১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

নেপালে ভূমিকম্পে নিহত দেড় শতাধিক, বহু হতাহতের শঙ্কা


অনলাইন ডেস্ক ॥ নেপালে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত দেড় শতাধিক প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

হাসপাতাল সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নেপালে ১০৮ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে রয়টার্স। নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে সিএনএন বলছে, নিহতের সংখ্যা দেড় শতাধিক।

শনিবার বাংলাদেশ স্থানীয় সময় ১২টা ১১ মিনিটে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর অদূরে রিখটার স্কেলে ৭.৯ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। মূল কম্পনের আগে পরে অনুভূত হয় আরও বেশ কয়েকটি কম্পন। রাজধানী কাঠমান্ডু ছাড়াও নাগরকট, কোদারি ও পানাওতি সহ পুরো নেপাল জুড়েই অনুভূত হয় এই কম্পন।

মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এর তথ্য অনুযায়ী প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল রাজধানী কাঠমাণ্ডুর অদূরে পোখরার কাছে লামজুং। এর ২৬ মিনিট পর দ্বিতীয় এবং ৮ মিনিট পর তৃতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বিভিন্ন মাত্রার মোট ১৫-১৭টি কম্পন অনুভূত হয় বলে স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

ভূমিকম্পে কাঠমান্ডুর অনেক ভবন ধসে পড়েছে, এর মধ্যে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্বঐতিহ্য ধারারা টাওয়ারও রয়েছে। ১৮৩২ সালে নির্মিত এই স্থাপনাটি কাঠমান্ডুর অন্যতম প্রধান পর্যটন স্থান।

কাঠমান্ডুর একটি পার্কে ভাস্কর্য ভেঙে পড়লে তার নিচে চাপা পড়ে এক নারী শিশু নিহত হয়েছে।

বিধ্বস্ত ভবন থেকে উদ্ধার করে হতাহতদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে, এদের মধ্যে অনেকেই হাত-পাসহ দেহের বিভিন্ন অঙ্গ হারিয়েছেন।

কাঠমান্ডুতে অনেকেই ধসে পড়া ঘর-বাড়ির ছবি ইন্টারনেটে তুলেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিধ্বস্ত ভবনগুলোর আশেপাশে পাথরকুচি ছড়িয়ে আছে। রাস্তায় বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং আতঙ্কিত মানুষজন বাচ্চাদের নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করছে।

রয়টার্সের এক সাংবাদিক বলেছেন, অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সবাই নেমে এসেছে রাস্তায়। অনেকে ছুটছে হাসপাতালের দিকে।

নেপালের তথ্যমন্ত্রী মিনেন্দ্র রিজাল উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছেন।

“আমাদের এখন আন্তর্জাতিক সব সম্প্রদায় থেকে সাহায্য প্রয়োজন। আমরা এখন যে দুর্যোগের মুখে পড়েছি, তা মোকাবেলায় যাদের বেশি জ্ঞান ও সরঞ্জাম রয়েছে, তাদের সাহায্য এখন আমাদের জন্য জরুরি।”

নেপালে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল ১৯৩৪ সালের ভূমিকম্পে, ওই দুর্যোগে সাড়ে ৮ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়।

এনডিটিভি বলছে, রাজধানী দিল্লিতে ভূমিকম্পের কারণে আতঙ্কিত মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল। ভূমিকম্পটি প্রায় মিনিটখানেক সময় অনুভূত হয়।

এছাড়াও ভারতের পাটনা, লক্ষ্ণৌ, কলকাতা, জয়পুর, চন্ডিগড় এবং অন্যান্য বেশকিছু শহরে কম্পন অনুভূত হয়।

বিহার পুলিশের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বড় ধরনের ওই ভূমিকম্পের পর বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত আতঙ্কিত মানুষের কলে টেলিফোন লাইনে জ্যামের সৃষ্টি হয়েছিল।

ওই কক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, “ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে আমরা এখনো কিছু জানি না। আমরা কলের বন্যায় ভেসে যাচ্ছি।”