২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আমতলীতে শিক্ষককে কুপিয়ে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা ॥ গ্রেফতার


নিজস্ব সংবাদদাতা, আমতলী, বরগুনা, ২১ এপ্রিল ॥ আমতলীর তালুকদারহাট সড়কের বাঁশতলা এলাকায় মঙ্গলবার সকালে গাজীপুর বন্দর মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ শহীদুল ইসলামকে (৪৫) ফিল্মি স্টাইলে কুপিয়ে বাম হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সঙ্কটজনক অবস্থায় তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের শিক্ষক শহীদুল ইসলাম ও চাচা আনোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে ৩৪ একর জমি নিয়ে ১০ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনার সূত্র ধরে এদের মধ্যে একাধিক মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মামলায় হাজিরা দিতে গাজীপুর বন্দর থেকে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে শহীদুল ইসলাম ও তার চাচাত ভাই মনির হাওলাদার আসছিল। পথিমধ্যে সকাল নয়টার দিকে তালুকদারহাট সড়কের বাঁশতলা এলাকায় সন্ত্রাসীরা ট্রাক দিয়ে আটকে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে ফিল্মি স্টাইলে মোটর সাইকেল থেকে নামিয়ে কুপিয়ে বাম হাত ও পা কেটে বিছিন্ন করে এবং ডান হাত ও পা গুরুতর যখম করে দিয়েছে। এ সময় তার চাচাত ভাই মনির হাওলাদার দৌড়ে পালিয়ে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা পায়। এ ঘটনা ঘটিয়ে শহীদুল ইসলামকে রাস্তায় ফেলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষণিক আমতলী পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে আমতলী হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সাইদুল (১৯), বাহাদুর (৩০) ও ইয়াকুবকে (৩৩) আটক করে। এদিকে আহত শহীদুলকে বহনকারী এ্যাম্বুলেন্সটি সন্ত্রাসীরা লেবুখালী ফেরিঘাটে আটকে শহীদুলকে অপহরণের চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় জনতার প্রতিরোধে কয়েক সন্ত্রাসী পালিয়ে গেলেও মাহাতাব (৩০) ও কাওসারকে (৩১) ধরে আমতলী থানায় খবর দেয়। পুলিশ এদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শহীদুলের চাচাত ভাই মনির হাওলাদার জানান, আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলায় হাজিরা দিতে আসার পথে সন্ত্রাসীরা শহীদুলকে কুপিয়ে বাম হাত ও পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে এবং ডান হাত ও পা কুপিয়ে জখম করেছে। তিনি আরও জানান, আনোয়ার হাওলাদারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে শহীদুলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। আনোয়ার হোসেনের লোকজনই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকুমার রায় জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের আটকের চেষ্টা চলছে।