১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

আজ মোহাম্মদ হানিফের জন্মবার্ষিকী


স্টাফ রিপোর্টার ॥ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ ও স্নেহভাজন, জনতার মঞ্চের রূপকার, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র ও ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফের ৭১তম জš§বার্ষিকী আজ। ১৯৪৪ সালের এই দিনে পুরনো ঢাকার সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আবদুল আজিজ, মাতা মুন্নি বেগমের পরিবারে মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন সবচেয়ে ছোট ছেলে। ১৯৬৭ সালে ঢাকার প্রখ্যাত পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আলহাজ মাজেদ সরদারের কন্যা ফাতেমা খাতুন সঙ্গে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ১ পুত্র ও ২ কন্যার জনক।

যৌবনের শুরু থেকে জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত মোহাম্মদ হানিফ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচল। মোহাম্মদ হানিফের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল তিনি বঙ্গবন্ধুর খুব কাছে থেকেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। মোহাম্মদ হানিফ ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে রাজনীতি শুরু করে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। ছয় দফা মুক্তি সনদ প্রণয়ন ও প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তীতে সকল আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে প্রথম কাতারে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মোহাম্মদ হানিফ।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুর তাঁর ঢাকা-১২ আসন ছেড়ে দিয়ে তাঁকে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত করিয়ে আনেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে হুইপেরও দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ হানিফ। ১৯৭৬ সালে মোহাম্মদ হানিফ ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ৩০ বছর এ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে লক্ষাধিক ভোটের ব্যাবধানে ঢাকার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্বে ’৯৬-এর মার্চের শেষ সপ্তাহে ‘জনতার মঞ্চ’ গঠন করে আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্য এটি টার্নিং পয়েন্ট তৈরি করেন।

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের শেখ হাসিনার ওপর নারকীয় গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানবঢাল রচনা করে তাঁর প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষার প্রাণান্তর চেষ্টা করেন মোহাম্মদ হানিফ। একের পর এক নিক্ষিপ্ত ভয়াল গ্রেনেডের সামনেও মানবঢাল রচনা করে বঙ্গবন্ধর কন্যা শেখ হাসিনাকে প্রাণে রক্ষা করতে পারলেও ঘাতক স্পিøন্টারের আঘাতে মারাত্মক আহত হন মোহাম্মদ হানিফ। ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তাঙ্গনে এক সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতা দেয়ার সময় তিনি হƒদরোগে আক্রান্ত হন। ব্যাঙ্ককে র্দীঘ দিন চিকিৎসা শেষে ঢাকায় ফিরে ২০০৬ সালের ২৮ নবেম্বর রাতে ৬২ বছর বয়সে ঢাকার এ্যাপোলো হাসপাতালে মৃৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

মোহাম্মদ হানিফের ৭১তম জš§বার্ষিকী উপলক্ষে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আজ কবর জিয়ারত, দোয়া, মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। নন্দিত এই নেতার একমাত্র পুত্র ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একক মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সাঈদ খোকন তাঁর পিতার জš§বার্ষিকীতে দেশবাসীর দোয়া কামনা করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: