১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইয়েমেনি প্রেসিডেন্টকে সমর্থন


জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ রবিবার প্রেসিডেন্ট আবদরাব্বু মনসুর হাদির দেশের ঐক্যের প্রতি সর্বসম্মত সমর্থন ব্যক্ত করেছে। নিউইয়র্কে ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের জরুরী বৈঠককালে এক বিবৃতিতে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদ ইয়েমেনের ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখ-তা এবং সেদেশের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতির প্রতি জোরালো সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। পরিষদ হাদির বৈধতার প্রতিও সমর্থন জানায় এবং হুতি বলে পরিচিত শিয়া মিলিশিয়াদের প্রতি আরও অবরোধ আরোপের হুমকি প্রদান করে। খবর এএফপি, আল জাজিরা ও ওয়াল স্ট্রীট জার্নালের।

এদিকে জাতিসংঘের বিশেষ উপদেষ্টা জামাল বেনোমার কাতার থেকে ভিডিওলিঙ্কের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদে বলেন, অবিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে দেশটি আরও সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার দিকে চলে যাবে। সর্বশেষে আমি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করার জন্য এবং সকল বৈরিতা বন্ধ করে উত্তেজনা হ্রাস এবং উস্কানি ও সহিংসতার পথ থেকে সরে আসার জন্য সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। শান্তিপূর্ণ আলোচনাই হলো সামনে এগোনোর একমাত্র পথ।

আল জাজিরার গ্যাব্রিয়েল এলিজোন্দা নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতর থেকে পাঠানো প্রতিবেদনে বলেন, জাতিসংঘ কূটনীতিকের জোরালো ভাষায় দেয়া বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারিও ছিল যে, পরিস্থিতি এত গুরুতর যে কোন রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো না গেলে ইয়েমেন ইরাক-লিবিয়া-সিরিয়া ধরনের সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। নিরাপত্তা পরিষদের জরুরী বৈঠকে অস্থায়ী প্রেসিডেন্সিয়াল ভবন এবং এডেন বিমানবন্দরের ওপর হামলাসহ ইয়েমেনের হুতি চরমপন্থীদের গৃহীত একতরফা পদক্ষেপের নিন্দা জানানো হয় এবং রাজনৈতিক উত্তরণের পর্যায়কে দুর্বল করা এবং দেশের স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করে তোলার জন্য এই গোষ্ঠীকে দোষারোপ করা হয়।

সর্বসম্মতভাবে গৃহীত বিবৃতিতে হুতিদের নিরাপত্তা পরিষদের পূর্ববর্তী দাবিনামা উপেক্ষা করার নিন্দা এবং সরকারী স্থাপনাসমূহ থেকে সরে যাওয়া এবং লুণ্ঠিত অস্ত্রশস্ত্র ফেরত দেয়ার জন্য তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পরিষদ তাদের এই উদ্বেগও পুনর্ব্যক্ত করে যে ‘আল কায়েদা ইন দ্য এ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা’ সেদেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ফায়দা নিচ্ছে।

দরিদ্র কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইয়েমেনে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। হুতিরা রাজধানী সানার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে এবং হাদিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী এডেনে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। অবনতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিষদের এই জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। শুক্রবার সানার মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৪২ জন নিহত হয়। আইএস গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে। ওই ঘটনার পর ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীলতার আতঙ্কের মুখে ওয়াশিংটন তার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে প্রত্যাহার করে নেয়।

জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামান্থা পাওয়ার বলেন, ইয়েমেনের জনগণের ক্রমবর্ধমানভাবে জরুরী সহায়তার প্রয়োজন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, সকল পক্ষ অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে ইয়েমেনের রাজনৈতিক উত্তরণ ব্যবস্থায় ফিরে না গেলে ইয়েমেনী জনগণই অব্যাহতভাবে এর পরিণতি ভোগ করব। তিনি বলেন, প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ লোক যারা ইয়েমেনের জনসংখ্যার ৬১ শতাংশ তাদের ভীষণভাবে মানবিক সাহায্যের প্রয়োজন।