২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সিটি নির্বাচনে বড় দুই দলের ব্যাপক প্রস্তুতি


মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের দুই বৃহত্তম নগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গন এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরব হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আপীল কার্যক্রম চলছে। আগামী ৯ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহার শেষে চূড়ান্ত তালিকা ঘোষিত হবে। পরদিন ১০ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ হবে। এ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি রীতিমতো আঁটঘাট বেঁধে নেমেছে। দুই দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দ্রুত সরব অবস্থানে চলে যাচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের মতো এ নির্বাচন রাজনৈতিক না হলেও তা ঠিকই রাজনৈতিক প্রেস্টিজ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে বলে প্রতীয়মান। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অরাজনৈতিক বলা হলেও মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থনেই এ নির্বাচন হয়ে আসছে। এবারও হচ্ছে। মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর সবই রাজনৈতিক সমর্থনের। তবে ব্যতিক্রমীও রয়েছে। যা হচ্ছে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র। তবে এ নির্বাচনের মূল আকর্ষণ মেয়রের পদ। ঢাকার দুই ও চট্টগ্রামের একটিসহ তিন কর্পোরেশনের মেয়র পদের জন্য যারা প্রার্থী হয়েছেন তার মধ্যে চট্টগ্রামের একজন ছাড়া আর সকলেই নতুন মুখ। চট্টগ্রামের সদ্য পদত্যাগকারী বিএনপি সমর্থিত মেয়র মনজুর আলম আবারও দলের সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন। তার মূল এবং একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ও নাগরিক কমিটি মনোনীত প্রার্থী চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আ জ ম নাছির উদ্দিন। রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে, দেশের এ দুই প্রধান নগরীর তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বা জোটের জন্য চ্যালেঞ্জেরও বটে। সরকারী দলের জন্য এ নির্বাচনে জিতলেও লাভ, হারলেও বড় কোন ক্ষতি নেই। তবে বিএনপির জন্য জিতলে হবে বড় ধরনের অর্জন। আর হারলে ইস্যু তৈরিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে সুযোগ আনবে। এ দেশের রাজনীতিতে নির্বাচনে জিতলে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে আর হারলে কারচুপি হয়েছে বলার রেওয়াজ দীর্ঘ সময়ের।

ঢাকাকে দু’ভাগ করে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবার প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাদেক হোসেন খোকা যেমন মেয়র পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন তেমনি চট্টগ্রামেও ২০১০ সাল থেকে আগামী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত বিএনপি সমর্থিত মেয়র মনজুর আলম মেয়র পদে আসীন ছিলেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে এবারের এ দুই নগরীর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ভিন্ন আঙ্গিকে আবর্তিত হয়েছে। সরকার নানা হিসাব-নিকেশ করে এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে সিগন্যাল দেয়ার পর তফসিল ঘোষিত হয়েছে। অন্য সময়ের মতো দীর্ঘ কোন সময় না দিয়ে এবার স্বল্পতম সময়ে এ নির্বাচন করে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শুরুতেই আওয়ামী লীগ এ নির্বাচন নিয়ে তৎপর হলেও বিএনপি কিছু সময় নীরব থেকে দলীয় চেয়ারপার্সনের সিগন্যাল নিয়ে সরব হয়েছে। সর্বশেষ প্রায় তিন মাস গুলশান কার্যালয়ে থেকে আন্দোলন চালিয়ে রবিবার নিজ বাস ভবনে ফিরে যাওয়ার নেপথ্যে এ নির্বাচনের বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে আলোচিত হচ্ছে। এ দুই নগরীর তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নিয়ে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোট আন্দোলনের নতুন ছক যে করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ কথা আগেভাগে বলে দেয়া যায় এ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করলে তারা তাদের আন্দোলনের বিজয় বলে আখ্যায়িত করবে। পাশাপাশি এ সরকারকে জনগণ আর দেখতে চায় না বলেও প্রচার চালাবে। তবে এক্ষেত্রে সরকার দল বিএনপি এ নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত নয় বলে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের ধারণা। কেননা, সরকারী দলের এতে প্রধান অর্জন হবে ২০ দলীয় জোট এতদিন যে বলে আসছিল এ সরকারের অধীনে তারা অংশ নেবে না এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হবে নাÑ ভবিষ্যতে সে বক্তব্য আর ধোপে টিকবে না। এটি হবে সরকারের জন্য বড় একটি অর্জন। এসব নিয়েই এগিয়ে আসছে তিনি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন। যা নিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম নগরীসহ পুরো দেশ। আগামী ২৮ এপ্রিল মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। এরপর সরকারী দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনৈতিক তৎপরতা কোন্ দিকে এগিয়ে যাবে তা-ই হবে দেখার বিষয়।

চট্টগ্রামে এক মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রী সরকারী দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছিরের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালানোর অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছেন চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মোঃ আবদুল বাতেন। এদিকে, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও এমপিরাও বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে স্ব স্ব দলের প্রার্থীদের জন্য এক ফ্লাটফর্মে চলে এসেছেন। এ নির্বাচন শুধু দু’দলের জন্য হার-জিতের নয়। আগামী রাজনীতির ভবিষ্যতও নির্ধারণ করে দিতে পারে ঢাকা ও চট্টগ্রামের তিন সিটি কর্পোরেশনের আসন্ন নির্বাচন।