২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

নিজেকে একজন কন্ঠশ্রমিক ভাবতে ভাল লাগে


যাকে শুধু এক সঙ্গীতশিল্পী বললে ভুল হবে, তিনি নিজেই একজন সঙ্গীতের প্রতিষ্ঠান। যে প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়েছিল রাজশাহীতে। তার ছোট বেলা কেটেছে রাজশাহীতেই। বাবা-মা দু’জনেই চাকরি করতেন। তিন ভাই-বোনদের মধ্যে সে সবার ছোট। এ্যান্ড্রু কিশোর ছোট বেলা নিয়ে বলেন, আমার বড়বোন যখন গান শিখতেন, তখন আমি পাশে বসে থাকতাম। তিনি খুব ভাল গান করতেন। এক সময় আমার বড়বোনকে রাজশাহী থেকে বরিশাল মিশন স্কুলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তখন আপার ওস্তাদ মাকে বলেন, মেয়েটা খুব ভাল গান গাইতো। তারপর মা আমার ওস্তাদ আব্দুল আজিজ বাচ্চুকে বলেন, এ্যান্ড্রুর তো গানের প্রতি আগ্রহ আছে আপনি তাকে শিখাতে পারেন। তারপর একদিন বাবা আমাকে ‘সুরবাণী সঙ্গীত বিদ্যালয়ে’ ভর্তি করে দেন। তখন থেকেই গান শেখা শুরু। আমার একমাত্র গানের ওস্তাদ আব্দুল আজিজ বাচ্চু। তার কাছেই আমার গানের হাতে খড়ি হয়েছিল। রাজশাহী থেকে ঢাকায় এসে সিনেমায় প্লেব্যাক শুরু করার গল্পটা শুনতে চাই, তখন এ্যান্ড্রুদা বলেন, ‘আমার গানের ক্লাসের এক সিনিয়র ছাত্র এএইচএম রফিক ওনার মাধ্যমে আমি ঢাকায় আসি এবং তার সহযোগিতায় প্রথম সিনেমায় প্লেব্যাক করি দেবু ভট্টাচার্যের সঙ্গীত পরিচালনায়।

এরপর গানটি করে আমি রাজশাহী চলে যাই। আবার তিন মাস পর ঢাকায় এসে বরেণ্য সঙ্গীত পরিচালক আলম খানের সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় সিনেমায় গান গাই। এখন থেকে পরিচালক এজে মিন্টুর পরিচালনায় ‘এক চোর যায় চলে এ মন চুরি’ গানটি ব্যাপক আলোচনায় আসে। আমার আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি।’ বর্তমানে কি নিয়ে ব্যস্ত আছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে এ্যান্ডু কিশোর বলেন, ‘আমার জীবন-যাপন খুব সারাধণ, আমার মন মানসিকতাও খুব সাধারণ। সাধারণ মানুষের মতো থাকতেই আমি পছন্দ করি। মূলত আমার ক্যারিয়ার ছিল সিনেমার গান। এখন সময় পরিবর্তন হয়েছে। সিনেমার ধরন পরিবর্তন হয়েছে। তাই আগে যেখানে মাসে ৫০ থেকে ৬০টি সিনেমার গান গাইতাম। এখন মাসে ৪ থেকে ৫টি । সিনেমার গান নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকার কারণে স্টেজ শোগুলোতে সময় দেয়া হতো না। এখন স্টেজ শোগুলো নিয়ে একটু ব্যস্ত আছি। অডিওতে আগের মতো নিয়ম করে বছরে একটি বা দুটি এ্যালবাম করতে হবে, এখন এমনটা আর নেই, তাই কেউ যদি মনে করে কোন এ্যালবামে এক, দুটি গান গাইলে ভাল হবে। সেখানে এক দুটি গান করি।’ একটা সময় গান নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলেন এখন গানের ব্যবস্থা অনেকটা কম এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন, ‘আমি মনে করি সবকিছুর চাহিদা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়। আমি সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আমার জীবনে শ্রেষ্ঠ সময়টা পার করে ফেলেছি। আমি পরিবর্তনকে সাধুবাদ জানাই। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একটা নতুন ধারা আসবে এটাই স¦াভাবিক। এখন অনেকে বলেন, সত্তর-আশি দশকের মতো গান হচ্ছে না এ বিষয়ে আপনি কি বলবেন, আসলে সত্তর-আশির দশকের মতো গান হচ্ছে না আমি তা বলব না। তবে আগের চেয়ে এখন মানুষ বেশি গান শুনছে এবং প্রচার মাধ্যমটাও বেরেছে। আমি যেটা বলব, আগে একটা গান তৈরি করতে দশ, পনেরো দিন লেগে যেত, শিল্পী-গীতিকার-সুরকারের সঙ্গে বসে কাজ করা হতো, এখন মনে হয় এ বিষয়টা কম দেখা যায়। আমাদের দেশের রিয়েলিটি শোগুলো কেমন হচ্ছে বলে আপনার ধারণা, এখন রিয়েলিটি শোগুলো ভাল হচ্ছে। তবে পুরোপুরি ব্যবসায়িক স্বার্থ চিন্তা করলে অংশগ্রহণকারীদের জন্য তেমন সুফল বয়ে আনবে না।’

নতুন যারা সঙ্গীতে আসতে চায় তাদের উদ্দেশ্যে কি বলবেন, আমাদের দেশের নতুনরা যারা সঙ্গীতের সঙ্গে কাজ করতে চায় তাদের আমি সাধুবাদ জানাব। তবে আমি বলতে চাই গান যাকে টানে ,যার গানের প্রতি সবটুকু ভাল লাগা তাদের গানে আসা উচিত। পাশাপাশি যদি ভাল শিল্পী হতে চায়, তাহলে শিখতে হবে।

জেনে-বুঝে কাজ করতে হবে। ভাল কিছু করার জন্য সময় নিয়ে শিখতে ও সাধনা করতে হবে। আপনার দীর্ঘ সঙ্গীত ক্যারিয়ারকে কিভাবে মূল্যয়ান করেন, ‘আমার দীর্ঘ সঙ্গীত ক্যারিয়ারে আমি সবকিছু পেয়েছি। কয়েকবার জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার পেয়েছি। এছাড়া দেশ-বিদেশের অনেক পুরস্কার পেয়েছি। আর একটা পুরস্কার পেয়েছি যেটার সমান কিছুই হতে পারে না সেটা লক্ষ শ্রোতার ভালবাসা। শ্রোতাদের ভালবাসার চেয়ে বড় পুরস্কার আর কি হতে পারে।’