২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তিক্ত কথার তীর


একটা ঠুনকো অজুহাত নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট বিষ ছড়াতে বছর শুরুর প্রথম সপ্তাহ থেকেই সেই যে লাগাতার অবরোধ-কর্মসূচীর পাশাপাশি হরতাল-কর্মসূচী দিয়ে যাচ্ছে শততম দিন পূর্ণ না হলে বুঝি আর শেষ নেই। পেট্রোলবোমায় জীবনহানির বহর যত বাড়ুক, বিএনপির সুপ্ত বাসনার যৌক্তিক পরিণতির টিকিটুকুও যখন অদৃশ্য তখনও তারা যেন ঐশীতত্ত্ব পেতে টেলিফোনের পাশে বসে দিনক্ষণ গুণছেন সুদিনের। সংলাপ যদি করতেই হয় তবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল, সমর্থক বা পৃষ্ঠপোষকদের সঙ্গে কেন? যারা দেশের-দশের কথা ভাবে না, পেট্রোলবোমায় পুড়ে মানুষ মরায় যাদের কোন বিকার নেই, হরতাল-অবরোধে দেশের অর্থনীতি যাদের জন্য আজ ধ্বংসের মুখে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলে তাদের সঙ্গে সংলাপ কীসের? ক্ষমতা ভাগাভাগির জন্য নয়ত? হাসপাতালের বার্ন ইউনিটগুলোর বেডে এখনো শুয়ে কাতরাচ্ছেন শত-হাজার লোক। এরইমধ্যে কত শত পরিবার প্রিয়জন হারিয়ে আজ নিঃস্ব-রিক্ত হয়ে পড়েছে। লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেও তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। অথচ তারাই কিনা চায় সংবিধান সংশোধন, শর্তযুক্ত সংলাপ আর নির্বাচন।

কৈশোরে প্রাথমিক পাঠ্যবইয়ের গল্পে পড়েছিলাম যে, বনের রাজা বাঘের নিয়মিত আহারের পদ হিসেবে পর্যায়ক্রমে যখন ছোট্ট খরগোশের পালা আসে তখন সে বুদ্ধি খাটিয়ে কুয়োর স্বচ্ছ জলে প্রতিবিম্বিত মুখাবয়ব দেখিয়ে শক্তিমাণ বাঘের প্রাণনাশে সফল হয়ে লাফিয়ে লাফিয়ে গাইছিল ‘হুররে হুয়া কেয়া মজা, বনের রাজা কুপোকাত, ঝম্প দিয়ে প্রাণপাত’। আমজনতা হলো সেই খরগোশের মতো। ভোটের মৌসুম ছাড়া যাদের কদর খুব কম। এই সময়টাই তারা সেইসব জাঁদরেল বাঘ-সিংহদের কুয়োর জলে নামায়। কাউকে চুবিয়ে মারে, কাউকে বা সিংহাসনে বসান চ্যাংদোলা করে। সংলাপের ভাষা তাদের বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপে বাক্সময় হয়ে ওঠে তখনই।

স্বপন এককা

আদিবাসী সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মী

ঢাকা