১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সব শিল্প-কারখানায় বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত


স্টাফ রিপোর্টার ॥ আবেদিত সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যুত বিভাগে অনুষ্ঠিত শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত সংযোগ প্রদান সংক্রান্ত বৈঠকে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আবাসিক বিদ্যুত সংযোগ উন্মুক্ত থাকলেও নতুন শিল্প-কারখানায় বিদ্যুত সরবরাহের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ ছিল। এজন্য ১০ হাজার ৫০০ শিল্পে বিদ্যুত সংযোগের আবেদন জমা পড়ে আছে।

বিদ্যুত, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিদ্যুত বিভাগের সচিব মনোয়ার ইসলাম ছাড়াও বিতরণ কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে সকল শিল্প গ্রাহককে বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে বলা হয়, খুব বেশি চাহিদা রয়েছে এমন শিল্প-কারখানার ক্ষেত্রে বিদ্যুত বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন হলেও অন্যদের ক্ষেত্রে তা প্রয়োজন হবে না। বৈঠকে ছয়টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুত সরবরাহের জন্য একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়। এতে বলা হয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলে কাজ শুরুর আগেই বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

বৈঠকে বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দ্রুত জাতীয় গ্রিডে আরও এক হাজার মেগওয়াট বিদ্যুত যোগ হবে। কাজেই নতুন বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হলেও সঙ্কট হওয়ার কথা নয়। তিনি নতুন গড়ে তোলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদ্যুত সরবরাহে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে ছয়টি অঞ্চলে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

পাঁচটি বিদ্যুত বিতরণ কোম্পানিতে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ হাজার ৫০০ শিল্প সংযোগের আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বিআরইবি) কাছে আবেদন করেছে ১০ হাজার ২৮২টি। আরইবির সকল শিল্প গ্রাহককে বিদ্যুত দিতে হলে ৬৫ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুত প্রয়োজন হবে। ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) কাছে শিল্প সংযোগের আবেদন পড়েছে ৩১টি। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন লোড প্রয়োজন ১৩ মেগাওয়াট। ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) নিকট আবেদন পড়েছে ৫৬টি। যার জন্য ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুত প্রয়োজন হবে। ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) নিকট আবেদন জমা পড়েছে ২৭টি। যার প্রেক্ষিতে নতুন লোড দরকার ২৫ দশমিক মেগাওয়াট।

বিদ্যুত বিতরণকারী কোম্পানিগুলো বলছে এখনও ১০ লাখের বেশি আবাসিক সংযোগের আবেদন জমা পড়ে আছে। এই সব আবেদনের পাশাপাশি শিল্প গ্রাহকদের আবেদন বিবেচনায় নেয়া হলে দেশে বিদ্যুত বিভ্রাট ঘটতে পারে। এজন্য বিদ্যুতের লোড বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে শিল্প সংযোগ দেয়ার পক্ষে তারা।

বৈঠক সূত্র জানায়, আরইবি এবং অন্য বিতরণকারী কোম্পানির মধ্যে এলাকা বিভাজন নিয়ে কিছু পুরাতন সমস্যা রয়েছে। একই এলাকায় আরইবির পাশাপাশি বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড বিদ্যুত সরবরাহ করে আসছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: