২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

উৎসে কর প্রত্যাহার চান রফতানিকারকরা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রফতানির ওপর আরোপিত উৎসে কর ও নগদ সহায়তার ওপর অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলনকক্ষে প্রাক-বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে রফতানি খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এই দাবি জানান। এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেনÑ শুল্কনীতির সদস্য ফরিদ উদ্দিন ও আয়করনীতির সদস্য পারভেজ ইকবালসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসএম আমজাদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় কাঁচামাল সঙ্কটে পড়ে এই শিল্পখাত। এতে রফতানিকারকরা অভ্যন্তরীণ ও রফতানি বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছে। পণ্য উৎপাদন খরচ বহুগুণে বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতির কারণে রফতানিমূল্য হ্রাস পাওয়ায় কম মূল্যে পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। তাই এই খাতের উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।

নগদ সহায়তার ওপর পাঁচ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি বলেন, নগদ সহায়তা কোন লভ্যাংশ নয়। এটা খরচেরই একটি অংশ, যা রফতানি মূল্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সহায়তা করে থাকে। তাই নগদ সহায়তার ওপর অগ্রিম আয়কর কর্তন বন্ধ করা উচিত। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি তপন চৌধুরী বলেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নীতি সহায়তা প্রয়োজন। তাই টেক্সটাইল সেক্টরের কর অবকাশ সুবিধা আরও তিন বছর বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন তিনি।

প্লাস্টিকদ্রব্য প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি শাহেদুল ইসলাম বলেন, রফতানি আয়ের ওপর উৎসে কর থেকে সামান্য রাজস্ব আদায় হয়। তাই রফতানির ওপর উৎসে কর প্রত্যাহার করা উচিত। জুট গুডস এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস আহমেদ মজুমদার বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা পাটপণ্য রফতানি করেন। ২০১০ সালে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর পাটজাতপণ্য রফতানিকারকদের লাইসেন্স ফি ১১ থেকে ১৫ হাজার টাকা করেছে। তার ওপর গত বছর এ লাইসেন্স ফির বিপরীতে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করা হচ্ছে। এ খাতের ব্যবসায়ীরা যেহেতু পণ্য রফতানি করেন, তাই অন্যান্য রফতানিকারকের মতো সুবিধা এবং রফতানি প্রণোদনার দাবি জানান তিনি।