১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

কলাপাড়ায় শ্রমিকদের মজুরি বকেয়া


নিজস্ব সংবাদদাতা, কলাপাড়া, ২৯ মার্চ ॥ রাস্তায় মাটি কাটার মজুরিসহ সঞ্চয়ের টাকা পরিশোধের দাবিতে শত শত নারী-পুরুষ রবিবার কলাপাড়ায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশসহ উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে। দুপুরে উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নের চার শতাধিক শ্রমিক এ বিক্ষোভ সমাবেশ করে। শেষে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগপত্র প্রদান করে। এ সময় শ্রমিকরা প্রকল্প বাস্তবায়নকারী মুসলিম এইড ইউকে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচীর ‘ই আর প্লাস-দুর্যোগ ও জলবায়ু প্রভাব সহন’ প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধুলাসার, ডালবুগঞ্জ ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের আড়াই হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক দুই বছরের চুক্তিতে বিভিন্ন রাস্তা মেরামত ও খাল খননের কাজ করে। এলজিইডির তদারকিতে বেসরকারী সংস্থা মুসলিম এইড ইউ কে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। শ্রমিকদের দাবি দুই বছরের চুক্তি শেষে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা এককালীন দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে প্রকল্পের কাজ শেষে মাত্র এক হাজার শ্রমিককে এ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ কারণে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে শ্রমিকরা। কাউয়ার চর গ্রামের মতিয়া বেগম জানান, দুই বছর রাস্তা ও খালের মাটি কেটেছেন। তার ঘর মেরামতের জন্য সঞ্চয়ের টাকা ফেরত নিতে এসেছেন। একই ভাষ্য কোহিনুর বেগমের।

মিনারা বেগম জানান, তার দলের ২৫ জনের প্রত্যেকের তিন/চার হাজার টাকা জমা করেছেন। এখন কোন টাকা দেয়া হচ্ছে না। ডালবুগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান সালাম সিকদার জানান, তার ইউনিয়নে ৮৫০ জন শ্রমিক কাজ করলেও ৩৪০ জনকে টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কিন্তু যারা কাজ করেছে সবাই দুস্থ। মুসলিম এইড যে তালিকা তৈরি করেছে তাতে অনেক গরিবদের বাদ দিয়ে স্বাবলম্বীদের নাম রয়েছে বলে তার অভিযোগ। একই দশা ধুলাসার ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের।

মুসলিম এইড ইউ কে পটুয়াখালী কো-অর্ডিনেটর মোঃ এজাহার আহমেদ জানান, তারা মাঠ পর্যায়ে সার্ভে করে তালিকা করেছেন। সরকার প্রথম দফায় এক হাজার জনকে তাদের পাওনা পরিশোধের চিঠি দিয়েছে। তারা সেই অনুযায়ী কাজ করছেন। এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল মন্নান জানান, নিয়ম অনুযায়ী তারা কাজের তদারিক করেছেন। গোটা প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে মুসলিম এইড ইউকে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে এই প্রকল্প শুরু হলেও শেষ হয় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে। কিন্তু গত মাসে এক হাজার শ্রমিককে তাদের পাওনা পরিশোধের জন্য সরকারী এক চিঠি পেয়ে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুস্থ, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও অস্বচ্ছল এক হাজার শ্রমিকের পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্র্তা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, সরকারী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব তালুকদার জানান, শ্রমিকরা তার অফিসে এসে তাদের অসহায়ত্বের কথা বলেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।