২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বৈশাখে ঘরের সাজ


বাঙালীর রীতিনীতির ধরনটাই যেন আলাদা। একেকটি উৎসব-পার্বণ পালিত হয় একেক আঙ্গিকে। প্রতিটি উৎসবেই প্রাণের আবেগে মিলিত হয় সবাই। জাতিধর্ম নির্বিশেষে এক কাতারে এসে দাঁড়ায় সবাই। বাঙালীর তেমনি একটি চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। পুরো জাতি মেতে ওঠে বৈশাখী উৎসবে। আর আট-দশটা উৎসবের চেয়ে বৈশাখী উৎসবটা একটু ভিন্ন। ধীরে ধীরে উৎসবটি বাঙালীর অন্যতম উৎসবে পরিণত হয়েছে। প্রাণের উচ্ছ্বাসে, নাড়ির টানে একে অপরের ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে উদযাপন করে পহেলা বৈশাখ। প্রতিটি ঘরে চলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। বাঙালীর জীবনে বৈশাখ আসে নব জাগরণের বার্র্তা নিয়ে। সব কিছুতেই সাজ সাজ ভাব লক্ষ্য করা যায়। এ সময়টায় কে না চায় নিজকে রাঙাতে। সেই সঙ্গে ঘর রাঙাতেও ভুলেন না কেউ। নিজের ইচ্ছে মতো সাজিয়ে নিতে পারেন আপনার ঘর। সে যত বড় আয়তনেরই হোক।

ঘরটি আয়তনে বড়। চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো। সামনে আছে বারান্দা। ইট সিমেন্টের মিশালী গন্ধ নাকে বাজছে খুব জোরালোভাবে। সিমেন্টের আস্তর এখনও রংবিহীন। নতুন একটি ঘর। দেয়াল রং এখনও বাকি। সাজানো গোছানো হয়নি তার কোন ভাগ। এমনি একটি নতুন বাড়ির রং নিয়ে চিন্তিত। সে সমাধানে আমাদের এই আয়োজন।

রং হোক মনের মতো

দেয়ালের রং নাকি দেয়ালের আয়না। কেননা আগে দর্শনধারী পরে গুণ বিচারী। ঘরটি আকারে বড় তাই যে কোন রং খাপ খাবে সেখানে। কি গাঢ় কি হালকা? যেভাবে রাঙানো হোক; রং হতে হবে দৃষ্টিনন্দিত। তিনটি দেয়ালে যে কোন উজ্জ্বল রং দিয়ে বাকি দেয়ালে অপেক্ষাকৃত গাঢ় রং ব্যবহার করুন। অথবা এই দেয়ালটি সাজাতে পারেন পেইন্টিং, নকশিকাঁথা, ওয়াল হ্যাংগিং অথবা টেরাকোটা দিয়ে। নানা রঙে সাজাতে সোফার সামনের দেয়ালটি বেছে নিতে পারেন। ঘরের অন্যান্য সাজের থিম অনুযায়ী দেয়াল সাজান। টেরাকোটা ছাড়া মডার্ন সাজের সঙ্গে সব উপাদানই ব্যবহার করতে পারেন। টেরাকোটা শুধু বাঙালী সাজেই মিল। টেরাকোটা ব্যবহার করলে তার সঙ্গে স্পটলাইটও ব্যবহার করেন। বসার ঘরে বেছে নিতে পারেন বাঁশ, বেত বা কাঠের বাঙালী মোটিফের ফার্নিচার। তবে মনে রাখবেন-কাঠের যে কোন ফার্নিচার সব সাজেই মানানসই।

মেঝে কী টাইলস দিয়ে সাজাবেন?

ঝকঝক ফকফক টাইলস। মেঝের সাজে জনপ্রিয় টাইলস মিরর পলিশ। অনেক টাইলসে মার্বেল বা গ্রানাইট পাথরের হালকা ডিজাইন থাকে। এগুলোও ব্যবহার করতে সাজিয়ে বসানো দরকার। রাস্টিক টাইলসেও আসে নতুনত্ব। বসার ঘরের মেঝেতে টাইলসের ফাঁকে ফাঁকে গ্লাস দিয়ে দিন। আসবে তাতে অনন্যতা। গর্জিয়াস কিছু চাইলে গ্লাসের নিচে লাইট দিতে পারেন; এমনকি সিলিংও দিতে পারেন। বসার ঘরে ফুটে উঠবে আভিজাত্য ভাব। দৃষ্টিনন্দন কাজে ব্যবহার করতে পারেন টেরাকোটা। টেরাকোটার সাজে দেশীয় সাজ মানানসই। আধুনিক সাজে রাস্টিক ও গ্রানাইট টাইলসই ভাল যায়। আরও দৃষ্টিনন্দন করতে চান- তাহলে, ফার্নিচার ও পর্দা ও অন্যান্য সাজেও নিয়ে আসুন আধুনিকতা। সিলিংয়ে বা দেয়ালে কোন নকশা দিয়ে ডিজাইন করলে তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মেঝেতে নকশা করুন।

ফার্নিচার সাজবে বহুমাত্রায়..

ফার্নিচার সাজাতে গিয়ে পুরো থিমটা মাথায় রাখতে হবে। বসার ঘরের ফার্নিচার, বিশেষ করে সোফা নির্বাচনের আগে ঘরের আকার ও থিম মনে রাখতে হবে। বড় ঘর, মডার্ন সাজ মিলনসই। এক্ষেত্রে কাঠের ভারি নকশা বা গদি আঁটা সোফা রাখুন। চাইলে লেদার, ফোম বা কাপড়ের একটু ভারি সোফা রাখতে পারেন। ঘরের এক পাশে ডিভাইন রাখুন। ডিভাইন বা সোফার উচ্চতা সমান হবে। ডিভাইন, সোফা, শোকেস বা র‌্যাক হবে একই উপকরণের তৈরি। ঘরের অন্যান্য ফার্নিচার ও দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিল রেখে সোফা বা ডিভাইনের রং নির্বাচন করুন। কভার ও কুশন হবে ঘরের পর্দা, ফার্নিচার ও কার্পেটের নকশার সঙ্গে মিলিয়ে। আধুনিক সাজের সঙ্গে সোফা বা ডিভাইনে একটু হালকা রং (অফহোয়াইট, ব্রাউন, কালো, গোল্ডেন, মেরুন বা চকোলেট) বেছে নিন। অন্যদিকে, ট্র্যাডিশনাল লুকে বেত বা বাঁশের ফার্নিচারে একটু গাঢ় রং বিশেষ করে সবুজ, লাল ও গাঢ় নীল ব্যবহার করলে ভাল দেখাবে।

অবশেষে সিলিং

এখন বেশির ভাগ বসার ঘরেই ফলস সিলিং ব্যবহার হয়। মিনারেল ও জিপসাম বোর্ড ছাড়াও ফলস ডেকোরেটিভ সিলিং ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে কাঠ, কাচ ও মেটাল দিয়ে ডিজাইন করা হয়। ঘরের মেঝে ও দেয়ালের সঙ্গে মিলিয়ে ফলস সিলিংয়ের ডেকোরেশন করুন।

সঙ্গে আরও নানান সাজ

বসার বড় ঘরে এক কোণে ল্যান্ডস্ক্যাপ করা যায়। এ জন্য ভাল একটা কোণ বেছে নেন। দেয়ালে একটা বাঁশের চিক ঝুলিয়ে দিন। চাইলে শীতল পাটি বা মাদুরও ব্যবহার করতে পারেন। এবার কয়েকটি পটারিতে গাছের পাশাপাশি একটা মাটির চাড়িতে পানি রাখুন। তাতে কিছু রঙিন মোম ও ভাসমান ফুল দিন। ফুলসহ ফুলদানি বসার ঘরে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বাঙালী সাজের সঙ্গে মাটি, কাঠ, বাঁশ, মেটাল ও বেতের ফুলদানি ভাল মানায়। আধুনিক সাজে বেছে নিন সিরামিক, চীনা মাটি, ক্রিস্টাল কিংবা ফাইবারের ফুলদানি। বসার ঘরের কোণায় বড় পটারিতে লম্বা ফুলের স্টিক রাখুন।