২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সিটি নির্বাচন ওয়ার্ড পরিক্রমা


রাজন ভট্টাচার্য ॥ মায়াকানন থেকে আহাম্মদবাগের সীমানায় প্রবেশ করতেই রাস্তায় হাঁটুপানির বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। শীত, বর্ষা বলে কথা নয়। বছরজুড়ে জলজট লেগেই থাকে এখানে। একারণে দুর্ভোগ যেন স্থানীয় বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী। আশপাশের রাস্তায় পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় কোন ব্যবস্থা নেই। তাই বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। অলিগলি পথ ভাঙ্গাচোরা। অকারণে রাস্তায় স্পিড ব্রেকার দিয়ে নতুন করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে নাগরিক সমস্যার যেন শেষ নেই। তবে মূল সমস্যা জলাবদ্ধতা, ভাঙ্গাচোরা রাস্তা, উঠতি বয়সী অপরাধীদের দৌরাত্ম্য। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের জমে থাকা এসব সমস্যার সমাধান মিলেবে। যাঁরা জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেবেন তাঁকেই ভোট দেবেন সবাই। প্রার্থীরাও সকল নাগরিক সমস্যা সমাধানের মধ্য দিয়ে দলবাজিমুক্ত সুন্দর সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

চার নম্বর ওয়ার্ডে ১০ প্রার্থী ॥ যাচাই বাছাইয়ের পর চার নম্বর ওয়ার্ডে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা এখন ১০ জন। তাদের মধ্যে তিনজন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। একজন বিএনপির। অন্যদের রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও প্রকাশ্য নয়। জাতীয় পার্টি কিংবা অন্যান্য দলের কোন প্রার্থী নেই। সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ আলতাব হোসেন প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ মাসুদ হাসান ও মোঃ গোলাম মোস্তফা। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে আছেন সাবেক কমিশনার মোঃ গোলাম হোসেন। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন, এএইচএম কামাল উদ্দিন আহমেদ, মোঃ মোরসালিন, মোঃ সুন্দর আলী, মোঃ মোস্তফা কামাল, মোঃ রহমত আলী, শহিদুল ইসলাম শহীদ, সাইদ আকতার মাওলা, হারুন অর রশিদ। আলতাব হোসেন জানান, এলাকাবাসীর সমস্যা সমাধান করাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। বিগত দিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা বললেন গোলাম হোসেন।

পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড ॥ এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের প্রার্থী অনেক। সবাই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তারা জানিয়েছেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার আশায় দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। নির্বাচিত হয়ে জনস্বার্থে কাজ করে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারা। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, পাঁচ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আশ্রাফুজ্জামান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাশ, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য ইসমত তারিক বাবু, সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার মোশারফ হোসেন মঞ্জুর কন্যা তানিয়া হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা ইসমাইল হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গিয়াসউদ্দিন পলাশ। ওয়ার্ড বিএনপি আহ্বায়ক হামিদুল হক, বিএনপি নেতা হিরু, যুবদল নেতা সাদেকুল ইসলাম আজহার প্রার্থী হয়েছেন। জামায়াত থেকে প্রার্থী হয়েছেন ফারুকুল ইসলাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন, আসাদ মাহামুদ, জার্মান প্রবাসী মাকসুদ হোসেনও কাউন্সিলর পদে বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

ছয় নম্বর ওয়ার্ড ॥ এই ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংখ্যা ছয়জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য আবদুল মালেক আকন্দ, আইন বিষয়ক সম্পাদক রেজাউর রহমান রুমেল, আওয়ামী লীগ নেতা অলিউল্লাহ জুম্মন, সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি বি এম সিরাজুল ইসলাম ও সাবেক কমিশনার এনামুল হক সরদার। বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হয়েছেন, সাবেক কমিশনার ও ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি শামসুল হুদা, যুবদল নেতা কফিলউদ্দিন কফিল।

তিন ওয়ার্ডে যত সমস্যা ॥ উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিম বাসাবো, পূর্ব বাসাবো, ওহাব কলোনী, মাদারটেক ১ ও ২ মিলিয়ে চার নম্বর ওয়ার্ডের সীমানা। চুরি ছিনতাই, নাজুক পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা রাস্তার অভিযোগ স্থানীয় মানুষের। মাদারটেকের বাসিন্দা কাজল জানান, বৃষ্টি হলেই রাস্তাঘাটে পানি জমে। দেখার যেন কেউ নেই। তাঁর অভিযোগ, দিনের পর দিন ভাঙ্গাচোরা রাস্তায় দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে আমাদের চলতে হয়। নজর নেই কর্তৃপক্ষের। তেমনি জনপ্রতিনিধিরাও এলাকার সঙ্কট সমাধানে আন্তরিক নয়। রাজারবাগ উত্তর ও দক্ষিণ মিলিয়ে পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড। এরমধ্যে পড়েছে, আহাম্মদবাগ, মায়াকানন, ঠাকুরপাড়া, কদমতলাসহ বেশ কয়েকটি মহল্লা। এই ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩৮ হাজার ২২জন। দলবাজিমুক্ত সুন্দর সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী চিত্তরঞ্জন দাশ। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে যেন বিশেষ কোন বাহিনী সৃষ্টি হতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখব। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এলাকার খাবার পানি সঙ্কট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করে যাব। কদমতলার বাসিন্দা রনি জানান, বৌদ্ধ মন্দির থেকে পূর্ব রাজারবাগ পর্যন্ত রাস্তাটি সরু হওয়ার গাড়ি চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। যানজট লেগেই থাকে। দ্রুত রাস্তাটি প্রশস্ত করার দাবি জানান তিনি। রাজারবাগ অভয় বিনোদিনী স্কুলের পাশের বাসিন্দা মনির জানান, এলাকায় অপরিচ্ছন্নতা দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় খালটি এখন আর আগের মতো নেই। ছোট হয়ে গেছে।

উত্তর মুগদা, উত্তর মুগদা পূর্ব ও মধ্য অঞ্চল, দক্ষিণ মুগদাপাড়া ১ ও ২ মিলিয়ে ছয় নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে নাগরিক সমস্যার যেন শেষ নেই। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো-জলাবদ্ধতা। হাসপাতাল রোডে বৃষ্টি হলেই পানি জমে হাসপাতালে আগত রোগী ও সাধারণ মানুষের নাকালের শেষ থাকে না। সরু গলি, মাদকসেবীদের দৌরাত্ম্যে মাঝে মধ্যেই খুনখারাবি হচ্ছে। মাঝে মাঝে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

সাবেক কমিশনার শামসুল হুদা জানিয়েছেন, নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীর সমস্যাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন। সিরাজুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় নির্বাচন না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্কট বেড়েছে। নির্বাচিত হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব সঙ্কটের সমাধান করে এগিয়ে যেতে চাই।