২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কাঠমন্ডু থেকে সেনা বিমানে দেশে


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ত্রানবাহী বিমানে কাঠমন্ডু থেকে রবিবার রাতে দেশে ফিরে স্বস্থির নিঃশ্বাস ছাড়লেন বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রানঘাতি প্রলয়ঙ্কারী ভুমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপালের জনপদ। ওখানেই আটকা পড়েছিলেন বাংলাদেশের কিশোরিরা। এএফসি রিজিওন্যাল চ্যাম্পিয়নশীপ খেলতে কাঠমন্ডুতে অবস্থানকারী বাংলাদেশের মেয়ে ফুটবলারদের সামনে একটি স্বপ্নময় ইতিহাস অপেক্ষা করছিল। ভারত, ইরান, ভুটানকে টেক্কা দিয়ে আন্তর্জাতিক এই ফুটবল আসরের ফাইনালে পৌছে গিয়েছিল তারা। প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে ছিল স্বাগতিক নেপাল। আর ফাইনালের দিনই ঘটলো বিপত্তি। ভুমিকম্পে লন্ডভন্ড হয়ে গেল সবকিছু। ২৫ এপ্রিল বিকালে অনুষ্ঠিত ফাইনালের আগে প্রকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞে বাতিল করা হয় ফাইনাল খেলা। জীবন বাঁনানোই যেখানে মূল সংগ্রাম সেখানে খেলায় মত্ত হওয়ার সুযোগ কোথায়? হলো না-শিরোপার পরিবর্তে অক্ষত, সুস্থ শরিরে- জীবন নিয়ে দেশে ফেরা মেয়েদের অবস্থাটা দাড়িয়েছে ‘যেন ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া’। ফাইনালে পৌছে যাওয়া মানে চ্যাম্পিয়ন বা রানার্সআপ, একটা কিছু অর্জন তো অবধারিত লেখা ছিল। কিন্তু সেটার পরিবর্তে স্বস্থির দেশে ফেরাটাই তখন ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন।

ফাইনালের ভেন্যু কাঠমন্ডর দশরথ স্টেডিয়ামও ধ্বসে গেছে বলে জানা গেছে। এদিক চিন্তা করতে গেলে সৌভাগ্যই বলতে হবে বাংলাদেশের কিশোরীদের। একই সঙ্গে স্বাগতিক দেশটির মেয়েদেরও। স্বরনকালের ভয়াবহ ভুমিকম্প দুপুরে না হয়ে কয়েক ঘন্টা পর বিকেলে আগাত হানলে ভাগ্যে কি ঘটতো বলা মুশকিল। দু’দলের খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের পাশাপাশি হয়তো স্টেডিয়ামেই জীবন যেত পারতো অনেক দর্শকের। সঙ্গত কারনে বলতে হচ্ছে, মহা দুর্যোগের মধ্যেও এ যেন ভাগ্যদেবীর আশির্বাদ। হোটেল থেকে বেরিয়ে দিনভর দুরুদুরু বুকে পাশের মাঠে, খোলা আকাশের নীচে রাত কাটিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মায়ের কোলে ফেরা।

ভুমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ দেশটিতে বেঁচে যাওয়া মানুষের জন্য ত্রান সামগ্রী নিয়ে যাওয়া

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিমানে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে ১৪ নারী ফুটবলার, কোচিং স্টাফ, দলের সঙ্গে থাকা কর্মকর্তাদের। তবে ফাইনাল ম্যাচটির ভবিষ্যত কি তা জানা যায়নি।