১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সৌরবিমানের বিশ্বভ্রমণ


বিশ্ব ভ্রমণের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে সৌর শক্তিচালিত বিমান সোলার ইমপালস-২। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি থেকে ওমানের রাজধানী মাসকাটের উদ্দেশে যাত্রার মাধ্যমে সোলার ইমপালস-২ এর বিশ্বভ্রমণ শুরু হয়।

পরবর্তী পাঁচ মাসে বিভিন্ন মহাদেশ এবং প্রশান্ত ও আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার মাধ্যমে বিশ্ব ভ্রমণ শেষ করবে বিমানটি। উড্ডয়নের সময় আন্দ্রে বোশবার্গ বিমানটির নিয়ন্ত্রণে ছিলেন। তিনি সহকর্মী বার্টার্ন্ড পিকার্ডের সঙ্গে পাইলটের দায়িত্বও পালন করবেন। পাখার ওপর রয়েছে ১৭ হাজার সোলার সেল। এসব সেল সূর্য থেকে সৌরশক্তি নিয়ে জমা রাখবে। এসব শক্তি ব্যবহার করে রাতেও উড়তে পারবে বিমানটি। একটানা বিমানটি পাঁচ দিন ও পাঁচ রাত চলতে পারবে।

কাঠামো

কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি বিমানটির ওজন মাত্র ২.৩ টন। ৭২ মিটার লম্বা ডানায় লাগানো রয়েছে ১৭,২৪৮টি সৌর বিদ্যুতের প্যানেল। সূর্যের আলো থেকেই প্রয়োজনীয় শক্তি সংগ্রহ করে বিদ্যুতে রূপান্তরিত করার কাজ করে সেগুলো। যা দিয়ে চলে তার ৪টি ইঞ্জিন। প্রায় ১০ হাজার মিটার উচ্চতায় বিমানটি উড়তে পারে ঘণ্টায় ১৩০ থেকে ১৪০ কিমি গতিতে। বিমানের সঙ্গেই এসেছে নিজস্ব হ্যাঙ্গারও। দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বিমানটি এর মধ্যে থাকলেও সূর্যের আলো থেকে শক্তি সংগ্রহ করতে অসুবিধা হয় না সৌরবিদ্যুত প্যানেলগুলোর। অথচ সরাসরি আলো না পড়ায় ক্ষতি হয় না কার্বন ফাইবারেরও।

উদ্দেশ্য

বাণিজ্যিকভাবে অপ্রচলিত শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে এই সোলার ইম্পালস বিমান। প্রকল্পটির পরিকল্পনায় রয়েছেন বার্টার্ন্ড পিকার্ড এবং আন্দ্রে বোশবার্গ। পালা করে পাইলট হিসেবে এটি চালানোর দায়িত্বেও রয়েছেন এই দু’জন। বিমানটিতে প্রযুক্তি সহায়তা দেয়ার জন্য এসেছেন ইঞ্জিনিয়ারদের আলাদা প্রতিনিধি দল। যাঁদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন সাইক্লিস্টও। এঁদের কাজ, বিমানটি নামার সময় দু’পাশ ধরে সাইকেল চালানো, যাতে কোনভাবে সেটি এক দিকে হেলে গিয়ে বিপত্তি না হয়।

পরিভ্রমণ আওতা

প্রথম পর্যায়ে সোলার ইম্পালস ওড়া শুরু করেছে আবুধাবী থেকে। ভারত হয়ে যা যাবে মিয়ানমারে। সেখান থেকে চীনের দু’টি শহর ঘুরে সেটি রওনা দেবে হাওয়াই-এর উদ্দেশে। এই সময় ৫ দিন ৫ রাত প্রশান্ত মহাসাগরের উপর দিয়ে টানা উড়বে এই বিমান। হাওয়াই থেকে আমেরিকার বিভিন্ন শহর হয়ে থামবে নিউইয়র্কে। শেষ পর্যায়ে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ফের আবুধাবীতে ফিরবে বিমানটি। সব মিলিয়ে এই পুরো সময় ৪০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা পাড়ি দেয়ার কথা রয়েছে ইম্পালস-২ এর।

বিমানটির উড্ডয়ন সফল হলে জীবাশ্ম জ্বালানীর ওপর নির্ভরশীলতা কমে নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ব্যবহার বাড়বে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সূত্র : বিবিসি, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি