১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

নির্বাচকের পদ ছাড়লেন জয়সুরিয়া


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটের অন্তর্দ্বন্দ্ব কী তবে আরও ঘনীভূত হলো? দেশটির জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন সনাথ জয়সুরিয়া। শুক্রবার ক্রীড়ামন্ত্রী নবীন দিসানায়েকের কাছে পতত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। দুই দিন আগেই অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠন করে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির রোশানলে পড়ে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। এসএলসির ওপর দেশটির ক্ষমতাসীন মাহিন্দ্র রাজাপাকশে সরকারের অযাতি হস্তক্ষেপের বিষয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে আইসিসি। এ সময় জয়সুরিয়ার পদত্যাগ! যদিও লঙ্কান ক্রিকেটের সঙ্গে থাকতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ১৯৯৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য।

প্রথমে ৩১ মার্চ পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও বিশ্বকাপের জন্য জয়সুরিয়ার নেতৃত্বধীন নির্বাচক কমিটির মেয়াদ ৩১ এপ্রিল পর্যন্ত এক মাস বাড়ানো হয়। কিন্তু তার আগেই সরে দাঁড়ালেন তিনি। ‘শ্রীলঙ্কা দলের হয়ে কাজ করতে পেরে আনন্দিত ও গর্বিত। আমি প্রধান নির্বাচক থাকাকালে দল এশিয়া কাপ, টি২০ বিশ্বকাপ এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে। ভবিষ্যতে লঙ্কান ক্রিকেটের সেবা করার সুযোগ হলে আমি খুশি হব।’ পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন তিনি। এক সময়ের তুখোড় তারকার বাছাইয়ে (দল নির্বাচন) মাঠে লঙ্কানরা মন্দ করেনি। এশিয়া কাপ, টি২০ বিশ্বকাপ জয় বড় সাফল্য। ফলে বিশ্বকাপে আরও বড় স্বপ্নই দেখছিল দ্বীপদেশটি। নিউজিল্যান্ডের কাছে দ্বিপক্ষীয় সিরিজে বাজে খেললেও বিশ্বকাপে ঠিকই ঘুরে দাঁড়ায় তারা।

দারুণ খেলে গ্রুপ পর্ব পেরোয় এ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের দল। কিন্তু কোয়ার্টারে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বাজেভাবে হেরে বিদায় নিতে হয়। সুতরাং জয়সুরিয়া এতটা সরল ভাবে বললেও, ভেতরে বড় কোন ঝামেলা যে পাকিয়েছে তাতে সন্দেহ নেই। পাকিস্তানের মতো লঙ্কান ক্রিকেটের ওপর দেশটির সরকারের একচেটিয়া প্রভাবেই এমনটা হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। নিয়ম ভঙ্গ করে এসএলসি তাদের অন্তর্বর্তী কমিটি গঠন করায় রুষ্ট আইসিসি জানিয়ে দিয়েছে, প্রয়োজনে আইসিসিতে সদস্যপদ স্থগিতে হুমকি দেয়া হয়েছে! এর মধ্যে লঙ্কান বোর্ডকে চিঠিও দিয়েছেন আইসিসি প্রধান ডেভ রিচার্ডসন।

নয় সদস্যের নতুন কমিটির প্রধান স্বয়ং ক্রীড়ামন্ত্রী দিসানায়েকে। ক্রীড়ামন্ত্রী ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এ কমিটি গঠন করেছে সেটি আইসিসিকে বোঝাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে এরই মধ্যে আইসিসি প্রধান এন শ্রী নিবাসনের সঙ্গে কথা বলছেন লঙ্কান বোর্ড ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় উর্ধতন কর্তারা। নিয়ম অনুযায়ী শ্রীলঙ্কার সব ক্রীড়া সংস্থাকে নাকি ৩১ মার্চের মধ্যে বার্ষিক নির্বাচন শেষ করতে হয়, নইলে সংশ্লিষ্ট বোর্ড আপনি থেকে বাতিল হয়ে যায়। বিশ্বকাপ নিয়ে ব্যস্ততার জন্য এবার সেটি তারা করতে পারেনিÑ আইসিসিকে এমনটাই বোঝানো হচ্ছে। জয়সুরিয়ার পদত্যাগ বিষয়টিকে হয়ত আরও ঘোলাটেই করে তুলবে।