২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হিলারির ই-মেইল স্ক্যান্ডাল


আগামী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হতে চান হিলারি ক্লিনটন। এই সিদ্ধান্ত তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন আগামী এপ্রিলের প্রথম দিকে। তারপরই শুরু হবে প্রাইমারির জন্য প্রস্তুতিপর্ব ও প্রচারাভিযান। কিন্তু ইতোমধ্যে হিলারিকে ঘিরে অনেক স্ক্যান্ডাল জন্ম নিয়েছে। সেগুলো নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে হোক আর অন্যত্র হোক নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। প্রশ্নগুলো এমনি একটা সময়ে তাঁর জন্য বড়ই বিব্রতকর। তথাপি হিলারি সেগুলো মোকাবেলা করে চলেছেন। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে, এসব কেলেঙ্কারির ধাক্কা হিলারি কি শেষ পর্যন্ত সামাল দিতে পারবেন? এগুলো তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার পথে অনতিক্রম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না তো?

স্ক্যান্ডালগুলোর মধ্যে মস্তো এক স্ক্যান্ডাল হলো- পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইল এ্যাকাউন্টের ব্যবহার। এই এ্যাকাউন্ট দিয়ে তিনি পররাষ্ট্র দফতরের কাজকর্ম চালাতেন। অথচ ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি পরিহার এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য আইনে আছে যে, পররাষ্ট্র দফতরের কর্মকর্তাদের সরকারের বরাদ্দ করা ই-মেইল এ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে যাতে করে রেকর্ডপত্র ঠিকমতো রাখা যায়। হিলারি তাঁর গোটা মেয়াদে ব্যক্তিগত ই-মেইল দিয়ে সমস্ত সরকারী চিঠিপত্রের আদান-প্রদান ও যোগাযোগ চালিয়ে গেছেন। তাঁর স্টাফরা সরকারী সার্ভারে এই ব্যক্তিগত ই-মেইলের কোন তথ্য সংরক্ষণ করেননি।

গত ১০ মার্চ জাতিসংঘের এক করিডরে সাংবাদিকরা হিলারিকে ঘিরে ধরেন। এ সময় ই-মেইল স্ক্যান্ডাল নিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য মন্তব্য করতে গিয়ে হিলারি যা বলেন, তার মোদ্দা কথা হলোÑ ‘আমাকে বিশ্বাস করতে হবে।’

হিলারি জানান, তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ই-মেইল থেকে ৬২ হাজার ৩২০টিরও বেশি ই-মেইল পেয়েছেন ও পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে ৩০ হাজার ৪৯০টিকে তাঁর পররাষ্ট্র দফতরের কাজকর্ম সম্পর্কিত বলে মনে হয়েছে এবং সেগুলো তিনি দফতরের হাতে দিয়েছেন। বাকি ৩১ হাজার ৮৩০টি মেইল তিনি ডিলিট করে দেন সেগুলো নিতান্তই ব্যক্তিগত পর্যায়ের ছিল। সাংবাদিকদের তখন প্রশ্ন ছিল। ব্যক্তিগত ই-মেইলগুলোকে তিনি তাঁর সরকারী কাজকর্ম সংক্রান্ত ই-মেইল থেকে কিভাবে আলাদা করলেন। হিলারি উত্তর দিয়েছিলেন ‘সেটা আমিই ঠিক করেছি।’

এখানেই প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম হচ্ছে এবং তা হিলারিকে সমস্যায় ফেলছে। যেসব ই-মেইল তিনি সরকারী নথিভুক্ত করার জন্য না দিয়ে মুছে ফেলেছেন সেগুলোতে কী ছিল? আগামীতে এই ই-মেইল বিতর্ক মস্ত বড় হয়ে দেখা দিতে পারে, যা হবে হিলারির অন্য অশনি সঙ্কেত।

অভিযোগ উঠেছে যে, ৫০ বছর আগে যে উচ্চাভিলাষ ও আদর্শবাদ ক্লিনটন দম্পতিকে রাজনীতিতে টেনে এনেছিল পরবর্তীকালে সে জায়গায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে ক্ষমতা ও অর্থলিপ্সা। তার একটা প্রমাণ হিসেবে বলা হয়Ñ একদা সামাজিক স্বাস্থ্য পরিচর্যার প্রবক্তা হিলারি ২০০৬ সালে স্বাস্থ্যবীমা কোম্পানি, ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলো থেকে প্রচারাভিযানের চাঁদাবাবদ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অঙ্কের অর্থপ্রাপ্ত হয়। এখন তিনি সর্বজনীন স্বাস্থ্য পরিচর্যার পক্ষে কাজ করছেন, যেখানে স্বাস্থ্যবীমার ব্যবস্থা হবে বাধ্যতামূলক। এতে প্রকারান্তরে স্বাস্থ্যবীমা শিল্পের অতি মুনাফা অর্জিত হবে।

আরও অভিযোগ আছে যে, ২০০৮ সালে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী পদের জন্য প্রচারাভিযানকালে ভোট পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় হিলারি ভীতির কৌশল প্রয়োগ করেছিলেন, যা তাঁর সেই সময়কার এ্যাডগুলোতে ফুটে উঠেছিল। ২০০০ সালে তাঁর সিনেট সদস্য পদে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে বিপুল অঙ্কের চাঁদাপ্রাপ্তি সম্পর্কে তিনি ফেডারেল নির্বাচন কমিশনে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ আছে। ২০০৯ সালে হিলারিকে বেশ কিছু কোম্পানির পক্ষে দাঁড়াতে দেখা যায়, যারা পরবর্তীকালে তাঁর স্থানীয় ফাউন্ডেশনে অর্থ যুগিয়েছিল। তাঁর নৈতিক সততা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

২০১৩ সালে লিবিয়ায় মার্কিন দূতাবাসে হামলা যে পরিস্থিতিতে ঘটেছিল সে সম্পর্কে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য হিলারি প্রচারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত ও সিআইএর হুঁশিয়ারিকে আমল দেননি। ওই হামলায় রাষ্ট্রদূত ও আরও ৩ জন নিহত হন।

২০১০ সালে উইকিলিকস প্রকাশ করে যে, সে সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারির স্বাক্ষর করা এক গোপন তারবার্তায় জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার জন্য সকল মার্কিন কূটনীতিককে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

ক্লিনটন দম্পতি নিজেদের তহবিল সংগ্রহের কাজে আমেরিকার ইতিহাসে সর্বাধিক সুদক্ষ বলে প্রমাণ করেছেন। তারা নানা ধরনের অর্থদাতা ও হিতার্র্থীদের প্রলুব্ধ করে শত শত কোটি ডলারের চাঁদা সংগ্রহ করেছেন। অভিযোগ আছে, এসব চাঁদাদাতাদের প্রতি নানাভাবে সরকারী আনুকূল্য প্রদান করা হয়েছিল। সেটা ক্লিনটন প্রেসিডেন্ট থাকাকালে এবং হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায়Ñ উভয় ক্ষেত্রেই।

অনেক কেলেঙ্কারির অভিযোগ আছে ক্লিনটন দম্পতিকে নিয়ে। আগেও অনেক অভিযোগ বহুবার বিস্ফোরন্মুখ পর্যায়ে পৌঁছেছিল এবং আশ্চর্যের বিষয় সব অভিযোগ অতিক্রম করে তারা ঠিকই উর্ধে আরোহণ করে গেছেন। এবার হিলারির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলো কি তিনি উতরে যেতে পারবেন? আগামী দিনগুলোতেই এ প্রশ্নের জবাব পাওয়া যাবে। সূত্র : টাইম