২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট পূর্বের ঘন্টায়  
Login   Register        
ADS

বোরো চাষে অনিশ্চয়তা


নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও, ২৩ মার্চ ॥ বৈদ্যুতিক সংযোগ না পাওয়ায় ঠাকুরগাঁওয়ে চালু হচ্ছে না শতাধিক গভীর নলকূপ। এ কারণে চলতি ভরা বোরো মৌসুমে চারা রোপণ, আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ও উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় কয়েক বছর আগে ঠাকুরগাঁও জেলার ৫ উপজেলায় ১০৭টি গভীর নলকূপ বসানো হয়। প্রতিটি গভীর নলকূপ চালুর জন্য বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কৃষকের কাছ থেকে লক্ষাধিক করে টাকা জামানত আদায় করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় পল্লীবিদ্যুত সমিতি ও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মধ্যে চিঠি চালাচালি আর গড়িমসিতে এখনও বৈদ্যুতিক সংযোগ পায়নি ১০১টি গভীর নলকূপ। ফলে ভরা বোরো মৌসুমে নলকূপগুলো চালু না হওয়ায় এখনও অনেক আবাদি জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এদিকে, বিদ্যুত সংযোগের অভাবে অনেকে নতুন করে শ্যালো মেশিন বসিয়ে পানি সেচ দিয়ে চারা রোপণের চেষ্টা করছেন।

কৃষকদের দাবি, এবার অনেক জমিতে দেরিতে চারা রোপণের ফলে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদনও কমে আসবে। এছাড়া খরচও বেড়ে যাবে দ্বিগুণ। একই অবস্থা জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাতেও। ওই উপজেলায় এখনও চালু হয়নি ১৮টি গভীর নলকূপ। ফলে বিপাকে পড়েছেন এখানকার অনেক কৃষক। পীরগঞ্জের ভোমরাদহ গ্রামের নতুন গভীর নলকূপের জন্য জমি দানকারী জয়ন্ত সরকার বলেন, কৃষকরা অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাবে বলে নলকূপ স্থাপনে জমি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু বিদ্যুত সংযোগ না দেয়াতে ওই সুবিধা পাচ্ছে না কৃষকরা। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি গভীর নলকূপ চালু না হওয়াতে সেখানে ১০টি শ্যালোমেশিন দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে। এতে বিঘাপ্রতি প্রায় হাজার টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।

এসব বিষয়ে ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুত সমিতির জিএম খালেকুজ্জামান জানান, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কোনো আবেদন আমাদের কাছে জমা নেই। আর যেগুলোর জন্য আবেদন এসেছিল ইতোমধ্যেই সেগুলোতে সংযোগ দেয়া হয়েছে। তবে ঠাকুরগাঁও বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুর রহমান পল্লীবিদ্যুতৎ সমিতির দাবি অস্বীকার করে বলেন, গভীর নলকূপগুলো বসানোর পরেই আমরা বিদ্যু সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তারা বিদ্যুত সংযোগ দিতে গরিমসি করছেন।