২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রাস্তা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা আবর্জনা ও মশার উপদ্রব ॥ সমস্যার সমাধান চান ভোটাররা


আরাফাত মুন্না ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড। এ তিন ওয়ার্ডেরই প্রধান সমস্যা ভাঙ্গা রাস্তা, আবর্জনা, মশার উপদ্রব ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এছাড়া সরকারী কমিউনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ ও কবরস্থানও নেই এই তিন ওয়ার্ডে। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এসব এলাকার বাসিন্দার আশা, কাউন্সিলর হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তারা এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন। অন্যদিকে, প্রার্থীরাও এলাকার সকল সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন এমন প্রতিশ্রুতিই দিচ্ছেন। আসন্ন সিটি নির্বাচন উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এ তিন ওয়ার্ড ঘুরে এসব তথ্যই পাওয়া গেছে।

১৩ নম্বর ওয়ার্ড ॥ রাজধানীর মিরপুর থানাধীন উত্তর পিরেরবাগ, মধ্য পিরেরবাগ, দক্ষিণ পিরেরবাগ এবং মনিপুর এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এ ওয়ার্ডটি। ওয়ার্ডটিতে মধ্যশ্রেণীর জনগণই বেশি বসবাস করে। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার ৮৮ হাজার ১৩৮ জন।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এই ওয়ার্ডে মোট কাউন্সিলর প্রার্থী ৫ জন। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত নাজমুল আলম ভূইয়া জুয়েল (ঠেলাগাড়ি), বিএনপি সমর্থিত মোঃ আব্দুল মতিন (রেডিও) এবং জামায়াত সমর্থিত মোঃ এনায়েত হোসেন (কাঁটা চামচ)। মারুফ হাসান স্বপন (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট) ও মোঃ হারুন অর রশিদ (ঘুড়ি) রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

নাগরিক সমস্যা ॥ এ ওয়ার্ডের বড় সমস্যা রাস্তাঘাট ও আবর্জনা। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কমিউনিটি সেন্টার ও খেলার মাঠও নেই এ ওয়ার্ডে। সরেজমিনে এ ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত পরিমাণে ডাস্টবিন না থাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন এলাকার বাসিন্দা। এর ফলে একদিকে মশার উপদ্রব যেমন বাড়ছে অন্যদিকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দা আলি আকবর জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের এলাকায় মশার উপদ্রব অনেক বেশি। এছাড়া সরকারী কোন কমিউনিটি সেন্টার নেই। যে প্রার্থী নির্বাচিত হলে আমাদের সমস্যা সমাধার করবে বলে মনে হবে তাকেই আমরা ভোট দেব বলেও মন্তব্য করেন আকবর।

এ বিষয়ে এ ওয়ার্ডের সতন্ত্র প্রার্থী মোঃ হারুন অর রশিদ জনকণ্ঠকে বলেন, এলাকায় অনেক সমস্যাই রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা আবর্জনা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এছাড়া অনেক নাগরিক সুবিধা থেকেই এ ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বঞ্চিত। তিনি নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন বলেও মন্তব্য করেন।

১৪ নম্বর ওয়ার্ড ॥ ঐতিহ্যবাহী মিরপুরের শেনপাড়া, কাজীপাড়া ও শেওরাপাড়া এলাকা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডটি গঠিত। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নাগরিকের বসবাসই বেশি এ ওয়ার্ডে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এ ওয়ার্ডে ভোটার রয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৮৯৩ জন।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ এই ওয়ার্ডে মোট ১১ কাউন্সিলর প্রার্থী। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোঃ রেজাউল হক ভূইয়া (লাটিম), বিএনপি সমর্থিত মোঃ আক্তার হোসেন জিল্লু (এয়ারকন্ডিশনার)। এছাড়া, আহসান উল্লাহ চৌধুরী হাসান (কাঁটা চামচ), এস এম আবুল কাশেম (ঠেলাগাড়ি), জহিরুল ইসলাম (মিষ্টি কুমড়া), মোঃ আশরাফুজ্জাহান (টিফিন ক্যারিয়ার), মোঃ জাকির হোসেন (ঝুড়ি), মোঃ তারেক রেজা তুহিন (রেডিও), মোঃ রুবেল মিয়া (ট্রাক্টর), মোঃ সফিকুল ইসলাম (করাত) এবং মোঃ হুমায়ুন রশিদ (ঘুড়ি) রয়েছেন সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

নাগরিক সমস্য ॥ এ ওয়ার্ডেও রাস্তা ঘাট, আবর্জনা এবং মশার উপদ্রপ বড় সমস্যা। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনের কমিউিনিটি সেন্টার, খেলার মাঠ ও কবরস্থান নেই এ ওয়ার্ডে। রাতের বেলায় চুরি, ছিনতাই এবং গড়মে পানির সমস্যাও রয়েছে।

এ ওয়ার্ডের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন জনকণ্ঠকে বলেন, আমি দির্ঘ দিন ধরে এই এলাকায় বসবাস করি। ভোটও উঠেছে এখানেই। আমাদের ওয়ার্ডে রাস্তাঘাট খুব সরু। যার ফলে রাতে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটে। তিনি বলেন, এছাড়া এছাড়া অনেক নাগরিক সুবিধা থেকেই আমরা বঞ্চিত। আশা করছি নতুন কাউন্সিলর এই ওয়ার্ডের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন বলেও মন্তব্য করেন জামাল।

এ ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোঃ রেজাউল হক ভূইয়ার কাছে এলাকার সমস্যার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এলাকায় অনেক সমস্যাই আছে। আপনারাও দেখছেন আমিও দেখছি। তবে এ বিষয়ে এখনই কোন মন্তব্য করবো না। আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে আপনাদের ডেকে এনেই আমার পরিকল্পনা জানাব।

১৫ নম্বর ওয়ার্ড ॥ রাজধানীর আলুকদিটেক, বাইগারটেক, বারাইটেক, কালিবাড়ী, বালুঘাট, মানিকদি, মাটিকাটা, দেওয়ানপাড়া, ভাষানটেক এবং লালসরাই এলাকা নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডটি গঠিত। এ ওয়ার্ডে নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বাসিন্দাই বেশি। এ ওয়ার্ডের বাসিন্দার ৭৭ হাজার ৮১০ জন ভোটার।

প্রার্থী পরিচিতি ॥ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই ওয়ার্ডেও রয়েছে ১১ কাউন্সিলর প্রার্থী। এরা হলেন- আওয়ামী লীগ সমর্থিত মোঃ আজমত দেওয়ান (এয়ারকন্ডিশনার) এবং বিএনপি সমর্থিত মোঃ লিয়াকত আলী (মিষ্টি কুমড়া)। এছাড়া, আব্দুর রব মাইজ ভা-ারী (টিফিন ক্যারিয়ার), আব্দুল হালিম (করাত), মোহাম্মদ আলমাস উদ্দিন খান (ঘুড়ি), মোঃ আবুল হাসেম (লাটিম), মোঃ ইউনুছ বোখারী (রেডিও), মোঃ ইব্রাহিম খাঁন (ট্রাক্টর), মোঃ দুলাল আকন (ঠেলাগাড়ি), মোঃ বাবুল সিকদার (ঝুড়ি) এবং সালেক মোল্লা (ব্যাডমিন্টন র‌্যাকেট) রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে।

নাগরিক সমস্যা ॥ এ ওয়ার্ডের প্রধান সমস্যা ভাঙ্গারাস্তা, ড্রেনেজ ও আবর্জনা। এছাড়া খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার, জলাবদ্ধতা ও মশাও এ ওয়ার্ডের অন্যতম সমস্যা। এ ওয়ার্ডে বসবাসকারী চা দোকানদার মোঃ আয়নাল জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় অনেক ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়েছিটিয়ে পড়ে থাকে। এ জন্য অনেক দুর্গন্ধ ছড়ায়। এছাড়া মশারও অনেক উৎপাত। তিনি বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে যায়। তখন রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসাও সমস্যা হয়ে যায়। এ ওয়ার্ডের নতুন কাউন্সিলর হিসেবে যে নির্বাচিত হবেন তিনি তাদের সব সমস্যার সমাধান করবেন বলেই আশা আয়নালের।

এ বিষয়ে এ ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হালিম জনকণ্ঠকে বলেন, এলাকার অনেক সমস্যার মধ্যে কবরস্থান সমস্যা অন্যতম। এ এলাকায় কোন কবরস্থান নেই। কেউ মারা গেলে লাশ দাফন নিয়ে বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয়। তিনি নির্বাচিত হলে সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ করবেন বলেও মন্তব্য করেন।