১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৫ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সিডনির মেলব্যাগ ॥ উগ্রবাদ ও জঙ্গীপ্রবণতা


দুনিয়া জুড়ে বাঙালীর চেতনা ও মূলসত্তা ধরে ঝাঁকি দিয়ে গেছে অভিজিত। অভিজিত যে সব হত্যার ধারাবাহিকতা সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দুটো বিষয় পরিষ্কার, একের পর এক বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- আর বিএনপি বা আধুনিক সুশীলদের পরোক্ষ মদদ ও সমর্থনেই এগুলো ঘটছে, ঘটতে পারছে। ঘরের মানুষকে ধোঁয়াশা বা অন্ধকারে রাখতে পারলেও মুক্ত চিন্তার পৃথিবীকে মিথ্যা দিয়ে বশীভূত রাখার দিন শেষ।

ধর্মের নামে উন্মাদনার শিকার সেই লোকটির কারণে গর্ভবতী রমণী ও ক্যাফে ম্যানেজারকে প্রাণ হারাতে হয়েছিল, গুলির মুখে, বলাবাহুল্য জঙ্গীও বাঁচেনি। কিন্তু এই ক্যাফেকে দিয়ে গেছে আজীবন সম্ভবত। অনন্তকাল বেঁচে থাকার প্রেরণা বা উৎসব হবার অমরত্ব। বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম, তরুণ-তরুণীরা অভিজিতের জন্য চমৎকার, আশা জাগানিয়া উদ্দীপক বাণী লিখে এনেছে।

কেউ ব্যানারে কেউ বা পোস্টারে, কারও বুকে লেখা ছিল- আমাকে মারলেও আদর্শ মরবে না, কারও হাতে ধরা কলম চলবে, কেউ লিখেছিলেন অভিজিতের মৃত্যু নেই। আমি ভাবছিলাম, প্রকৃতির লীলাও বোঝা দায়! সেদিনটিতে সকাল থেকে রোদ থাকার পরও বিকেল ছিল মেঘলা। মেঘলা অপরাহ্ন যখন সন্ধ্যার পদপ্রান্তে তখন ঘোর না হলেও ঘন হয়ে আসছিল অন্ধকার। মেঘময় সন্ধ্যায় আমরা যখন প্রতিজ্ঞা ও শপথে অভিজিতকে স্মরণ করছিলাম, দু’এক ফোঁটা বৃষ্টিও ঝরে পড়েছিল মাথার ওপর।

সবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছি নিতান্ত মূর্খদের সামাজিক নেটওয়ার্কে লাফালাফি দেখে। অজ্ঞাত কারণে এরা নিজ সম্প্রদায় ও প্রগতিশীল সংখ্যাগুরুর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে, এটা মানা যায় না। এদের কথা বা এ্যাকশনে দেশ ও সমাজের কোন লাভ ক্ষতি নেই। কিন্তু এই যে বুদ্বুদ এই যে তর্কের ফেনা ডান-বামের নামে বিভক্তি এটাই ভয়ঙ্কর। সম্পাদিত ও অসম্পাদিত মিডিয়ার তফাতও এখানেই। মাথার ওপর তোয়াব খান, রাহাত খান বা প্রয়াত সন্তোষ গুপ্ত, বজলুর রহমানরা আছেন ও ছিলেন বলেই পরিমিতিবোধ শিখেছি। আন এডিটেড ফেইস বুকে তা নেই। যে বিষয়টি গভীর বেদনার, রক্ত, হত্যা, অপমৃত্যুও আমাদের ব্যথিত করছে না। জানি না কবে থেকে এই জাতীয় পচনের শুরু। ডিজিটাল বা আধুনিকতার কথা বললেও আসলে এক অন্ধ সময়ে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। এখন আর কাউকেই বিশ্বাস করা যাব না। অবিশ্বাস আর সন্দেহের কোপানলে পড়ে অভিজিত রায়ের মৃত্যুও যদি ক্ষুদ্র হয়ে পড়ে, আমাদের আশা কোনদিন শেষ হবে না। আমি বিদেশী মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাঙালীদের বরং স্যালুট জানাই। এখানে যারা এসব হত্যাকা- বা জঙ্গীবাদের প্রজন্ম সমর্থক তারা মুখ খুলতে পারে না। গণতন্ত্রে অবাধ্য, অসভ্য আর উস্কানির নাম জঙ্গীবাদ এবং এ জন্য যথাযোগ্য শাস্তির বিধান আছে বলেই সভ্য সমাজ এখনও নিরাপদ।

বাংলাদেশের মতো মুক্ত চিন্তার নামে অবাধ মিথ্যা বা যা খুশী বলার প্রবণতা নেই। ফলে এর নিরোধ প্রয়োজন, দেশবিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও যে কোন হত্যাকা-ের সমর্থনে বলা বা লেখার শাস্তি নিশ্চিত না করলে কোনদিনও ঘুরে দাঁড়াতে পারব না আমরা।

dasguptaajoy@hotmail.com