১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

মানুষ সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায় ॥ রওশন এরশাদ


সংসদ রিপোর্টার ॥ বিরোধী দলের নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, শত প্রতিকূলতার মধ্যে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছিল বলেই আজ দেশের গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয়েছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। কিন্তু হরতাল-অবরোধে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মানুষ চায় সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িকতামুক্ত একটি গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। এটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। কেন আমরা সকলে একত্রে বসে দেশের সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারছি না? সেটাই আজ বড় প্রশ্ন। তিনি অবিলম্বে ময়মনসিংহ বিভাগকে কার্যকরের দাবি জানান।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সমাপনী আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। তিনি বলেন, দশম জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয়েছে। গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। দশম জাতীয় নির্বাচন হয়েছে বলেই বিশ্বের দুটি সর্বোচ্চ সংসদীয় সংস্থায় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবের হোসেন চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। এতে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। সারাবিশ্ব মন্দায় ভুগলেও আমাদের দেশকে সেই মন্দা স্পর্শ করতে পারেনি, তার প্রধান কারণ আমাদের শ্রমিকদের পাঠানো বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্সের কারণে।

বন্ধু বদলানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যায় না উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে অবশ্যই আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করতে হবে। অবিলম্বে তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যেভাবে খরস্রোতা সব নদীর পানি শুকিয়ে যাচ্ছে, তাতে পদ্মা সেতু নির্মাণের পর হয়তো দেখা যাবে নদীতে পানি নেই। নদীগুলোকে বাঁচানো না গেলে বাংলাদেশকে বাঁচানো যাবে না। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত খাদ্যে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিবছর ৪৫ লাখ লোক বিষাক্ত খাবার খেয়ে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশের জনগণকে বাঁচাতে হলে খাদ্যে কারা বিষ মেশাচ্ছে তাদের ধরে কঠোর শাস্তি দিতে হবে। মানুষের বিবেককে জাগাতে হবে।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে গোটা বিশ্বই এগিয়ে চলেছে, সারাবিশ্ব এখন আমাদের নাগালের মধ্যে। বাংলাদেশও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ইন্টারনেটের স্প্রীড একটু বাড়াতে হবে। তিনি অবিলম্বে ঘোষিত ময়মনসিংহ বিভাগের কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়ে বলেন, জীবদ্দশায় আমি ময়মনসিংহকে বিভাগ দেখে যেতে চাই। বৃহত্তর ময়মনসিংহবাসী এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে দু’হাত তুলে দোয়া করছেন।

বিরোধী দলের নেতা আরও বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আমরা সবসময় গর্ববোধ করি। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাদের অপরিসীম অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘে শান্তি মিশনে তাঁদের কর্মকাণ্ড সারাবিশ্বেই প্রশংসিত হয়েছে, যা আমাদের দেশের গৌরব। অবকাঠামোগত উন্নয়ন গড়ে তুলতে পারলে বিদেশী বিনিয়োগ অনেকগুণ বেড়ে যাবে, দেশের চিত্রই পাল্টে যাবে। মাদকের ছোবল থেকে যুব সম্প্রদায়কে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকের মরণ ছোবল থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে না পারলে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে না।