১৮ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

দিনাজপুরে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বাড়ছে


স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর ॥ ফসল উৎপাদনের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনাজপুর জেলা পরিবেশগত হুমকিসহ ভূকম্পের আশঙ্কার মুখে পড়েছে। ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে আনতে না পারলে অচিরেই দিনাজপুরে ভূ-প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জড়িত অভিজ্ঞজনেরা অভিমত জানিয়েছেন।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পৃথিবীর উপরিভাগের চাইতে কেন্দ্রের তাপমাত্রা প্রায় ৭০ গুণ বেশি। পৃথিবীর কেন্দ্রভাগে বেশ কয়েকটি ধাতব প্লেট রয়েছে, যা তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল। কোন কারণে পৃথিবীপৃষ্ঠের কোন স্থানে তাপমাত্রা বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই ওই এলাকার কেন্দ্রবিন্দুতেও এর প্রভাব পড়ে। এ প্রভাবের কারণে কেন্দ্রবিন্দুর ওই সব ধাতব প্লেটের প্রসারণ ঘটতে শুরু করে। কেন্দ্রবিন্দুর এ সব ধাতব প্লেটের প্রসারণজনিত কারণে যে কম্পন সৃষ্টি হয়, তা ভূগর্ভস্থ বালি মিশ্রিত পানির স্তরকে ধাক্কা দিয়ে থেমে যায়। কোন কারণে এ বালি মিশ্রিত পানির স্তর পানিশূন্য হয়ে পড়লে, ওই কম্পন পৃথিবীপৃষ্ঠকে স্পর্শ করবে।

দিনাজপুর জেলায় যে হারে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার চলছে, এতে করে এখনই বেশ কয়েকটি বালি মিশ্রিত পানির স্তর থেকে পানি শুকিয়ে গেছে। অচিরেই ভূগর্ভস্থ আরও বেশ কিছু এ ধরনের পানির স্তর থেকে পানি শুকিয়ে যাবে। যার প্রভাবে কেন্দ্রের কম্পন সহজেই উপরিভাগে উঠে আসতে পারে এবং এ কারণে এলাকায় ভূকম্পের সৃষ্টি হতে পারে বলে মত পোষণ করেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী। কৃষি বিশেষজ্ঞের মতে, দিনাজপুরে যে হারে বোরো চাষের জন্য পানি উত্তোলন করা হচ্ছে, আগামী ৫ বছরের মধ্য জেলার পরিবেশের ওপর তার বিরূপ প্রভাব পড়বে। সূত্র মতে, এ অঞ্চলে এক কেজি বোরো ধান উৎপাদন করতে ৪২শ’ লিটার পানি ব্যবহার হয়ে থাকে। যা অন্য কোন ফসলের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ধান চাষের কৃষকের অধিক আগ্রহ হ্রাস করে, পরিবেশবান্ধব ফসল উৎপাদনের দিকে কৃষককে ধাবিত করতে বিভিন্ন চেষ্টা চালানো হচ্ছে।