২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা


স্টাফ রিপোর্টার ॥ মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা। আর এজন্য জাগতিক সব কাজকর্ম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন এলাকাবাসী। এমনই ঘচনা ঘটেছে ভারতে মেঘালয় রাজ্যের প্রত্যন্ত এক গ্রামে। কিছুদিনের মধ্যেই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে, তাই চাকরি বা পড়াশোনার মতো পার্থিব বিষয় নিয়ে ভেবে আর কি হবে! এমন ভাবনায় সব কিছু ছেড়ে দিয়েছে কিছু মানুষ। খবর বিবিসি অনলাইনের।

সূত্র জানায়, কোনও এক ধর্মযাজক নাকি তাঁদের বুঝিয়েছেন যে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আগে সব কিছু থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখতে। মেঘালয়ের পশ্চিম খাসি পর্বত জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম নঙথিলিউ। সেখানেই বছর কয়েক আগে ধর্মযাজকের বেশে কোনও এক ব্যক্তি হাজির হয়েছিলেন। তিনিই স্থানীয় আদিবাসী পরিবারগুলিকে বোঝান যে পৃথিবীর ধ্বংস আসন্ন।তাই এখন সব জাগতিক বিষয় থেকে নিজেদের সরিয়ে রাখা উচিত। ওই যাজকের কথায় পরিবারগুলি একরকম নিশ্চিত হয়ে একে একে চাকরি বা কাজকর্ম থেকে ইস্তফা দিয়ে দেন। এমনকী বাচ্চাদের স্কুল থেকেও ছাড়িয়ে নিয়েছেন তারা আর ব্যাঙ্কে যা জমানো টাকা পয়সা ছিল – সেসব তুলে ঘরে রেখে দিয়েছেন। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে এটা অন্ধ বিশ্বাস। কিন্তু কিছুতেই বুঝতে চাইছেন না এরা।

ওই গ্রামটি যে মইরাং এলাকায়, সেখানকার বিধায়ক মেতবাহ লিংদো বিবিসি বাংলাকে বলেছেন,“এই পরিবারগুলির মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে যে পৃথিবী ধ্বংস হতে চলেছে। তাই পৃথিবীর কোনও বিষয়েই তাদের আর কোনও আগ্রহ নেই। কেউ একজন ধর্মযাজক সেজে এসে এই পরিবারগুলিকে ভুল বুঝিয়েছে, সম্ভবত কোনও কায়েমি স্বার্থ এর পিছনে রয়েছে।“ তবে এই পরিবারগুলি যে শুধু ঘরে বন্দী হয়ে থাকে তা নয়, নিজেদের চাষের জমিতে যায় বা গ্রামের অন্যান্যদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলে। কিন্তু কারও কাছ থেকে কোনওরকম জাগতিক বিষয়ে সাহায্য বা পরামর্শ নিতে তারা অস্বীকার করছে। গণবন্টন ব্যবস্থার খাদ্য শষ্য নেন না এঁরা, নিজেদের ভোটার পরিচয়পত্রও নষ্ট করে ফেলেছেন। এমনকি গির্জাতেও যান না এঁরা।