২২ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

শব্দ দূষণ


আশঙ্কাজনকভাবে কমে আসছে মানুষের শ্রবণশক্তির ক্ষমতা। যেন ভয়ানক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ। উচ্চ ভলিউমে গান শোনা, নিয়মিত মোবাইলের হেডফোন ব্যবহার, কানে আঘাত, গাড়ির হর্ন, মাইক বাজানোসহ মিছিল-মিটিংয়ের নামে মাইক্রোফোনের যথেচ্ছ ব্যবহারে সৃষ্ট শব্দ দূষণে মানুষ কানে কম শুনছে। বৃদ্ধ এবং শিশুদেরই এই ক্ষেত্রে আক্রান্তের হার বেশি। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের দেশের ৩৬ শতাংশ মানুষ কোন না কোনভাবে কানে কম শোনে। এদের মধ্যে ৯ শতাংশ মানুষ একদম বধির। যাদের হেয়ারিং ইমপ্লান্ট ছাড়া স্বাভাবিক জীবনযাপন প্রায় সম্ভব নয়। এর মধ্যে ৭ শতাংশ মানুষ বয়সজনিত কারণে কানে কম শোনে। তবে পঞ্চাশোর্ধ মানুষের প্রায় সবাই কোন না কোনভাবে কানে কম শোনেন। সব ক্ষেত্রে উচ্চশব্দ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এটি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। জানা গেছে, একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে হঠাৎ করে মোবাইল এবং হেডফোনে কথা বলার প্রবণতা বাড়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে বধিরতার সংখ্যাও। প্রতিদিন তরুণ-তরুণীরা বেশি বেশি করে মোবাইল ব্যবহার করছে। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কানে মোবাইল নিয়ে কথা বলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহজলভ্য এই মাধ্যমটি এভাবে ব্যবহার করে মূলত তারা নিজের শ্রবণশক্তিকে ক্ষতি করে চলেছেন। এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে অল্প সময়ে দেশের বেশিরভাগ মানুষ বধির হয়ে যেতে পারে বলে চিকিৎসকদের ধারণা। তাই এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়াসহ সবাই সচেতন হওয়া জরুরী।

শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবমতে, সারা বিশ্বে ৩৬ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের বধিরতায় ভুগছেন। শতকরা হিসাবে এর সংখ্যা ৫ দশমিক ৩ ভাগ। এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরে পৃথিবীর অন্তত ১১০ কোটি মানুষের বধির হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আশার কথা, যথাযথ সময়ে চিকিৎসা সুবিধা পেলে উল্লেখিত পরিসংখ্যানের অর্ধেক মানুষের বধিরতা দূর করা সম্ভব। গবেষণায় দেখা যায়, একজন মানুষ প্রতিদিন ১ ঘণ্টা হেডফোন ব্যবহার করে কথা বললে ৮ বছর পর কানের ৫০ শতাংশ কার্যকারিতা হ্রাস পায়। তাই ইউরোপের বিভিন্ন রাষ্ট্রে বধিরতা হ্রাসকল্পে পঞ্চাশোর্ধ এবং ১০ বছরের নিচের শিশুদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে পৃথিবীতে ভোরে সূর্য ওঠে ঠিকই, কিন্তু শোনা যায় না পাখির ডাক, পর্যটন কেন্দ্রে ভিড় জমান টুরিস্টরা, কিন্তু শোনা যায় না ঝর্ণার কলকল শব্দ, এ যেন এক ভয়াবহ অবস্থা!

একথা সত্য যে, যন্ত্রসভ্যতার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম শব্দের প্রচলন বহুগুণে বেড়ে গেছে। এই শব্দের সঙ্গে প্রতিদিন বহু মানুষকে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে হয়। হু-এর বিজ্ঞানীদের দাবি, যাদের এই অবস্থার সঙ্গে নিত্যবাস তাদের কানের অবস্থা বেশিদিন ভাল থাকার সুযোগ নেই। তাই শব্দ দূষণ থেকে যতদূর সম্ভব দূরে থাকা এবং প্রকৃতির আশ্রয় গ্রহণ জরুরী। শব্দ দূষণের ফলে মানুষের কর্মক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এই ক্ষেত্রে নিজেদের সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শব্দ দূষণ রোধ তথা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এই প্রত্যাশা সবার।