১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

স্বামী পরিত্যক্তা মায়াবী এখন স্বাবলম্বী


আমি খুব অভাবি ঘরের মেয়ে। কিন্তু আমার মনের গহিনে কখনই কোন অভাব ছিল না। প্রতিদিন সকালে যখন আমার ঘুম ভাঙতো, তারপরও আমি জেগে জেগে ঘুমাতাম অন্তত আরও এক আধঘণ্টা। আর সেই ঘুমে আমি স্বপ্ন দেখতাম, কিভাবে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং নিজেকে স্বাবলম্বী করে গুছিয়ে তোলা যায়। আমার সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন এখনও হয়নি ঠিকই। তবে তার সফল বাস্তবায়ন করতে আর বেশি দেরি নেই-অকপটেই কথাগুলো বললেন রংপুরের অজপাড়া গাঁয়ের নির্যাতিত ও স্বামী পরিত্যক্তা এক নারী। মাত্র একটি বাইসাইকেল যৌতুকের দাবিতে যে স্বামী-শাশুড়ির নির্যাতন আর তালাকের শিকার হয়ে আজ নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন। নিজ মেধা বুদ্ধি সততা আর একাগ্রতায় গ্রামের এই নারী শুধু নিজেই প্রতিষ্ঠিত নয়, নিজ উদ্যোগে এখন প্রতিষ্ঠিত করছেন গাঁয়ের অবহেলিত আরও দশ নারীকে।

মায়াভরা চেহারার কারণেই হয়ত বাবা-মা নাম রেখেছিল মায়াবী আক্তার। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কিসামত মেনানগর মাস্টারপাড়া গ্রামের জোনাব আলীর চার ছেলে মেয়ের মধ্যে দ্বিতীয় তিনি। মা জ্যোৎস্না বেগম। বাবা অন্যের ধান ভাঙ্গা মিলে কাজ করে মাসে মাত্র ১৫০০ টাকা আয় করেন। নিজস্ব জমিজমা বলতে কিছুই নেই। সামান্য এই আয় দিয়েই তিনি তার ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চালানোর চেষ্টা করেন। বাবার কষ্টের বিষয়গুলো উপলব্ধি করেন মায়াবী। চেষ্টা করেন নিজে কিছু একটা করে নিজের খরচ চালিয়ে বাবাকে অন্তত খানিকটা আর্থিক সহায়তা করা। কিন্তু তার সে ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটবার আগেই বাবা ঘাড় থেকে বোঝা নামাবার লক্ষ্যে ১২ বছরের কিশোরী মায়াবীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাঁর বিয়ে ঠিক করেন পাশের গ্রামের জেয়ারুল রহমানের সঙ্গে। বিয়েতে ২০ হাজার টাকা যৌতুক দিতে হয় মায়াবীর বাবাকে। কিন্তু তারপরও থেমে থাকেনি যৌতুক নামের অভিশপ্ত দাবিটি। বিয়ের পরই মায়াবী জানতে পারেন তাঁর স্বামী পাক্কা জুয়াড়ি। মাত্র এক বছরের মাথায় স্বামী জেয়ারুল আরও কিছু টাকা এবং একটি বাইসাইকেল চেয়ে বসে মায়াবীর কাছে। কিন্তু মায়াবী বাবার অসামর্থ্যতার কথা ভেবে তাঁকে আর বলতেই সাহস পাননি।

মানিক সরকার মানিক, রংপুর থেকে