২১ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইরানের শক্তি বৃদ্ধিতে সৌদি আরব উদ্বিগ্ন


ইরানের সামরিক অগ্রগতি সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ভীতিভাবের সঞ্চার করেছে। আরবরা মনে করে, বাগদাদ, দামেস্ক, বৈরুত ও সানা কার্যত ইরানেরই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে ইরানের শক্তি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষী দলের (আইআরজিসি) কমান্ডাররা সম্প্রতি দিনরাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তাদের কৃতিত্ব জাহির করছেন এবং শক্তি দেখাচ্ছেন। একই সময়ে তাদের দেশের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভবত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বুধবার আইআরজিসির সবচেয়ে সিনিয়র অফিসার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জাফারি সেই মনোভাবই প্রকাশ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, ইসলামী বিপ্লব ভালভাবেই এগিয়ে চলছে, বিপ্লবের ভাবনার উত্তরোত্তর বিস্তার লাভই এর দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রভাবশালী ভূমিকা কেবল ফিলিস্তিন ও লেবাননই স্বীকার করছে না, ইরাক ও সিরিয়ার জনগণও তা করছে। তারা ইরানী জাতির প্রশংসা করছে। গত মাসে আইআরজিসির চৌকস অংশ কুদস বাহিনীর নেতা জেনারেল কাসেম সুলেইমানিও অনুরূপ গর্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদী ও ইহুদিবাদীরা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ও প্রতিরোধ আন্দোলনের কাছে পরাজিত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। সুন্নী জিহাদী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে ইরাকী শিয়া মিলিশিয়াদের পাল্টা হামলায় তার নেতৃত্ব দেয়ার ছবি নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। দক্ষিণ সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত পশ্চিমা ও আরব সমর্থিত বিদ্রোহীদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রেও নেতৃত্ব দিতে তাকে দেখা যায়। ইরানের সামরিক অগ্রগতি সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলে আশঙ্কার সঞ্চার করছে।

ঐ অঞ্চলে শাহের আমল থেকেই ইরান এক সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে রয়েছে। এখন আশঙ্কার সঙ্গে বলা হচ্ছে, ইরানই কার্যত চারটি আরব রাজধানী বাগদাদ, দামেস্ক ও বৈরুত এবং গত মাসে ইয়েমেনের রাজধানী সানা কার্যত নিয়ন্ত্রণ করছে। ইয়েমেন সৌদি আরবের প্রতিবেশী। ইরানের আঞ্চলিক অবস্থানের অবশ্যই উন্নতি ঘটেছে। ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানের অগ্রণী ভূমিকা, ইরানের লেবাননী মিত্র হিজবুল্লাহর সহায়তা নিয়ে সিরিয়ায় আসাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং ইয়েমেনে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষমতা দখল এসব কিছুই সৌদিদের মনে গভীর অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে।