১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বরিশালে দফতর-সরঞ্জাম ছাড়াই চলছে নৌ পুলিশের কার্যক্রম


স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ গত জানুয়ারি মাস থেকে বরিশালে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ নৌ-পুলিশ। চালু করা হয়েছে বরিশাল অঞ্চল ও জোনের নিরাপত্তা কার্যক্রম কিন্তু তাদের নেই নিজস্ব দফতর, যানবাহন কিংবা সরঞ্জাম। এমনকি ৩৫ জন পুলিশ সদস্যের জন্য নেই কোন আবাসন ব্যবস্থাও। এ অবস্থার মধ্যেই নৌ-নিরাপত্তা জোরদারে মাঠে নেমেছে নৌ-পুলিশের সদস্যরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোন সরঞ্জাম ছাড়াই নৌ ও মানুষের নিরাপত্তা কতটুকু দেয়া সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে নৌ-পুলিশের বরিশাল অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ হাতেম আলী জানান, পর্যায়ক্রমে তাদের দফতর, যানবাহন ও সরঞ্জাম সবই আসবে। আপাতত ভাড়া করা সরঞ্জাম দিয়ে মানুষের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। নৌযাত্রীদের বাড়তি নিরাপত্তা দিতে গঠন করা বরিশাল নৌ-পুলিশ জোন ইতোমধ্যে বরিশাল আধুনিক নৌবন্দরের প্রবেশ দ্বারে মেটাল ডিটেকক্টর স্থাপন করেছে। নৌপথে নাশকতা এড়াতে টহল দিচ্ছেন ট্রলার নিয়ে। তবে এ সবই করা হচ্ছে ভাড়া করা সরঞ্জাম ও ট্রলার দিয়ে। এমনকি দাফতরিক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে বিআইডব্লিউটিএর একটি কক্ষে। আর ৩৫ জন পুলিশ সদস্য আশ্রয় নিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএর একটি ‘টেনজিট সেটে’ (মালামাল রাখার স্থান)।

নৌ-পুলিশের বরিশাল অঞ্চল ও জোন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে নৌ-নিরাপত্তা বৃদ্ধি করতে বাংলাদেশ নৌ-পুলিশ গঠন করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে বরিশালে যাত্রা শুরু করে নৌ-পুলিশ। বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা নিয়ে জোনাল ও বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পিরোজপুর নিয়ে আঞ্চলিক কার্যক্রম শুরু করে। এজন্য একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, একজন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপারসহ ৩৫ সদস্যকে বরিশালে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে তাদের সড়ক পথ ও নৌপথে টহলের জন্য কোন যানবাহন দেয়া হয়নি। এমনকি দফতর ও পুলিশ সদস্যদের বাসস্থানেরও কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। এ অবস্থায় বিআইডব্লিউটিএর সহোযোগিতায় একটি রুমে তারা দাফতরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়া টহল দেয়ার জন্য ভাড়া করা যানবাহন ব্যবহার করছেন তারা। আর যাত্রীদের মালামাল রাখার টেনজিট সেটে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে টেনজিট সেটে অবস্থান নেয়া এক পুলিশ সদস্য জানান, তারা খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টেনজিট সেটটির উপরে সিলিং নেই, নেই ফ্যানের ব্যবস্থা। যার কারণে গরমে তাদের কষ্ট করতে হচ্ছে। অপরদিকে বিআইডব্লিউটিএ ও নৌযান মালিকরা সংশয় প্রকাশ করে জানান, কোন সরঞ্জাম ছাড়াই নৌ-পুলিশ বরিশাল ঘাটে অবস্থান করছে। তারা কতখানি বা যাত্রীদের আদৌ নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক লঞ্চ মালিক জানান, নৌবন্দরের প্রবেশদ্বারে ভাড়া করা মেটাল ডিটেকক্টর স্থাপন করেছে নৌ-পুলিশ। এ মেটাল ডিটেকক্টরে শুধু মাত্র আগ্নেয়াস্ত্র (মেটাল) থাকলে ধরা পরবে। কিন্তু পেট্রোল বা পেট্রোলবোমা থাকলে ধরা পড়বে না। সে ক্ষেত্রে দুর্বৃত্তরা হামলা বা নাশকতা চালানোর আশঙ্কা রয়েছে। যে কারণে নৌ-পুলিশের এ নিরাপত্তা কোন কাজেই আসবে না। নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল বাসার মজুমদার জানান, বরিশালের নৌ-নিরাপত্তায় এটি জরুরী উদ্যাগ। কিন্তু নানা সঙ্কটের কারণে নৌ-পুলিশ তাদের সঠিক কার্যক্রম চালাতে পারছেন না। এ ব্যাপারে নৌ-পুলিশের বরিশাল জোনের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মোতালেব হোসেন জানান, নৌযাত্রীদের নিরাপত্তায় তাদের কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিন থেকে অদ্যবধি তারা তৎপর রয়েছেন। নিজস্ব সরঞ্জাম না থাকলেও তারা ভাড়া করা সরঞ্জাম দিয়ে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।