২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

গ্যাস অনুসন্ধান কনোকো ও স্টেটঅয়েলকে অনুস্বাক্ষরের আমন্ত্রণ


রশিদ মামুন ॥ গভীর সমুদ্রে তিনটি ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে চুক্তি অনুস্বাক্ষরের জন্য আন্তর্জাতিক তেল গ্যাস কোম্পানি কনোকো ফিলিপস ও স্টেটঅয়েল গঠিত যৌথ মূলধনী কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে পেট্রোবাংলা। তবে কনোকো ফিলিপস চুক্তির আগে আরও এক দফা সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে আবারও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির তৎপরতা চালাচ্ছে কোম্পানিটি। এর আগেও গভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আবদার করে কনোকো ফিলিপস। সরকার তাদের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় ব্লক দুটিতে কাজের মাঝপথে সরে যায় কনোকো। তাছাড়া অগভীর সমুদ্রে দরপত্রে কাজ পেলেও দাম না বাড়ালে চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানায় তারা।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, গত বুধবার সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে কনোকো ফিলিপস ও স্টেটঅয়েলকে পিএসসি অনুস্বাক্ষরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কিন্তু এর আগে থেকেই সরকারের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে কনোকো ফিলিপস ও স্টেটঅয়েল। এ বিষয়ে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে কোম্পানিটি যোগাযোগও করছে। দিনক্ষণ ঠিক না হলেও সত্বরই ওই আলোচনা হবে বলে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে।

চুক্তি অনুস্বাক্ষরের আগে এ ধরনের আলোচনা কেন? জানতে চাইলে জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা দামের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে চায়। ভারত এবং মিয়ানমারের গভীর সমুদ্রে গ্যাসের যে দাম রয়েছে সেই রকম দাম চাইছে তারা। এর আগেও একই অজুহাতে তারা ১০ এবং ১১ নম্বর ব্লকে কাজের মাঝপথে তা থামিয়ে দেয়।

পেট্রোবাংলার একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের তারা কিছু জানায়নি। এর আগেও যখন দাম বৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালিয়েছিল তখন পেট্রোবাংলাকে এসব বিষয়ে অন্ধকারে রাখা হয়। এসব বিষয়ে সরাসরি তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে থাকে। তবে চাইলেই জ্বালানি বিভাগ দাম কম-বেশি করতে পারবে না। এ জন্য সরকারের মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

সম্প্রতি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সমুদ্রের তিন ব্লকে চুক্তি অনুস্বাক্ষর নীতিগত অনুমোদন দেয়। সংশোধিত উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) ২০১২ এর আওতায় গভীর সমুদ্রের ব্লক ডিএস-১২, ডিএস-১৬ ও ডিএস-২১ এর জন্য মনোনীত হয় কোম্পানিটি।

পেট্রোবাংলা বলছে সংশোধিত পিএসসির আওতায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। চার দশমিক দুই ডলার থেকে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দর সাড়ে ছয় ডলার করা হয়েছে। এরপর বিদেশী কোস্পানিগুলো আর আপত্তি তুলবে না বলে সরকারের পক্ষ থেকে মনে করা হয়েছিল; কিন্তু এখন এসে তাতেও আপত্তি করছে।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে গভীর সমুদ্রে সাড়ে আট ডলার আর মিয়ানমারে তা নয় ডলার রয়েছে। তবে কর্পোরেট ট্যাক্স এবং অন্যান্য বিষয়ে বাংলাদেশ আইওসিগুলোকে যে ছাড় দেয় তা ওই দেশ দুটি অনেকখানি দেয় না। তবে এসব বিবেচনার পরও তুলনামূলকভাবে আমাদের এখানে গ্যাসের দাম কিছুটা কমই মনে করছে আইওসিগুলো। এজন্য সাগরে তেল গ্যাস অনুসন্ধানে কোন কোম্পানিকে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রস্তাবে কনোকো-স্টেটঅয়েল জানিয়েছে, ১২ নম্বর ব্লকে তিন হাজার ৪১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ করা হবে। দ্বিমাত্রিক জরিপে ভাল ফল পেলে ত্রিমাত্রিক জরিপ করবে তারা। এছাড়া একটি অনুসন্ধান কূপ খননের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ১৬ নম্বর ব্লকের ক্ষেত্রে দুই হাজার ৭৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং ২১ নম্বর ব্লকের ক্ষেত্রে তিন হাজার ৩৭৬ বর্গকিলোমিটার জরিপ করবে তারা। প্রতিটি ব্লকে একটি অনুসন্ধান কূপ খননসহ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৯ মিলিয়ন ডলার করে।

প্রসঙ্গত ২০১১ সালের ১৬ জুন সাগরের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে তেল গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে পিএসসি সই করে পেট্রোবাংলা। দুটি ব্লকে অনুসন্ধান চালিয়ে ১১ নম্বর ব্লকের একটি অংশে গ্যাস স্তর খুঁজে পায় তারা। এতে চার ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুদ আছে বলে ধারণা দেয় কোম্পানিটি। তবে এটিকে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য মনে হয়নি কনোকোর। তাই গ্যাসের দাম বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। যদিও দ্বিমাত্রিক জরিপে প্রাপ্ত গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা মাত্র ২০ শতাংশ বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছিল কোম্পানিটি।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, পিএসসি ২০০৮ এর আওতায় গভীর সমুদ্রের ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকে কাজ করে মার্কিন কোম্পানি কনোকো ফিলিপস। চুক্তি অনুযায়ী তাদের কাছ থেকে গ্যাস কিনে নেয়ার কথা পেট্রোবাংলার। তাতে প্রতি ইউনিটের দাম রাখা হয় ৪ দশমিক ২ ডলার। সম্প্রতি গ্যাসের দামে আপত্তি জানিয়ে ব্লক দুটি ছেড়ে দিয়েছে তারা। এরপর পিএসসি-২০১২ এর আওতায় অগভীর সমুদ্রের একটি ব্লকে দরপ্রস্তাব দেয়। মনোনীত হলেও পরে চুক্তি করতে রাজি হয়নি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: