২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কয়েক ঘণ্টার বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরে জলাবদ্ধতা


স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চৈত্রের শেষদিকে সোমবার ঝড়োহাওয়াসহ বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর নিম্নাঞ্চল। কয়েক ঘণ্টার বর্ষণে নগরজীবনে নেমে আসে চরম ভোগান্তি। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। নিচু এলাকার বাড়িগুলোর নিচতলায় ঢুকে পড়ে পানি। নগরী ও জেলার বোয়ালখালীতে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন তিনজন। এছাড়া আরও তিনজন আহত হন।

আবহাওয়া অধিদফতরের আমবাগান অফিসে সোমবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ৯৪ মিলিমিটার। আর পতেঙ্গা অফিসে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয় ৩৮ মিলিমিটার। বছরের প্রথম এ বর্ষণে নগরীর নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়, সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। দুপুরের দিকে ভারী বর্ষণ হওয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরতে চরম ভোগান্তিতে পড়ে। বহু অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে কাকভেজা হয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সন্ধ্যা সাতটায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত ছিল।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্র জানায়, চৈত্রের শেষে ও বৈশাখের প্রারম্ভে এ ধরনের বর্ষণ স্বাভাবিক। ঝড়োহাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সাগরে এ মুহূর্তে কোন লঘুচাপ কিংবা নিম্নচাপ নেই।

ঝড়োহাওয়াসহ বৃষ্টিপাত চলাকালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর ফিশারীঘাট এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণ হারান দুই জেলে। তারা হলেনÑ কবির হোসেন (৩০) ও মফিজ মিয়া (৩০)। এছাড়া সোনামিয়া ও আমির হোসেন নামের আরও দুজন আহত হন।

পটিয়া সংবাদদাতা জানান, দুপুরে বোয়ালখালীর চরণদ্বীপ এলাকায় বজ্রপাতে প্রাণ হারান আবদুল হালিম ভুলু (৪৩) নামে এক কৃষক। এছাড়া পটিয়া উপজেলায় বজ্রপাতে আহত হন জহির মিয়া নামে আরও একজন।

এদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নগরীর আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, সাগরিকা, হামজারবাগ, শুলকবহর, মোহাম্মদপুর, মুরাদপুর, নাসিরাবাদ, কাপাসগোলা, চকবাজার ও চাক্তাইসহ অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলোতে পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও রাস্তা তলিয়ে যায় হাঁটু থেকে বুক পানিতে। যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে রিক্সাই ছিল নগরবাসীর ভরসা। কোথাও কোথাও ভ্যানে চড়ে লোকজনকে চলাচল করতে দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে বাসার নিচতলা পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। জুবলি রোডে অবস্থিত অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ঢুকে যায় পানি। আরও বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: