১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হাজী সেলিমের পদত্যাগ নিয়ে সংসদে হাস্যরস!


সংসদ রিপোর্টার ॥ সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ নিয়ে সোমবার জাতীয় সংসদে আবারও হাস্যরস সৃষ্টি করলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম। তবে আদৌ তিনি স্পীকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন কিনা, তা স্পষ্ট হয়নি। বরং স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাঁর পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি কার্যত অস্বীকার করে হাজী সেলিমের উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন- ‘মাননীয় সংসদ সদস্য, আপনার পদত্যাগপত্রটি কোথায়?’ এ সময় পুরো অধিবেশনে হাসির রোল পড়ে যায়।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সোমবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরপর্বে সম্পূরক প্রশ্নের জন্য ফ্লোর পান মাদ্রাজ থেকে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফেরা হাজী মোহাম্মদ সেলিম। এ সময় স্পীকারের উদ্দেশে হাজী সেলিম বলেন, ‘হায়রে কপাল মন্দ, আপনি (স্পীকার) থাকতে আমার মেয়র পদটি বন্ধ। মাননীয় স্পীকার, আপনি যদি আমার পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করতেন তাহলে এখানে থাকতাম না। থাকতাম ঢাকা দক্ষিণে।’

এ প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দিতে গিয়ে স্পীকার বলেন, “মাননীয় সদস্য, আপনার পদত্যাগপত্রটি আসলে কোথায়?’ জবাবে হাজী সেলিম বলেন, ‘মাননীয় স্পীকার, পদত্যাগপত্র দিয়েছিলান। আপনি গ্রহণ করেননি। আরেকজন ছিঁড়ে ফেলেছেন।’ তবে কে ছিঁড়ে ফেলেছেন তার জবাব দেননি হাজী সেলিম। এরপর আর বিতর্কে না গিয়ে স্পীকার বলেন, আপনি প্রশ্ন করুন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ মার্চ জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে হাজী সেলিম বলেছিলেন, এই সংসদে আমি আর থাকব না। দুই-এক দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করব। মূলত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিতেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। হাজী সেলিমের দাবি, ওইদিন রাতেই স্পীকারের কাছে দেখা করে তিনি তাঁর পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন। স্পীকার তা গ্রহণ করেননি।

সেদিন রাতেই স্পীকারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে জানা গেছে, হাজী মোহাম্মদ সেলিমের কোন পদত্যাগপত্র স্পীকারের কাছে জমা দেয়া হয়নি। পরে রাজনৈতিক সমঝোতায় হাজী সেলিম মেয়র পদে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন এবং চিকিৎসার জন্য মাদ্রাজে যান। দক্ষিণে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের সমর্থন পান সাঈদ খোকন। ফলে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তা জমা দেননি হাজী মোহাম্মদ সেলিম। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ হাইকমান্ডের নির্দেশে মেয়র পদে নির্বাচন না করে সংসদ সদস্য হিসেবেই থেকে যান হাজী সেলিম।