২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ফ্লাইট সিডিউল ঠিক থাকবে, টিকেট নিয়েও হয়রানি থাকবে না ॥ কাইল হেউড


স্টাফ রিপোর্টার ॥ এখন থেকে আর কোন যাত্রী টিকেট নিয়ে হয়রানির শিকার হবেন না। বুকিংয়ের নামে কেউ কোন অসাধু বাণিজ্যও করতে পারবে না। ফ্লাইট ঠিক সময়ে যাবে, ঠিক সময়ে আসবে। বিমানের লোকসানী রুট কমিয়ে লাভজনক রুট বাড়ানো হবে। পেশাদার, সৎ, দক্ষ জনবলকে পুরস্কৃত করা হবে। দুর্নীতিবাজ ও অদক্ষরা শাস্তি পাবে। এভাবেই বিমানকে একটি মর্যাদাবান এয়ারলাইন্স হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

বিমানের নব নিযুক্ত ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইল হেউড তাঁর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই তথ্য প্রকাশ করেন।

বুধবার বিমানের সদর দফতর বলাকায় এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিকট ভবিষ্যতে কিভাবে বিমানকে একটি মর্যাদাবান এয়ারলাইন্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় সে সম্পর্কেও মতামত ব্যক্ত করেন।

শুরুতেই কাইল হেউড বিমানে যোগদানের আগে তাঁর দীর্ঘ এ্যাভিয়েশন ক্যারিয়ার জীবনের একটি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করার সুযোগ দেয়া হলে বিমানকে লাভজনক করা সম্ভব। যাত্রীদের কাছে নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ বাহন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপই নেয়া হবে বলে জানান।

কাইল হেউড বিমানের সবচেয়ে বড় দুর্নাম টিকেটিং বিড়ম্বনার অভিযোগ অচিরেই বন্ধ করতে বুকিং পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়ে বলেন, অনেক যাত্রী টিকেট বুকিং দিয়ে সিট ব্লক করে রাখেন। শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করেন। এতে এয়ারলাইন্সের যেমন ক্ষতি হয় তেমনি জেনুইন প্যাসেঞ্জাররা টিকেট পান না। তাই আমরা নতুন বুকিং সিস্টেম চালু করব। প্রধান নির্বাহী বলেন, দুর্নীতি বিমানের জন্য বড় ইস্যু নয়।

কাইল হেউড বলেন, বিমানের উড়োজাহাজের গড় বয়স প্রায় ১১ বছর। আগামীতে এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের গড় বয়স ৮-এ নেমে আসবে বলে আশা করছি। উড়োজাহাজের গড় বয়স বেশি হলে একটি এয়ারলাইন্সকে লাভজনক করা সম্ভব নয়।

একটি এয়ারলাইন্সের কিভাবে উন্নতি করতে হয় তা তার জানা আছে উল্লেখ করে কাইল বলেন, আমরা এরই মধ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এ বছরই গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত আসবে। কিভাবে আয় বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দিয়েছি। বিগত তিন মাসে কঠিন সব সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাত্রীদের কথা চিন্তা করে সাশ্রয়ী মূল্যে টিকেট ছেড়েছি। এ সময়কালে যাত্রী উপস্থিতি, ফ্লাইট সূচী ছিল সন্তোষজনক।

দীর্ঘদিনের পুরনো রুট ঢাকা-রোম কেন বন্ধ করা হলো জনকণ্ঠের এমন প্রশ্নের জবাবে কাইল বলেন,কারণ এই রুটের প্রতি ফ্লাইটে মিলিয়ন মিলিয়ন মার্কিন ডলার লোকসান হচ্ছিল। এ যাবত ১০ মিলিয়ন ডলার লোকসান গুনতে হয়েছে। এত লোকসান দেয়া সম্ভব নয়। এটা যেমন বন্ধ করা হচ্ছে তেমনি নতুন নতুন আঞ্চলিক রুট খোলা হবে। এয়ারলাইন্সের বহরে এ বছরের শেষে বোয়িং ৭৩৭ যুক্ত হলে আরও নতুন কিছু রুট খোলা নিশ্চিত। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও চীনে।

কাইল বলেন, এয়ারলাইন্সে বেশকিছু পরিবর্তন আনছি। নতুন যেসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তাতে আগামী জুলাই মাস থেকে এর দৃশ্যমান উন্নতি পরিলক্ষিত হবে।

বিমান কার্গো ফ্লাইটেও উন্নতি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই খাতে আয় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। কার্গোতে উন্নতির ওপর আরও জোর দেয়া হচ্ছে। যদিও সময়মতো ফ্লাইট ছাড়ার ক্ষেত্রে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে।

অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কাইলের পছন্দ তিনটি উড়োজাহাজ। তবে দুটি উড়োজাহাজ যথেষ্ট মনে করেন তিনি। অভ্যন্তরীণ রুটের ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজ পরিচালনার জন্য নতুন বৈমানিক তৈরির কাজটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান বিমানের প্রধান নির্বাহী।

সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মাম, কুয়ালালামপুর, কলকাতা রুটসমূহে ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রুট পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সৌদি আরবের প্রধান তিনটি শহর রিয়াদ, জেদ্দা, দাম্মামে বাড়তি ফ্লাইট যুক্ত হতে যাচ্ছে। কুয়ালালামপুরের ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়ে ৭ থেকে ১০টি করা হয়েছে। কলকাতায় প্রতি সপ্তাহে ১৪বার সংযুক্ত হতে যাচ্ছে বিমান। রিয়াদে ফ্রিকোয়েন্সি বাড়ানোর জন্য শুক্রবার যাচ্ছি।

নিউইয়র্ক রুট চালুর বিষয়ে কাইল হেউড বলেন, এটা বিমানের ইচ্ছা ও পরিকল্পনায় আছে। এটা করতে পারলে তো ভাল। কিন্তু এ রুট করতে হলে অনেক শর্ত পূরণ করতে হবে। সিভিল এ্যাভিয়েশনের ক্যাটাগরি টু থেকে ওয়ান করতে হবে। তারপর এফএএ-থেকে অনুমতি নিতে হবে। এটা সবারই জানা, নিউইয়র্ক ফ্লাইট খুবই ব্যয়বহুল। শুধু যাত্রী দিয়ে লাভ করা সম্ভব নয়। তারপরও বিমান অপেক্ষা করছে এসব শর্ত পূরণ কখন হয় সেটা দেখার।

উল্লেখ্য, গত ৫ জানুয়ারি বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন কাইল হেউড। এর ৯২ দিনের মাথায় তিনি এই সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

৯ বছর পর ঢাকা-বরিশাল রুটে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট ॥ স্টাফ রিপোর্টার বরিশাল থেকে জানান, দীর্ঘ নয় বছর পর বরিশালের আকাশে উড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ। বুধবার বিকেলে ঢাকা থেকে বেসরকারী বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে বহনকারী উড়োজাহাজটি বরিশাল বিমানবন্দরের রানওয়ে স্পর্শ করে। এর আগে মন্ত্রী ঢাকায় বিমানের ঢাকা-বরিশাল রুটটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। এই রুটে সপ্তাহে দুটি ফ্লাইট চলবে।

বিমানের এই রুটটি দীর্ঘদিন পর চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলবাসী নতুন করে আশান্বিত হয়েছে। বুধবার বিকেল চারটা ২১ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বিমানের ফ্লাইট যাত্রা শুরু করে। প্রথম ফ্লাইটে বেসরকারী বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, উপমন্ত্রী আব্দুলাহ আল ইসলাম জ্যাকব, এ্যাডভোকেট তালুকদার মোঃ ইউনুস এমপি, নুরন্নবী চৌধুরী শাওন এমপি, শওকত হাসানুর রহমান রিমন এমপি, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী নাসির উদ্দিন বাবুল বরিশালের উদ্দেশে রওনা হন। তারা চারটা ৪৭ মিনিটে বরিশাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ সময় বিমানবন্দরে তাঁদের ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ইসমতারা সাদেক, জেবুন্নেছা আফরোজ এমপি, এ্যাডভোকেট শেখ মোঃ টিপু সুলতান এমপি প্রমুখ।

বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হানিফ গাজী জানান, উদ্বোধনী দিনে বিকেল পাঁচটা ৪০ মিনিটে বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান আবার ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। বাংলাদেশ বিমানের বরিশাল কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মোঃ খলিলুর রহমান জানান, উদ্বোধনী দিনে ৭৪ আসনের বিমানের উভয় যাত্রার সবগুলো টিকেট বিক্রি হয়েছে।

জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য গত বছরের শেষের দিকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মিসর থেকে দুটি ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ নেক্সট জেনারেশন উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে। এরই মধ্যে উড়োজাহাজ দুটি বিমানের বহরে যুক্ত হয়েছে। মিসর থেকে লিজ নেয়া উড়োজাহাজ দুটি মাত্র ১৫শ’ ঘণ্টা উড্ডয়ন করেছে। উড়োজাহাজ দুটিতে আসন সংখ্যা ৭৪টি করে। উল্লেখ্য, ১৯৯২-৯৩ অর্থবছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় ১০০ ফুট প্রশস্ত ও ছয় হাজার ফুট দীর্ঘ বরিশাল বিমানবন্দর। ১৯৯৫ সালের ৩ ডিসেম্বর এ বিমানবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। ২০০৬ সালের শেষের দিকে লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়। গুটিয়ে নেয়া হয় বিমানের বরিশালের কার্যালয়টি।