১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সচল অর্থনীতি অচল অবরোধ


চলমান নাশকতা, সহিংসতা, নৃশংসতা, মানুষ হত্যা এবং ভয়ভীতি ও অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অর্থনীতির গতি প্রবহমান রয়েছে। অর্থনীতিকে স্থবির করে দেশকে বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দেয়ার জন্য প্রায় তিন মাস ধরে বিএনপি-জামায়াত জোট যে জঙ্গীপনা ও সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে তা সামান্য ধসও নামাতে পারেনি। মানুষ হত্যা, বাস পোড়ানো ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে পর্যুদস্ত করা ছাড়া তাদের নিষ্ঠুর কর্মসূচী কোথাও তেমন কোন বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গত তিন মাসে মূল্যস্ফীতি বিদেশে শ্রমিক রফতানি, এডিপি বাস্তবায়ন, রফতানি আয়, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, রাজস্ব আয়, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান এসএমই ঋণ বিতরণÑ এসব ক্ষেত্রে হরতাল-অবরোধের কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। গত ৬ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে নজিরবিহীনভাবে যে নাশকতা অব্যাহত রেখে যানবাহন পুড়িয়ে, মানুষ মেরে কর্মসূচী পালন করা হচ্ছে তা জনরোষে ক্রমশ উবে যাচ্ছে। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত করে দিয়ে পণ্যমূল্য অসহনীয়ভাবে বাড়ানোর লক্ষ্যেই সন্ত্রাসবাদীদের কোন প্রচেষ্টাই সফল হয়নি। খোদ রাজধানী শহরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়েনি বরং কোন কোন ক্ষেত্রে কমেছে। এমনকি পণ্য সরবরাহেও ঘাটতি হয়নি। পেট্রোলবোমায় ব্রয়লার মুরগি, মাছের ট্রাক পুড়িয়ে দিলেও যান চলাচল বন্ধ থাকেনি। মানুষ হত্যার নারকীয় প্রক্রিয়ায় জনজীবনে ভয় ও শঙ্কা তৈরি করতে পারলেও বাজার ব্যবস্থাপনাকে বিপর্যস্ত করতে পারেনি। দেশের সর্বত্র হাট বাজারেরও কেনাবেচা প্রায় স্বাভাবিক ছিল। বাজারে সরবরাহ সমস্যা না হওয়ার কারণে পণ্যমূল্য যেমন বাড়েনি তেমনি নগরবাসীর বাজার খাতে বাজেটও বাড়েনি। বিভিন্ন পণ্যের অত্যধিক ফলন হয়েছে এবার। নাশকতার কারণে তারা যথাযথ মূল্য পায়নি। তবে ভোক্তাকে অতিরিক্ত মূল্য দিতে হয়নি।

বিএনপি-জামায়াত জোট তাদের হীন উদ্দেশ্য সাধনে দেশকে ধ্বংস করার বিরাট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামলেও তাতে কামিয়াব হতে পারছে না। যদি তাদের এই অপকর্মসূচী না থাকত তবে গত তিন মাসে দ্রব্যমূল্য আরও হ্রাস পেত, মানুষ আরও উন্নত জীবনের রূপরেখা খুঁজে পেত। শতাধিক মানুষকে প্রাণ হারাতে হতো না। নাশকতাকারীদের উপলব্ধি করা উচিত জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে আর যাই হোক জয়ী হওয়া যায় না। দেশবাসী আশা করে এসব গণবিরোধী অবরোধ-হরতাল প্রত্যাহার করে বিএনপি স্বাভাবিক রাজনীতি ফিরে আসবে আর জনগণ সুস্থ স্বাভাবিক ও উন্নত জীবন চর্চায় নিবেদিত হতে পারবে। জনগণের মনের ভাষা বোঝার আশা যেন তারা জলাঞ্জলি না দেয়।