকে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেনি বলে শ্রমিকরা জানায়। অপরদিকে, ডিইপিজেড ও আশুলিয়ার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ একই আতঙ্কে কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার বাইরে থাকে। ভীতি দূর করতে কারখানার মালিক ও বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ চেষ্টা চালালেও কোন লাভ হয়নি। শ্রমিকরা পরে বাসায় চলে যায়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: