১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে


জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাটে সন্ন্যাসিনী ধর্ষণ মামলার তদন্তভার ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বুধবার এক টুইটার পোস্টে এ কথা বলেন।

টুইটারে তিনি লেখেন, ঘটনা এবং গুরুত্বের কথা বিচার করে আমি রানাঘাট গণধর্ষণ মামলার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিলাম। ঘটনার পাঁচদিন পার হলেও এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে আটক করতে না পারায় মমতা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। তবে এই মামলায় পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে বলে ওই টুইটার পোস্টে দাবি করেন মমতা। খবর এএফপি, বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য ওয়েবসাইটের।

ওদিকে রানাঘাটের ঘটনাস্থল এবং ওই ৭৪ বছর বয়সী ধর্ষিত সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে বুধবার দেখা করেছেন খ্রীস্টান ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ ফ্রান্সিসের দুইজন প্রতিনিধি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং ওই সন্ন্যাসিনীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর ব্যাসিলিওস কার্ডিনাল ক্লিমিস এবং ফাদার জোসেফ চিন্নায়ন নামে এই দুই প্রতিনিধি ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ভারতের ক্যাথলিক বিশপ কনফারেন্সের প্রেসিডেন্ট ব্যাসিলিওস কার্ডিনাল ক্লিমিস রানাঘাটে সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণের শিকার সন্নাসিনী অভিযুক্তদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। তবে এ ঘটনার বিচার অবশ্যই করতে হবে, যাতে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে। আমি বুঝতে পারছি এই মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে আমি মুখ্যমন্ত্রীকে আরও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি। ওদিকে বৃদ্ধা সন্ন্যাসিনী ধর্ষণের বিচার দাবিতে বুধবার পশ্চিমবঙ্গ ও নয়াদিল্লীতে বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে পারে।

শনিবার ভোরে ধর্ষিত ৭৪ বছর বয়সী ওই সন্ন্যাসিনীর বর্তমান অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। ওদিকে রানাঘাটের এই ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার লোকসভায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে না পারায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেন বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস সাংসদরা। এদিকে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই বৃদ্ধা তাঁর পরিচিতজনদের সঙ্গে সামান্য কথা বলেছেন। তাতে তিনি জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আমার হৃদয় ভেঙ্গে গেছে। তবে তিনি আস্তে আস্তে বলেন, আমি এ ঘটনায় জড়িতদের ক্ষমা করে দিয়েছি। এ কথা শোনার পর হাসপাতালে উপস্থিতরা চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। সোমবার সন্ধ্যায় হাতপাতালে গিয়ে মমতা ওই সন্ন্যাসিনীর খোঁজখবর নেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: