২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তিউনিসিয়ায় জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে জনতা


তিউনিসিয়ায় জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে হাজার হাজার মানুষ। তিউনিসিয়ার জাদুঘরে হামলার প্রতিবাদে রবিবার তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিসে প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বে মিছিলে অংশ নেন হাজার হাজার তিউনিসীয়। মিছিলে যোগ দিয়েছেন কয়েক বিদেশী শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিও। ওই জঙ্গী হামলায় ২২ পর্যটক নিহত হন। খবর এএফপির।

জাতীয় বার্দো জাদুঘরে ১৮ মার্চ দুই বন্দুকধারীর হামলা দেশটির জন্য এক মারাত্মক আঘাতস্বরূপ। ইসলামিক স্টেট (আইএস) গ্রুপ এ হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। তিউনিসিয়া হচ্ছে আরব বসন্তের সূতিকাগার এবং পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল ব্যাপকভাবে। নিহত পর্যটকরা হচ্ছেনÑ ইতালি, জাপান, ফ্রান্স, স্পেন, কলম্বো, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, পোল্যান্ড ও রাশিয়ার নাগরিক। তিউনিসিয়ার এক পুলিশ সদস্যও গুলিতে নিহত হয়েছেন।

হামলায় আহত এক ফরাসী নারী শনিবার মারা যাওয়ার পর নিহতের সংখ্যা ২২শে পৌঁছেছে। মিছিল গ্রীনিচমান সময় ১০টার দিক ববিসাদুন স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে জাদুঘরে গিয়ে শেষ হয়। নিহতদের স্মরণে জাদুঘরে একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করার কথা রয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী সালমা এলুমি রেকিক শনিবার টেলিভিশনে বলেছেন, এ হামলা আমাদের জন্য মারাত্মক আঘাতস্বরূপ। কিন্তু এ জন্য শেষ হয়ে যাব না আমরা। আমরা আরও শক্তিশালী হবো। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ, পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ব্রোনিসল কোসোরস্কি, ফিলিস্তিনী প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস, ইতালির প্রধানমন্ত্রী ম্যাট্টিও রেনজি, আলজিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদেল মালেক সেল্লাল, স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, জোস ম্যানুয়েল গ্রাসিয়া-সার্জালো ও নেদারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বার্ট কোয়েন্দ্রার্স মিছিলে অংশ নিয়েছেন বলে খবরে বলা হয়েছে। তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বেজি কেইড মিছিলে ব্যাপকসংখ্যক লোক সমাগমের জন্য এর আগে আহ্বান জানিয়েছেন।

বার্ডো জাদুঘর স্কুল-শিক্ষার্থী ও ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শুক্রবার খোলা ছিল। এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন। এখনও দেয়ালে বুলেটের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এক জার্মানছাত্রী লেনা বটলেঙার (১৭) বলেন, ওই হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছি আমি।

তিউনিসিয়ার দীর্ঘ সময়ের লৌহমানব জাইন আল আবেদীন বেন আলী ২০১১-এর পতনের পর ইসলামপন্থী, চরমপন্থীদের উত্থান হয় দেশটিতে। কিন্তু আরব বসন্তের পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় লিবিয়া, সিরিয়া ও ইয়েমেনের তুলনায় দেশটির অগ্রগতি ঈর্ষণীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।